নিজস্ব
প্রতিবেদক : প্রকাশকদের একটি অংশের আপত্তি থাকলেও ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই
শুরু হবে অমর একুশে বইমেলা। এ অবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকদের স্টল ভাড়া
৫৫% মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে প্রকাশকদের
সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
'পাঠকশূন্যতার
আশঙ্কা', 'মানবিক বিপর্যয়' এবং 'অর্থনৈতিক ঝুঁকির' কারণ দেখিয়ে আগামী ২০
ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় বইমেলায় অংশ না নেওয়ার কথা দুদিন আগে এক যৌথ
বিবৃতিতে জানিয়েছিল ৩২১টি প্রকাশনা সংস্থা।
তাদের ভাষ্য ছিল, "২০২৬
সালের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী বাস্তবতা ও পবিত্র রমজান মাসের কারণে
ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা আয়োজিত হলে ব্যবসায়িক ও মানবিক ঝুঁকি নিয়ে তাতে
অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।"
তবে ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা হলে
তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার পাশাপাশি মেলা সফল করতে কর্তৃপক্ষকে
সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি ওই যৌথ বিবৃতিতে দেওয়া হয়।
এমন
পরিস্থিতিতে প্রকাশকদের নিয়ে বইমেলা পরিচালনা কমিটি মঙ্গলবার জরুরি সভায়
বসে। একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি
উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর
রহমান, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ পরিচালনা কমিটির
সদস্য-সচিব এবং পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য মতবিনিময় সভায় উপস্থিত
ছিলেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা প্রকাশনা-শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি পেশ করেন।
সংস্কৃতি
উপদেষ্টা গ্রন্থনীতি প্রণয়নসহ অধিকাংশ দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে এ
বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পেশ করার আহ্বান জানান।
বাংলা
একাডেমির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু
হতে যাওয়া বইমেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকাশকদের স্টল ভাড়া সরকারের পক্ষ
থেকে ৫৫% মওকুফের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা।
বইমেলা
পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বলেন, "ইতোমধ্যে যেসকল প্রকাশক স্টল
ভাড়ার টাকা একাডেমিতে জমা দিয়েছেন তাদের জমাকৃত অতিরিক্ত টাকা বইমেলা
কর্তৃপক্ষ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। যারা এখনো টাকা জমা দেননি, তারা
নবনির্ধারিত হারে সরাসরি টাকা জমা দিতে পারবেন।"
