নিজস্ব
প্রতিবেদক।। মঙ্গলবার সকালেই শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
প্রচার-প্রচারণা, আর সেই শেষ লগ্নে এসে কুমিল্লাজুড়ে নির্বাচনী মাঠ যেন
রীতিমতো উৎসবমুখর ও জমজমাট। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ব্যস্ত
সময় পার করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বস্ব আসনের
প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে। কোথাও পথসভা, নির্বাচনী জনসভা, কোথাও উঠান বৈঠক,
আবার কোথাও গণসংযোগে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন সাধারণ মানুষের
সামনে। শহর থেকে গ্রাম, হাট-বাজার থেকে পাড়া-মহল্লা সবখানেই আলোচনার
কেন্দ্রে নির্বাচন। কুমিল্লার মোট এগারোটি সংসদীয় আসনেই প্রায় একই চিত্র
দেখা যাচ্ছে। বড় দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন জোট এবং স্বতন্ত্র
প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মাঠে নামিয়েছেন
সর্বোচ্চ শক্তি। জেলার এগারোটি আসনে মোট ৮৬ জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে নির্বাচনী উত্তাপ ও কৌতূহল দুটোই বেড়েছে
বহুগুণ। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন,
শিক্ষা-স্বাস্থ্য সেবাসহ নাগরিকদের মৌলিক অধিক প্রতিষ্ঠা, সুশাসন ও নিরাপদ
সমাজ গঠনের নানা আশ্বাস নিয়ে। অনেক এলাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণে
স্বতঃস্ফূর্ততা দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও রাজনৈতিক সমীকরণ ও শেষ
মুহূর্তের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে চুল ছেড়া আলোচনা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি
ভোটগ্রহণের দিনে কুমিল্লা জেলার ১৪৯১টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় অর্ধকোটি ভোটার
তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভোটেই নির্ধারিত
হবে কে হবেন তাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। ভোটারদের মধ্যে তরুণ ভোটারদের
উপস্থিতি নিয়ে রয়েছে আলাদা আগ্রহ, কারণ তারাই অনেক ক্ষেত্রে জয়ের ব্যবধান
গড়ে দিতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনী পরিবেশ
সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠে শুরু থেকেই সরব রয়েছে আইনশৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী। র্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি
সেনাবাহিনীও নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে
চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি, টহল ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছে যাতে
ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা
অনিয়মের সুযোগ দেওয়া হবে না এবং ভোটারদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান
অগ্রাধিকার। ভোটারদের মধ্যেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্বস্তির ভাব দেখা
যাচ্ছে। এদিকে ভোটের দিনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে
সোমবার কুমিল্লার এগারোটি সংসদীয় আসনের আওতাধীন জেলার ১৭টি উপজেলায় স্ব স্ব
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। জেলা
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাঠানো এসব ব্যালট পেপার ও অন্যান্য
নির্বাচনী সামগ্রী আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি জেলার ১৪৯১টি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে
দেওয়া হবে। যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
করা যায়। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা
হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা।
কুমিল্লা জেলা
সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, জেলায় অর্ধকোটি
ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে পোস্টাল ব্যালট ১ লাখ ১১ হাজারের মত। প্রতি আসনের
ভোটারের জন্য ব্যালট পেপার স্ব স্ব উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ৮৬
জন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ন হবে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ
আনিসুজ্জামান বলেন, আমরা কোন আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছিনা। তবে অতি
গুরুত্বপূর্ণ যেসব আসনগুলো, সেগুলোতে গুরুত্ব বুঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
মোতায়েন থাকবে। গত ২২ জানুয়ারি থেকেই কুমিল্লার ১৪৯১ টি ভোটকেন্দ্রে
সুরক্ষার বিষয়ে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীরসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী
কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো রয়েছে।
কুমিল্লা জেলা
রিদানিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান বলেন, ব্যালট পেপার পরিবহন ও সংরক্ষণে
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ শেষ পর্যন্ত প্রতিটি
ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা থাকবে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না
ঘটে সে বিষয়ে সেনা,পুলিশ,র্যাব ও বিজিবি সম্মানিতভাবে কাজ করছেন। তারা
ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য কোন ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
