নিজস্ব প্রতিবেদক: 'যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’- এমন বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ায় সমালোচনা তৈরীর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই কুমিল্লা- ৪ আসন থেকে মনোনয়নের বৈধতা হারানো বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে।
বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠনবিরোধী বক্তব্য ও কার্যকলাপের কারণে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী (বহিস্কৃত) কে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’- এমন বক্তব্য দিচ্ছেন বলে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে প্রার্থিতা হারানো বিএনপির মনোনীত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আসনটিতে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি। জসিম উদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত একটি উঠান বৈঠকে এমন মন্তব্য করেছেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। এরই মধ্যে এমন বক্তব্য নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক ও সমালোচনা।
পরে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দাবি করেন, 'ওই ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো ভিডিও। আমি কেন আমার ইউনিয়নের মানুষের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দিবো? অন্য ইউনিয়ন হলে না হয় সে কথা মানানসই হত, আমার ইউনিয়নের মানুষকে কেন আমি ভয় দেখাবো।'
এর ই মধ্যে বুধবার তার বহিষ্কারাদেশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি- বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রচারিত হয়। এছাড়া মঞ্জুরুল মুন্সী বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এএফএম তারেক মুন্সী।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে নির্বাচনের জন্য বৈধতা পান কুমিল্লা -৪ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনজুরুল আহসান মুন্সী। সে আসন থেকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত এন সি পি নেতা হাসনাত আব্দুল্লার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করার কারণে মনজুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্রের বৈধতা বাতিল হয়। তিনি বৈধতা ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েও কোন পরিবর্তিত ফল পাননি।
