
১২
ফেব্রুয়ারি সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ পর ভোট গণনা শেষ না
হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে না যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা
বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি কাজী নাছিমুল হক নাছিম।
গতকাল রবিবার (৮
ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার হাই স্কুল মাঠে বিএনপির
প্রার্থী কামরুল হুদার পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ
আহবান জানান তিনি।
কাজী নাছিম বলেন , ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে নির্বাচন
হয়েছে; দেখেছেন খালি বাক্স দেখিয়ে পরে ফোন বের করে অনেক কিছু বের করেছে।
এবার ওরা ভোটকেন্দ্রেও তাই করবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যা বলেছেন,
আপনারা তাহাজ্জুদ নামাজ পরে কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজর নামাজ পড়বেন।
কেন্দ্রের দিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দৃষ্টি দিয়ে রাখবেন। ভোট গণনা শেষ না
করা পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না। কেন্দ্র পাহাড়া দিয়ে রাখবেন।
তিনি
বলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি সময়োপযোগী ও জনবান্ধব নির্বাচনী
ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এতে মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য
কৃষক কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ
বাস্তব সুবিধা পাবেন।
তিনি বলেন, একটি দলের আমির হুমকি দিয়ে বলেছেন,
আমরা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে গেলে তারা লাল কার্ড দেখাবেন এবং কাজ করতে
দেবেন না। অথচ তারাই আবার বলে, আমরা একসাথে গড়বো দেশ। তাদের এসব বক্তব্য
সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দ্বিচারিতাপূর্ণ।
সমাবেশে চৌদ্দগ্রাম আসনে বিএনপির
মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, চৌদ্দগ্রামে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করার
সুযোগ নেই। এখানে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা হবে না। চৌদ্দগ্রামবাসী আজ
ঐক্যবদ্ধ। এখানে দল-মত নির্বিশেষে ধানের শীষই সর্বদলীয় প্রার্থী।
উজিরপুর
ইউনিয়নে আয়োজিত মিয়ার বাজার স্কুল মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা
বলেন। কামরুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, এই আসনে একজন প্রার্থী রয়েছেন যার
নিজের ওপরই আস্থা নেই। তিনি একজন হাইব্রিড নেতা এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট
জিয়াউর রহমানের নামে পরিচিত ওলি আহমদকে সামনে রেখে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা
চালাচ্ছেন। অথচ ওলি আহমদ নিজেই বিভিন্ন সময়ে বলেছেন জিয়াউর রহমানই
স্বাধীনতার ঘোষক।
তিনি আরও বলেন, কর্নেল অলি নিজ লেখনীতেই উল্লেখ করেছেন
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের সময় তিনি ভীত ছিলেন, চারদিক থেকে পাঞ্জাবি
বাহিনী ঘিরে ফেলেছে ভেবে আতঙ্কিত হয়েছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান তখন ভীত
হননি। ইতিহাস বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কামরুল
হুদা বলেন, একটি মহল আমাদের নেতা-কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। মনে
রাখতে হবে, ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ২০০১ সালে আমরা ভুল করেছি, এবার আর সেই
ভুল করতে চাই না। যিনি এখানে প্রার্থী হয়েছেন, তার বাড়ি চৌদ্দগ্রামে নয়,
পাশের উপজেলা ফেনীতে। বিএস খতিয়ান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
উজিরপুর
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য
রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ চৌধুরী
পাশা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সলিমুল্লা টিপু, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি শাহ
আলম, জাতীয় পার্টির নেতা হাজী আলী আশ্রাফ, জেলা যুবদল নেতা হামিদ উদ্দিন
সুমন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আনোয়ার হোসেন, জেলা যুবদলের
সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, জাতীয় পার্টির এমপি প্রার্থী ডা.
মাইন উদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল
উদ্দিন মামুন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, উপজেলা ছাত্রদলের
সভাপতি ফখরুল হাসান, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নুর নবী ও যুবদল নেতা বিল্লাল।
