শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৫ মাঘ ১৪৩২
জনদুর্ভোগ দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৪ এএম |

জনদুর্ভোগ দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন
দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর মূল্য নিয়ন্ত্রণের যে আশার কথা শুনিয়েছিল, দেড় বছরেই তা উবে গেছে। মানুষের সহ্যক্ষমতা শেষসীমায় পৌঁছে যাচ্ছে। মানুষ এটা নিতে পারছে না। 
কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে বেশি মূল্যে কিনে মানুষ সেই সংকট মোকাবিলা করার পথ খুঁজে নেয়, যদিও সেই পথ মানুষকে অবর্ণনীয় চাপে ফেলে। কিন্তু কোনো পণ্য যদি বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়, টাকা দিয়েও না মেলে, তার কোনো সমাধান নেই। মানুষের জীবন তখন একেবারে তছনছ হয়ে যায়। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস-এলপিজির ক্ষেত্রে ঠিক এরকম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সরকার এর সমাধান করতে পারছে না। পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ, খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেই চিত্র উঠে এসেছে।
এলপিজি একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চুলায় আগুন না জ্বললে রান্নাবান্না করা যায় না। রান্নার কোনো বিকল্পও নেই। পরিস্থিতি এখন এমন যে, এই এলপিজি গ্যাস মিলছে না, মিললেও দাম আকাশচুম্বী। এলপিজির অভাবে বহু পরিবারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত ডিসেম্বর থেকে চলছে এই অবস্থা।
এলপিজি গ্যাস কোম্পানির একটা সংগঠন আছে অপারেটরস অব বাংলাদেশ এর (লোয়াব)। সরকারের আছে একটা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা– বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। কোম্পানিগুলো এলপিজি আমদানি করে আর বিইআরসি আমদানির পরিমাণ ও দাম নির্ধারণ করে দেয়। বাজার ব্যবস্থাপনায়, অর্থাৎ বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভোক্তা অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সহায়তা করে। বাস্তবে খুব ভালোভাবেই এর আমদানি ও বিপণন হওয়ার কথা। ভোক্তাদের ভোগান্তির কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু অন্য অনেক পণ্যের মতো এলপিজিতেও চলছে চরম নৈরাজ্য। 
বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে এলপিজির চাহিদা ১৬-১৭ লাখ টন। দিনে কমবেশি ৫ হাজার টন এলপিজি লাগে। গেল জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। সরকার এই দাম ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। কিন্তু এই দামে তো দূরের কথা, দ্বিগুণ-তিনগুণ দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। কখনো কখনো বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়, অর্থাৎ টাকা দিয়েও মিলছে না এই পণ্য। ডিসেম্বর থেকে টানা সংকট চলছে। নির্বাচনি ডামাডোলে ভোক্তাদের অপ্রাপ্তিজনিত আহাজারি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার নেই।
পত্রিকান্তরে প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীতে আড়াই হাজার টাকার কমে মিলছে না ১২ কেজির সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার টাকায়। যারা এই সিলিন্ডার সরবরাহ করে সেই কোম্পানিগুলো বলছে, চাহিদার তুলনায় বাজারে সংকট আছে ২০ শতাংশের মতো। এ জন্য এত দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। অন্যদিকে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন সরবরাহ কম। 
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হয় সরবরাহের ঘাটতি থাকলে, কিন্তু আমদানিকারকরা বলেছেন ২০ শতাংশ ঘাটতির জন্য দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ার কথা নয়। তারা বলছেন, অসাধু ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বেশি দাম আদায় করছেন। এলপিজি গ্যাসের দাম নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একে অন্যের ওপর দায় চাপাচ্ছে। সাধারণ ভোক্তাদের চিড়েচ্যাপ্টা অবস্থা।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে আমাদের প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, ভোক্তারা এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ। তারা এর স্বাভাবিক প্রাপ্তি এবং ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সড়কে বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।
জ্বালানি উপদেষ্টা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এলপিজির টানা সংকটের কারণে তার ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নের মুখে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এই মন্ত্রণালয়ের অধীনেই কাজ করে। এই প্রতিষ্ঠানটি এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারেনি।
আমদানিকারকরা যে ঘাটতির কথা বলছেন, তা কেন হতে দেওয়া হলো, এই প্রশ্ন সবাই করছেন। তাদের কাজটা আসলে কি? ভোক্তা অধিদপ্তরসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও তৎপরতা নেই। বিইআরসি থেকে এ ব্যাপারে ফলপ্রসূ উদ্যোগ নেওয়া যেত।
কোনো পণ্য নিয়ে জনদুর্ভোগ কখনই কাম্য নয়। জনদুর্ভোগ থেকে জনরোষের সৃষ্টি হয়। এলপিজির সংকট দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাই এগিয়ে আসতে হবে।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
ঘাঁটি পুনরুদ্ধারের লড়াই বিএনপির দৃঢ় অবস্থানে জামায়াত-এনসিপি
জিয়াউর রহমানের আদর্শের বিএনপি এখন আর নাই
দি কাজী ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে কুমিল্লায় ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সনাতনী সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- মনিরচৌধুরী
বরুড়ায় বিএনপি প্রার্থীর উঠান বৈঠক-পথসভা
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
হাসনাতের আসনে গণঅধিকারের জসিম উদ্দিনকে বিএনপির সমর্থন
লাশ পোড়ানোর মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
আপনারা জানেনও না, নীরবে বিপ্লব ঘটে গিয়েছে
৩০০ টাকার ঘুষের ভিডিও প্রচার না করতে ২৯ হাজার টাকা প্রদান
কুমিল্লায় বাসচাপায় আহত ছাত্রীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২