জুলাই
গণঅভ্যুত্থানকালে সাভারের আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য
(এমপি) সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল-২। এ ছাড়া সাতজনের যাবজ্জীবন দণ্ড এবং আরও দুজনকে সাত বছর করে
কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ক্ষমা করা হয়েছে একজনকে।
বৃহস্পতিবার (৫
ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ
রায় ঘোষণা করেন।
প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত
অন্যান্য আসামিরা হলেন-আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ
এফ এম সায়েদ, থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সহকারী
উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা, কনস্টেবল মুকুল চোকদার ও যুবলীগ কর্মী
রনি ভূঁইয়া।
যাবজ্জীবন দণ্ডিতরা হলেন-ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি ও
কুমিল্লার সাবেক পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ
সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের সাবেক
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ
সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, পরিদর্শক নির্মল
কুমার দাস ও ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত
হোসেন।
মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত
পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক
আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই
শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
পলাতক আট আসামি হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের
সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল
ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন
ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর
রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই
বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া।
মামলার বিবরণে
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান
ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ
ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। পেট্রল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা
হয়।
এ ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। মামলায় ২০২৫ সালের ১৫
সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি। মোট ২২
কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।
এরপর
আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন আসামি আরাফাত হোসেন। গত ১৪ জানুয়ারি
প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। আসামিপক্ষসহ প্রসিকিউশনের
যুক্তি পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ হয় ২০ জানুয়ারি।
