
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার চলছে। প্রার্থীরা একে অপরকে নিশানা করে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করছেন। কখনো একে অপরের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে তির্যক ভাষায় আক্রমণ করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোটারদের স্বার্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বেশির ভাগ প্রার্থী বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারছেন না। তারা গণমানুষের জন্য স্পষ্ট কর্মসূচি বা বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথা বলছেন না। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রার্থীদের জনগণের প্রকৃত সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। নির্বাচনি প্রচারে পরস্পরবিরোধী ও অসংলগ্ন বক্তব্যের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনি প্রচারে নেতাদের একে অপরকে দোষারোপ করা এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে অতীতের ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসা ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেক ভোটার মনে করছেন, এ ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য জনগণের প্রত্যাশার বিপরীত। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মানুষ প্রত্যাশা করেছিল একটি বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। আরও প্রত্যাশা করেছিল, রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা সমূলে উৎপাটন করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভালো ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও সরকার খুব একটা সফল হতে পারেনি। গণমানুষের প্রত্যাশা এখন একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। অন্তর্বর্তী সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু প্রচারের নামে প্রার্থীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বিষোদ্গারের রাজনীতি করার এক অপসংস্কৃতি; যা নোংরা রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য। প্রায় ক্ষেত্রেই লক্ষ করা যাচ্ছে, বক্তব্যে গণমানুষের কথা নেই, শুধুই আছে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে আক্রমণ করার প্রবণতা। অনেক ভোটার মনে করছেন, এ ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য জনগণ পছন্দ করছে না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, কিছু প্রার্থী নিজেদের বক্তব্য দিয়ে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। এটি কেবল নির্বাচনি প্রচারবিধির লঙ্ঘন নয়, বরং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। হেভিওয়েট প্রার্থীরাই সাধারণত এমন আচরণ করছেন। বিভিন্ন দলের কর্মীরা এই উত্তেজনায় প্রভাবিত হয়ে একে অপরকে আক্রমণ করতে পারেন। যদি কর্মীরা সহনশীল থাকেন, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু উসকানিমূলক ও অশ্লীল বক্তব্য ভোটের পরিবেশকে অস্থিতিশীল করছে। প্রার্থীদের উচিত, নিজেদের বক্তব্যের মাধ্যমে ভীতি ও বিভ্রান্তি না সৃষ্টি করা। ভোটারদের সচেতন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মজবুত করা।
প্রার্থীদের ব্যক্তিগত আক্রমণে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। সে জন্য এ ধরনের বিষোদ্গারের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে প্রার্থীদের। আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়- এমন ধরনের কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। ইতিবাচক ও গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে, যাতে করে দেশ ও দশের মঙ্গল হয়। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে শক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যাশা করছি, প্রার্থীরা বিষোদ্গারের রাজনীতি পরিহার করে গণমানুষের কথা মাথায় রেখে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এক উদার পথ তৈরি করবেন।
