
প্রগতিশীল
রাজনীতির সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সার্থক সমন্বয় ঘটাতে হলে জাতীয় জীবনের
বিভিন্ন পর্যায়ে অর্থনৈতিক সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। নতুবা পুঁজিবাদী
সমাজব্যবস্থায় দেশের কৃষক-শ্রমিক কিংবা সাধারণ মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক
মুক্তির প্রশ্ন উত্থাপন করা অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়। দুর্নীতি ও
জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে কর্মজীবী বা খেটে খাওয়া মানুষের ওপর শোষণ-বঞ্চনা
এবং লুটপাট বন্ধ করে তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে, প্রথমেই
প্রয়োজন কিছু আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সে অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন
করা। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গত ২০২৪ সালের ৮
আগস্টের পর থেকে অর্থনীতিসহ জাতীয় জীবনের অপরাপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ
ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক দুরবস্থার অবসান ঘটিয়ে বেশ কিছু জরুরি পরিবর্তন আনার
ব্যাপারে তৎপর হয়েছিলেন। মূলত সে কারণেই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জুলাই
সনদ নামে সংস্কারবিষয়ক একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছিল। তাতে বিএনপি,
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ প্রায় সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলই অংশগ্রহণ
করেছিল। চব্বিশের জুলাইয়ে সংগঠিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের
বহু আগেই দেশের তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অর্থনীতিসহ জাতীয় জীবনের
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থবহ পরিবর্তন আনার জন্য একটি ৩১ দফা সংস্কার বা
রাষ্ট্র মেরামত সম্পর্কিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। বিএনপির তৎকালীন
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তখন বলেছিলেন, এ দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে
পড়া অর্থনীতির দেশকে বাঁচাতে হলে এর আমূল সংস্কার দরকার। আপাদমস্তক
মেরামতের প্রয়োজন। তার সে কথা শুনে তখন একটি বিশেষ মহল বিভিন্ন কটূক্তি
করেছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর তারেক রহমানের সে জাতীয় সংস্কার বা
রাষ্ট্রীয় মেরামতের দাবি আজ এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে জাতির সামনে উপস্থাপন করা
হচ্ছে।
দেশব্যাপী নির্বাচনি প্রচারাভিযানে তারেক রহমান সাধারণ মানুষের
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক
অধিকারের বাস্তবায়ন নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে কথাবার্তা বলা শুরু করেছেন।
তিনি বলছেন, মানুষের জীবনযাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণ না হলে এ দেশ থেকে
দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব হবে না। খেটে খাওয়া কিংবা কর্মজীবী মানুষের
অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হবে না। মানুষের মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতার
স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। তারেক রহমান বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্য কিংবা
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো একটি কল্যাণরাষ্ট্র বা ওয়েলফেয়ার স্টেটে পরিণত
করতে চান। এ দাবি বিএনপি থেকে অতীতে বহুবার উঠেছে। তা ছাড়া, বাংলাদেশে
রাজনীতির অগ্নিপুরুষ মওলানা ভাসানী এ দাবি বহুবার উত্থাপন করেছেন। অন্ন,
বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা
বলেছেন আপসহীনভাবে। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের ওপর
দেখেছেন পুঁজিবাদী, সামন্তবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-বঞ্চনা, দুর্নীতি ও
লুটপাট। মওলানা ভাসানীর মতো তারেক রহমানও অবিলম্বে এর অবসান চান। তিনিও
কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে চান তার বাব শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর
রহমানের মতো। তার মা বেগম খালেদা জিয়ার মতো নারীদের উপযুক্ত শিক্ষাসহ
কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে তিনি বিশেষভাবে আগ্রহী। ক্ষমতাসীন হয়ে জাতীয়
জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার, পরিবর্তন ও উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিতে চান
তারেক রহমান। এ দেশটাকে নিয়ে তারেক রহমানের অনেক স্বপ্ন রয়েছে। সেসব
পরিকল্পনাই বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় এখন একে একে বেরিয়ে আসছে। বাংলাদেশ
থেকে বিতাড়িত ও নিগৃহীত হয়ে তারেক রহমান প্রায় দেড় দশক নিঃসঙ্গ অবস্থায়
বিলাতের লন্ডনে বসে তার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা
করেছেন। স্বপ্ন দেখেছেন এক শোষণহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। এক-এগারো-পূর্ব
বাংলাদেশে অবস্থানকারী তারেক রহমান তার প্রায় দেড় যুগ পর বিলাতের অবরুদ্ধ
জীবন থেকে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমান তাই সম্পূর্ণ দুই পৃথক রাজনৈতিক
সত্তা। আজকের তারেক রহমান অনেক পরিণত, সচেতন এবং সৃষ্টিশীল সম্ভাবনায়
ভরপুর। তাই ব্রিটেনের আদেশে একটি আদর্শ ওয়েলফেয়ার স্টেট বা কল্যাণ রাষ্ট্র
গড়ে তুলতে নিবেদিতপ্রাণ তিনি।
শৈশব-কৈশোর থেকে গণতান্ত্রিক আদর্শের ওপর
গড়ে ওঠা বিএনপি নামক এক রাজনৈতিক সংগঠনকে দেখে এসেছেন তারেক রহমান, যার
নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা শহিদ জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়া।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং পঁচাত্তরের রাজনৈতিক
পট-পরিবর্তন-উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার কাছে
রাষ্ট্রগঠনের একটি আধুনিক প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন তারেক রহমান। তাছাড়া,
খালেদা জিয়ার কাছে দেখেছেন কী করে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা থেকে
সংসদীয় গণতন্ত্রে সার্থক উত্তরণ ঘটানো যায়। সে অভিজ্ঞতা তাকে বাংলাদেশকে
একটি প্রগতিশীল কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার পথে উৎসাহিত করেছে। তারেক
রহমান গণতন্ত্র ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সম্মিলন ঘটিয়ে এক সময়োপযোগী আধুনিক
রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছেন, যেখানে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার
সঙ্গে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ উন্মোচিত হবে। সে কারণেই তিনি তার নেতৃত্বাধীন
জোটের অধীনে এমন একটি নির্বাচন-উত্তর সরকার গঠন করতে আগ্রহী, যা হবে জাতীয়
ঐকমত্যের একটি নিদর্শন। তারেক রহমান দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে
এমন একটি সরকার উপহার দিতে চান, যা হবে টেকসই, স্থিতিশীল ও উন্নয়নবান্ধব।
বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যরা কেউই ইসলামের আদর্শের পরিপন্থি নয়।
একটি ব্যাপারে এ জোট অবশ্যই একমত যে, ক্ষমতায় গেলে তারা ইসলামের আদর্শের
বিরুদ্ধে কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। এ কথাটি যেমন ঠিক তেমনি বিএনপি
নেতৃত্বাধীন জোট কখনোই একাত্তরের স্বাধীনতা ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ এবং
বাংলাদেশের স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে না।
আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও তমুজ্জনকে সুরক্ষা ও সমৃদ্ধ করবে।
বাংলাদেশের সমতল থেকে পাহাড় অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য, সমঝোতা,
মূল্যবোধ এবং স্বার্থকে সমুন্নত রাখার দৃঢ়প্রত্যয় গড়ে তুলবে। এবং জাতীয়
মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখবে।
বাংলাদেশের এক আর্থ-রাজনৈতিক পুনর্গঠনের সময়
এখন। এ অবস্থায় একটি জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির
দায়দায়িত্ব অনেক বেশি। আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের
নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্র্বতী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী হিসেবে দেশে-বিদেশে সর্বত্র অত্যন্ত
প্রশংসিত হয়েছে। অন্তর্র্বতী সরকারের নেওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলো এবং
উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক বলে
বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। তাতে উন্নয়ন, উৎপাদন ও নতুন পরিসরে বিনিয়োগের
পথ আরও প্রশস্ত হবে বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল মনে করেন। কোনো অবস্থাতেই কারও
আনুকূল্য বা সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার অযথা
চেষ্টা করে অতিরিক্ত ফায়দা হবে না। তার চেয়ে বিভিন্ন সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে
সাফল্য অর্জন অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে বলে অনেকে মনে করেন। চট্টগ্রামসহ
বিভিন্ন বন্দর ও টার্মিনালের পরিকল্পিত উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা এবং সম্প্রসারণ
অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত বাণিজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে
দেবে। তা ছাড়া, মিরসরাইসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী রপ্তানি এলাকাসমূহের দ্রুত
উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশাতীতভাবে বেড়ে
যাবে। তাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি দেশের
প্রতিরক্ষা খাতের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহল
মনে করেন। লালমনিরহাটসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য বিমানঘাঁটি নির্মাণ কাজ
অতি দ্রুত শেষ করা এবং বিভিন্ন সামরিক অস্ত্রশস্ত্র উৎপাদনের কাজে হাত
দেওয়া আবশ্যক বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এ ক্ষেত্রে উত্তরবঙ্গ,
অপরদিকে বরিশাল ও মধ্যখানে ফেনী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রস্তাবিত সামরিক
ঘাঁটি নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারলে নবনির্বাচিত সরকার অতি
দ্রুত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠিন সমালোচনার মুখে পড়বে। কারণ উল্লিখিত
অঞ্চলগুলোতে আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেক দুর্বল।
রংপুরের
সীমান্তবর্তী ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের প্রতিরক্ষা এবং অপরদিকে
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভারতের স্থলবেষ্টিত সাত রাজ্যের ভবিষ্যৎ অখণ্ডতা
নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির সামাজিক গণমাধ্যমকে অনেক অপপ্রচার চালাতে দেখা
যাচ্ছে। তারা এমনকি দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর
এলাকা এবং অপরদিকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল দখল করে বাংলাদেশকে বঙ্গোপসাগর
থেকে বিভিন্ন করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে
যথেষ্ট ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে ক্রমে-ক্রমে
বাংলাদেশর সব রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় দেশব্যাপী মানুষ
বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে গড়িমসির কারণেও বাংলাদেশ
ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য, ভ্রমণ ও সীমান্ত নিরাপত্তাসহ সম্পর্ক
স্বাভাবিক করতে হলে আগামী নির্বাচিত সরকারের দিকে ভারতকে অত্যন্ত
ভেবেচিন্তে অগ্রসর হতে হবে। বিরাজমান উত্তেজনা হ্রাসে অত্যন্ত শান্তি ও
বন্ধুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে
আগ বাড়িয়ে বিশেষ কিছু করতে হবে না। শেখ হাসিনার বিচার ও তাকে বাংলাদেশে
ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে। বাংলাদেশের সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমনকি ভারত সরকার স্বীকৃত আন্তর্জাতিক আইনের
ঊর্ধ্বে নয়। এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেছেন, ভারত তার
সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের
বিরাগভাজন হয়েছে। সুতরাং সে সম্পর্ক ঠিক করতে হলে তাদেরই অত্যন্ত সুচিন্তিত
ও গঠনশীলভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র,
কারও করদরাজ্য নয়। সুতরাং, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সঙ্গে কার কী সম্পর্ক
হবে তা ঠিক করবে তার ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকার ও জনগণ। সেটা নিয়ে আমাদের
দিকে থেকে কারও কোনো বাড়াবাড়ির প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ
থেকে কারও কোনো অতি উৎসাহ দেখানো হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে
বাংলাদেশ কারও কোনো তাঁবেদারি মেনে নেবে না। বাংলার অতীত ইতিহাসই তার
সাক্ষী। বাংলাদেশের বর্তমান জনগণ ও শাসকগোষ্ঠী সে গৌরবোজ্জ্বল অতীত ইতিহাস ও
ঐতিহ্যকে অস্বীকার করতে পারবে না। চব্বিশে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী
ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের
বিভিন্ন বাহিনীর হাতে (ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ) যারা আহত ও নিহত হয়েছে, তাদের
আইনানুগভাবেই বিচার হতে হবে। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচিত সরকারেরও বেশি
কিছু বলার থাকতে পারে না। কারণ অপরাধীদের বিচার হবে আন্তর্জাতিকভাবে
স্বীকৃত আইনে, সেজন্য অপরাধ আদালতও গঠন করা হয়েছে। তার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু
করতে গেলে সে দায়িত্ব তাদেরই বহন করতে হবে।
লেখক: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, একুশে পদকপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
