নিজস্ব
প্রতিবেদক।। সব দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই
উপজেলা) আসনে বিএনপির তিন প্রভাবশালী নেতা-সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর
ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজির আহমেদ ভূঁইয়া ও ধানের শীষ প্রতীকের
প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া-একই ছাতার নিচে এসেছেন।
সোমবার (২
ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপির
সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন ও সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের
উপস্থিতিতে তাঁদের একত্র করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে এতে বিএনপির
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
উপজেলা বিএনপির একাধিক
নেতা-কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লা-১০ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে আবদুল গফুর ভূঁইয়ার
জনপ্রিয়তা বেশি। দল তাঁকে মনোনয়ন দিলেও আইনি জটিলতায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল হয়।
একই সঙ্গে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নও একপর্যায়ে বাতিল হওয়ায় সাধারণ
ভোটারদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এতে করে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে
যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল জামায়াত প্রার্থীর।
তবে আইনি লড়াইয়ে
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। পরে দলীয় মনোনয়নও
তাঁর হাতে আসে। এতে নেতা-কর্মীরা আবারও উজ্জীবিত হয়ে ধানের শীষের পক্ষে
মাঠে নামেন।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের নেতৃত্বে
তিন ভূঁইয়াকে একত্রিত করায় এই আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ
প্রকাশ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের কেন্দ্রীয়
কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি
মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে দল মনোনয়ন দেয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর
ভূঁইয়াকে। যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ হলেও পরে দ্বৈত নাগরিকত্ব
সংক্রান্ত অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে।
অন্যদিকে,
দলীয় প্রত্যয়নপত্র না থাকায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র শুরুতে
বাতিল করা হয়। পরে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে গত ২৫ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন আদালত।
বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত
হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁর মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দিতে
নির্দেশ দেন।
পরদিন ২৬ জানুয়ারি কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং
কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মোবাশ্বের আলম
ভূঁইয়াকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেন। ওই দিন সন্ধ্যায় নেতা-কর্মীদের
উপস্থিতিতে তিনি প্রতীক গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে, আবদুল গফুর ভূঁইয়া মনোনয়ন
ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করলেও ২২ জানুয়ারি তা খারিজ করে দেওয়া হয়। ফলে
তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
সবশেষে তিন নেতার ঐক্যে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা নতুন গতি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
