
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কুমিল্লার ১১ সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত হয়েছেন মোট ১ লাখ ১১ হাজার ৫৫০ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ জন এবং নারী ৮ হাজার ২৯৫ জন। সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট নিবন্ধন করেছে কুমিল্লা -১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসন থেকে ১৩ হাজার ৯৩৮ জন জন।
প্রবাসী ছাড়াও এসব ভোটারের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিরত, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, দুইটি আলাদা ভ্যেনুতে ১১ টি কেন্দ্রে এসব ভোট গণনায় মোট ৪৮৭ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ভোটগ্রহণের দিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে এই ভোট গণনা প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে শুরু হবে।
কুমিল্লার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কুমিল্লা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রবাসী সংখ্যা বেশি হওয়ায় পোস্টাল ব্যালট এর সংখ্যাটিও বেশি হয়েছে। যেহেতু প্রতি আসনে গড়ে আট থেকে দশ হাজার পোস্টাল ব্যালটের ভোট রয়েছে সেগুলো কোন কোন আসনে জয় পরাজয়ের জন্য ফ্যাক্টর হতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেখানেই ফ্যাক্টর হবে পোস্টাল ব্যালটের ভোট। যে কারণে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসব ব্যালট গণনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সর্তক থাকা উচিত।
আসনভিত্তিক পোস্টাল ব্যালটের ভোটারদের মধ্যে কুমিল্লা-১( দাউদকান্দি -মেঘনা) আসনে পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৮ হাজার ৫৯৯ জন যার মধ্য পুরুষ ৭৬৯৯, মহিলা ৯০০, কুমিল্লা -(হোমনা-তিতাস) আসনে পোস্টাল ভোটার নিবন্ধন করেছেন ৭ হাজার ২৯০ জন।যার মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৬৪৫, নারী ৬৪৫ জন। কুমিল্লা – ৩ মুরাদনগর আসনে ৯ হাজার ৪৯৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ৮ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ৫৯১ জন। কুমিল্লা – ৪ দেবিদ্বার আসনে ১০ হাজার ১০৫ জন,যার মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৩৮৯ জন ও নারী ৭১৬ জন। কুমিল্লা -৫( বুড়িচং -ব্রাহ্মনপাড়া) আসনে ১২ হাজার ৩৩০ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৩০০ জন ও নারী ১ হাজার ৩০ জন। কুমিল্লা -৬ ( আদর্শ সদর- সিটি করপোরেশন – সদর দক্ষিণ) আসনে ১১হাজার ৯১৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৫৫১জন ও নারী ১ হাজার ৩৬৫ জন। কুমিল্লা -৭ চান্দিনা আসনে ৫ হাজার ৭২২ জন,যার মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৩৯১ জন ও নারী ৩৩১ জন। কুমিল্লা -৮ বরুড়া আসনে ৮ হাজার ৪৪৮ জন, এর মধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৯৯৭ জন ও নারী ৪৫১ জন। কুমিল্লা -৯ ( লাকসাম -মনোহরগঞ্জ) আসনে ১১ হাজার ১৬৩ জন যার মধ্যে পুরুষ ১০ হাজার ৪৬১ জন ও নারী ৬৯৪ জন। কুমিল্লা -১০( নাঙ্গলকোট -লালমাই) আসনে ১৩ হাজার ৯৩৮ জন যার মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৯৪ জন ও নারী ৮৪৪ জন। কুমিল্লা -১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে মোট পোষ্টাল ভোটার ১২ হাজার ৫৪১ জন,যার মধ্যে পুরুষ ১১ হাজার ৮১৩ ও নারী ৭২৮ জন।
কুমিল্লা-০৬ আসনের ভোটার সৌদি আরব প্রবাসী আফসু ট্যুরস্ এন্ড ট্রাভেলস্ এর সত্বাধিকারি আনিসুর রহমান বলেন, যারা প্রবাসে থাকেন তাদের সব সময়ের একটি আক্ষেপ ছিল তারা নির্বাচনে ভোট দিতে পারে না। এবার সেই আক্ষেপ কিছুটা হলেও মিটেছে। তবে পোস্টাল ব্যালট প্রথম ব্যবহার ব্যবহৃত হয় অনেকে ভুল করেছে বলে শুনেছি। তারপরও সরকারকে ধন্যবাদ যে পোস্টাল ব্যালট এর ব্যবস্থা করেছে। আমরা চাই আমাদের ভোটাধিকার দেশের সরকার গঠনে কাজে লাগুক।
প্রবাসী খোরশেদ আলম নাঈম হোয়াটসঅ্যাপ মধ্যমে বলেন, দেশের বাইরে থাকায় নির্বাচনে ভোট দিতে পারি না এটি একটি আক্ষেপ ছিল। এবার পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছি। আশা করব আমার ভর্তি দেশের কাজে লাগবে।
মঙ্গলবার কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে একটি কক্ষে আসা পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিংয়ে এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এসব পোস্টাল ব্যালট নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করছে। ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত এই কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকবে। কেন্দ্রে ভোট গণনার মত পোস্টাল ব্যালটের ভোটগুলো গণনা করার জন্য কুমিল্লাতে দুইটি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ভ্যানুতে আলাদা আলাদা কক্ষে ১১ টি আসনের পোস্টাল ব্যালট গুলো গণনা করা হবে। প্রতি ৩০০ টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন করে পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন এবং গণনার সময় সকল প্রার্থীর এজেন্দ্রা উপস্থিত থাকবেন। তবে পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় টি একটু বেশি লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যে কারণে শুধু দেশের ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনার পর মূল ফলাফল প্রত্যাশা না করে বরং পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল সহ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশা করাকেই সঠিক হবে বলে জানাচ্ছেন প্রার্থীদের।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, 'দুই ফেব্রুয়ারি থেকে পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিং করে গ্রহন করা শুরু হয়েছে। ডাকঘর থেকে আসতে থাকা পোস্টাল ব্যালট স্ক্যান করে কমিশনের ওয়েব সাইটে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।তারপর আমরা সেগুলো ব্যালট বাক্সে রেখে ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করছি। এখন থেকে আমাদের ১২ তারিখ বিকেল ৪ টা ৩০ পর্যন্ত যত ব্যালট আসবে আমরা এভাবেই অন্তর্ভুক্ত করবো। প্রথম দিনে ৩৬৪ টি এবং দ্বিতীয় দিনে ৯ হাজারেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট আসে, যা কিউআর স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে অন্তঅন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আমাদের দুইটা ভ্যেনুতে ১১ টি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট গুনতে হবে।'
তিনি আরো বলেন,'যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন তাদের একটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তাদেরকে আগে কিউআর স্ক্যান করে তারপর ভোট দিতে হবে। তার যদি সেটি স্ক্যান করা না থাকে, তাহলে আমরা এখানে যখন আবার সেটি গ্রহণ করার সময় স্ক্যান করছি তা কমিশনের ওয়েবসাইটের সাথে মিলবে না। তাই যারা ভোট দিবেন তারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে ভোট দিতে হবে।
