
কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে বিএনপির প্রবীণ নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় আসনটিতে জয়ের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে বিএনপির প্রার্থীশূন্য এ আসনে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছেন জোটের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের মাঠে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় জোটের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে পূর্ণ শক্তি দিয়ে সমর্থন দিতে পারে বিএনপি। যদিও বিষয়টিকে ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়’ আখ্যা দিয়ে জসিম বলছেন, আমি আমার মতো করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে বিএনপির মুন্সীর প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এনসিপির হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন-ট্রাক প্রতীক, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার-আপেল প্রতীক, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক (ইতোমধ্যে তিনি হাসনাত আবদুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল করিম- হাতপাখা প্রতীক।
কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার জন ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার জন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের একটি পৌরসভা ও ১৫ টি ইউনিয়নের ভোটাররা ভোট দিবেন ১১৬টি কেন্দ্রে।
কুমিল্লার উত্তরের সবচেয়ে আলোচিত আসন এটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ এ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ায় সারা দেশের মানুষেরই কৌতুহল রয়েছে দেবিদ্বারের দিকে। কিন্তু নির্বাচনের ভোট গ্রহণের মাত্র ১১ দিন আগে এসে বিএনপি সমর্থকরা জানতে পারলেন এ আসনে আর তাদের দলীয় প্রার্থী থাকছে না। এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন বৈধতা বাতিল হয়ে যায়। তাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আর প্রার্থী হতে পারছেন না। এর ফলে জামায়াত- এনসিপি জোটের হাসনাত আবদুল্লাহর বিপরীতে বিএনপি জোটের প্রতিদ্বন্ধীতা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সমীকরণ। মুন্সীর প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন গুরুত্¦ পাচ্ছেন।
অবশ্য নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পূর্বেই জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহিদ এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে ছাড় দেয়ায় নতুন প্রার্থী হলেও তার পাল্লা ভারী হয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন কর্মসূচি, উঠান বৈঠক, গণসংযোগে তিনি সক্রিয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করতেই নির্বাচনে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেবীদ্বারের মানুষ প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে উন্নয়নবঞ্চিত ও অবহেলিত। এই অঞ্চল থেকে বহু রাজনৈতিক নেতা তৈরি হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। এবার সুযোগ এসেছে সত্যিকারের জনসেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আমি বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে দেবীদ্বারের জনগণ সত্য, উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে তাদের মূল্যবান রায় দেবেন।
গণ অধিকারপরিষদেও ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন বলেন, আমি আগে থেকেই নিজের মত মাঠ গুছিয়ে রেখেছি। বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন ফিরে না পাওয়ায় এখন জোটগত কি সিদ্ধান্ত হবে- সেটা কেন্দ্র ঠিক করবে। আমি নিজের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কেন্দ্র থেকে যদি আমাকে সমর্থন দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়- তবে সেটা আমার জন্য ভালো হবে, আমার মাঠও ভালো হবে। আশা করছি জনগণ আমাকে ট্রাক প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ভোটের মাঠে না থাকার ফলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দলের সাংগঠনিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভোটের আমেজও অনেকটা ম্রিয়মান হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে জড়িত, বেশ কয়েকবার এমপি ছিলেন। তার প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাওয়ায় এখন দলে শূন্যতা তৈরি হবে, দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সাংগঠনিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো-নির্বাচনটাই ‘মরে যাবে’; বড্ড একপেশে হয়ে যাবে। এ জন্য অবশ্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নিজেই দায়ি। তার অসচেতনতার জন্যই এমনটা হয়েছে। এ বছরের যে নির্বাচনী রীতি ছিলো- তার সেটা ফলো করাই বুদ্ধিমানের কাজ হতো।
