রোববার ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৯ মাঘ ১৪৩২
নিরপেক্ষতার স্বার্থে ইসির নির্দেশ মেনে চলুন
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৬ এএম |

নিরপেক্ষতার স্বার্থে ইসির নির্দেশ মেনে চলুন
অবশেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়ে দিল, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ। গণভোটের ‘পক্ষে’ সরকারের উপদেষ্টা, সরকারি দপ্তর, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকাশ্য অবস্থান নিলে গণভোটের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। নির্বাচন কমিশন বলেছে, গণভোটে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট সম্পর্কে জনগণকে তথ্য জানাতে ও সচেতন করতে পারবেন, কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-কোনো পক্ষেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গণভোট, এই শব্দের মধ্যেই এই নির্বাচনের তাৎপর্য ও অর্থ পরিস্ফুট। গণ বলতে এখানে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে বোঝায় আর ভোট বলতে বোঝায় তাদের মতামত দেওয়ার বিষয়টি। সেই মত পক্ষেও (হ্যাঁ) হতে পারে, বিপক্ষেও (না) হতে পারে। জনগণকে অবাধে মতপ্রকাশ করতে দেওয়াই এর লক্ষ্য। রাষ্ট্র যখন জনগণকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটের মাধ্যমে মতপ্রকাশ করতে আহ্বান জানায়, তখন রাষ্ট্র পক্ষভুক্ত হতে পারে না। ইসি আসলে এই নির্দেশই দিয়েছে।
ইসি গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের এই তৎপরতায় যুক্ত হওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ। রিটার্নিং কর্মকর্তাদেরও একই কড়া নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা ও আপত্তি ওঠে। গত ১৫ জানুয়ারি পত্রিকান্তরে গণভোটে সরকারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলীর অভিমত প্রকাশিত হয়। তারা তিনজনই এ নিয়ে সরকারের হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবারও জেসমিন টুলী তার আগের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন না। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এখন (ইসি) চিঠি দিয়েছে। মনজিল মোরসেদ অবশ্য ইসি অনেক দেরিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সরকারি টাকায় ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালানোর ফলে যারা ‘না’র পক্ষে, তাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এ নিয়ে তাই একধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছিল, সরকার যদি ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী দেখতে চায় তাহলে গণভোট কেন? নির্বাচনি তফসিল অনুসারে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের প্রচার শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ২২ জানুয়ারি। কিন্তু সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার শুরু করেন এরও প্রায় ১০ দিন আগে। এবার গণভোটসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাজেট বরাদ্দ রয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গণভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে সরকার ব্যাংক, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফেসবুক পেজে গণভোটের ‘হ্যাঁ’তে সিল দিন এরকম একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার পাশাপাশি ভিডিওচিত্রে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে নির্মাণ করা হয়েছে ভিডিওচিত্র। এই প্রচারে কাজ করছে ছয়টি মন্ত্রণালয়। তাদেরও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে সার্বিকভাবে নির্বাচনি ব্যয় বেড়েছে।
সরকারি অর্থে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে. মুজেরীর মতে, গণভোটে সরকারের ভূমিকা থাকবে নিরপেক্ষ। কোনো এক পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য সরকার অর্থ ব্যয় করতে পারে না। তবে গণভোটে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে পারবে। ইসিও এই নির্দেশই দিয়েছে। গণভোটে যে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে এখন সেই অর্থ গণভোটের প্রচারে ব্যয় করা যেতে পারে, কিন্তু সেই অর্থ যদি সরকারের কেউ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারে ব্যবহার করেন তাহলে তা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। গণভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, ইসির এই নির্দেশের ফলে তার অবসান হলো। কেননা, নির্বাচন নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। 
আশা করা যায়, উপদেষ্টা, রিটার্নিং অফিসার, সরকারি কর্মকর্তাসহ সরকারের সঙ্গে যুক্ত সবাই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ নিরপেক্ষভাবে মেনে চলবেন। গণতন্ত্রের মর্মকথা এটাই। একটা নিরপেক্ষ, সর্বজনগ্রাহ্য, ফলপ্রসূ গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটলে গণতন্ত্রের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সেইদিকটির উপরও সবার গুরুত্ব দেওয়া উচিত।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
‘আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না’: ড. শফিকুর রহমান
একটি দল মুখে ‘হ্যাঁ’ বললেও তলে তলে ‘না’ এর কথা বলে জনসভায় মামুনুল হক
চৌদ্দগ্রামে সমাবেশ থেকে ফেরার পথে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত ১০
হাসনাতের নির্বাচনী তহবিলে ১৪ লাখ টাকা দিল স্কুলের বন্ধুরা
একটি গোষ্ঠী জান্নাতের টিকেট বিক্রির নামে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে -হাজী ইয়াছিন
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
১১ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে অনেকে দিশেহারা
ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের আন্তঃহাউজ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
গোমতির উত্তরেও কুমিল্লা শহর সম্প্রসারণ হবে
ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লার নামেই বিভাগ করবো
চৌদ্দগ্রামে যুবলীগ নেতার বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২