বাংলাদেশ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বস্তাপচা, দুর্নীতিগ্রস্ত
ও চাঁদাবাজির রাজনীতিকে লাল কার্ড দেখিয়ে ভোটের মাধ্যমে একটি নতুন, মানবিক
ও দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, ২৪-এর
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে
এবং জনগণ এখন প্রকৃত পরিবর্তন চায়।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে
কুমিল্লার দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায়
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন কুমিল্লার বুড়িচং
উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে কুমিল্লা-৫ আসনের নির্বাচনী সমাবেশেও
তিনি অনুরূপ বক্তব্য দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশ
সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতি, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট এবং মা-বোনদের
ইজ্জতহানির ভয়াবহ অধ্যায় দেখেছে। একটি পরিবার ও গোষ্ঠী দীর্ঘদিন রাষ্ট্র
পরিচালনা করেছে, আর সাধারণ মানুষকে ভাড়াটিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সংবিধানের সমতার কথা বললেও সেই সংবিধানের দোহাই দিয়েই জনগণের ওপর জুলুম
চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এখনো দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট
সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে
হবে। বস্তাপচা রাজনীতির আর কোনো সুযোগ নেই। জনগণের ভোটেই নতুন ও
দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিকে বিজয়ী করতে হবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা
প্রসঙ্গে জামায়াতে আমির বলেন, যারা নারীদের হুমকি দেয় বা ভোটকেন্দ্রে যেতে
বাধা দেওয়ার কথা বলে, তারা মানবিকতার পরিচয় দেয় না। মায়েরা ও বোনেরা যেন
ঘরে-বাইরে, কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে
চলাফেরা করতে পারেন-এটাই জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন,
রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হবে। শিশুদের
স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, প্রবীণদের দায়িত্ব গ্রহণ রাষ্ট্রের কর্তব্য। বিশেষ
করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
একটি জাতিকে সুস্থ না করলে উন্নত জাতি গঠন সম্ভব নয়।
যুবসমাজকে উদ্দেশ
করে তিনি বলেন, তরুণরা ভিক্ষা বা বেকার ভাতা চায় না; তারা সম্মানের কাজ
চায়। তাদের হাতকে শক্তিশালী করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ডা.
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ধর্ম ও বর্ণের ভিত্তিতে
কোনো বিভেদ থাকবে না। সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশকে ‘ফুলের বাগান’-এর মতো করে গড়ে
তোলা হবে। দুর্নীতিতে জড়িতদের সহিংস পথ নয়, বরং সৎ ও সুস্থ জীবনে ফেরার
সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে কঠোরভাবে।
দাউদকান্দির
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-১ আসনের জামায়াতে মনোনীত প্রার্থী ও
দাউদকান্দি উপজেলা আমির মনিরুজ্জামান বাহলুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে
ইসলামীর সহ-সেক্রেটারি এটিএম মাসুম, মাওলানা আব্দুল হালিমসহ ১১ দলীয় জোটের
নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে, বুড়িচংয়ের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-৫
আসনের জামায়াতে মনোনীত এমপি প্রার্থী এডভোকেট ডক্টর মুহাম্মদ মোবারক
হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এটিএম মাসুম, ডাকসুর সাবেক ভিপি
সাদিক কায়েম ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহসহ অন্যান্য
নেতারা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক
আমির অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান, বর্তমান আমির
অধ্যাপক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবুল হোসাইন,
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আমির মাওলানা মুহাম্মদ রেজাউল করিম, মাওলানা মিজানুর
রহমান আতিকীসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
দুইটি
সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা
বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
