বিএনপির
চেয়ারপার্সন'র উপদেষ্টা এবং কুমিল্লা দক্ষিণ সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক সাবেক
জাতীয় সংসদ সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ত্রয়োদশ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জান্নাতের টিকেট বিক্রির নামে সাধারণ
মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। মানুষ তাদের এসব ধোকাবাজী বুঝে গেছে। যারা নানাভাবে
মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে
মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে ওইসব ধোকাবাজদের উপযুক্ত
জবাব দেবেন। এবারের নির্বাচনে জনতার ভোটে জনতার সরকার গঠন করবে বিএনপি।
আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় তারুণ্যের অহংকার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক
রহমানকে বেছে নেবেন এদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি। তারক রহমানের নেতৃত্বে একটি
নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
শনিবার (৩১
জানুয়ারি) কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও
লাকসাম উপজেলা সভাপতি মো. কালামের একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির
বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপার্সন'র উপদেষ্টা এবং কুমিল্লা দক্ষিণ সংসদীয় আসনের
সমন্বয়ক সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন এসব কথা বলেন।
ওইদিন
বিকেল সাড়ে ৪টায় কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত লাকসাম
পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় সভাপতিত্ব করেন লাকসাম
পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মজির আহমেদ।
জনসভায়
প্রধান অতিথি হাজী ইয়াছিন বলেন, যারা ফ্যামিলি কার্ড কি বুঝেন না। তারা
মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বুঝবেন কিভাবে। বিএনপির দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তারেক রহমানের ৩১ দফায় রাষ্ট্র গঠনে দিকনির্দেশনা রয়েছে। দেশের মানুষের
চাহিদার আলোকে বিএনপি আগামীদিনে রাষ্ট্র গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নিবেন। দেশ
পরিচালনায় দক্ষ দলই হচ্ছে বিএনপি।
নির্বাচনী জনসভায় কুমিল্লা-৯
(লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত
প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও লাকসাম উপজেলা সভাপতি মো.
কালাম বলেন, নির্বাচনকে বানচাল করতে একটি মহল বিএনপির বিরুদ্ধে নানাহ
ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে। ওই গোষ্ঠী ১৯৭১'এ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের
সময়ও দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এখনো দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা
করেছে। দেশের মানুষের এসব জানা রয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার
করতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা
জিয়া তাঁর জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। তিনি সারাটা জীবন দেশের জন্য,
গণতন্ত্রের
জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র উদ্ধারের জন্য
কখনো কারো সঙ্গে আপস করেননি। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি বৈষম্যমুক্ত
বাংলাদেশ বিনির্মাণে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরো বলেন, ধানের শীষ বিএনপির
প্রতীক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক
রহমানের প্রতীক। সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। এই প্রতীকের
মর্যদা সমুন্নত রাখতে হবে। ধানের শীষকে আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রাখলাম।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রদানের মাধ্যমে দলের বিজয়
নিশ্চিত করার আহবান জানান তিনি।
আবুল কালাম জনসভায় উপস্থিত সকলের
উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজ,
সন্ত্রাস, দখলবাজ এবং মাদক বলতে কিছুই থাকবে না। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এসব
অপকর্ম প্রতিহত করা হবে।
এ সময় জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির
বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা
বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, ঢাকা মহানগর (উত্তর) বিএনপির
আহবায়ক এম. কফিল উদ্দিন আহমেদ. উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা
ইমরুল আনোয়ার লিটন, বিএনপি নেত্রী সামিরা আজিম দোলা, বিজিএমইর পরিচালক ও
ডাকসু'র সাবেক সদস্য ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী প্রমূখ।
এ সময় অন্যান্যদর
মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লাকসাম উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. নূর উল্লাহ
রায়হান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান বাদল, পৌরসভা
বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল রহমান মজুমদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ
হোসেন মুশু, বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয়
সংসদ'র ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নাফিসা বিনতে উমাইয়া রিদিকা প্রমূখ।
