কুমিল্লার
মুরাদনগর উপজেলার সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফের ২দিন ব্যাপী বার্ষিক
ইছালে সাওয়াব মাহফিল বৃহস্পতিবার বাদ যোহর মিলাদ ও দোয়ার মধ্যদিয়ে শুরু
হয়েছে। এবছর ২২ ও ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন ব্যাপী বার্ষিক
এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাল ২৪ জানুয়ারি শনিবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাতের
মধ্য দিয়ে এ মাহফিল শেষ হবে। সোনাকান্দ দরবার শরীফের পীর ও বাংলাদেশ
তা’লীমে হিজবুল্লার আমীর শাহসূফি মাওলানা মাহমুদুর রহমান পীর -সকল
ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাইদের প্রতি মাহফিলে যোগদানের অনুরোধ জানিয়েছেন।
মাহফিলে উপস্থিত থেকে দুনিয়া ও পরকালের অশেষ ছাওয়াব হাসিল করার জন্য। মুলত
এই মাহফিলের ঐতিহ্য বাদ মাগরিব পীর মাওলানা মাহমুদুর রহমানের বিশেষ তা'লীম।
এতে বিভিন্ন তরিকার জিকির-আজকার ও হেদায়েত মূলক নসীহ মূলক আলেচনা,
ইস্তেকফার- তওবা ও দোয়া করা হয়।
উক্ত মাহফিলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারো
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন জেলা
থেকে প্রায় লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সমাগম হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্যে সোনাকান্দা দরবার শরীফের বিশাল বিশাল ময়দানে পেন্ডেল, ষ্টেইজ,
মাইক স্থাপন, খাবার পরিবেশনের আয়োজন, ওজুখানা, গোসলখানা, টয়লেট, ৮টি স্থানে
গাড়ী পার্কিংয়ের স্থান রাখা হয়েছে। এই বার্ষিক মাহফিল উপলক্ষে সোনাকান্দা
গ্রামসহ আশে-পাশের গ্রামের অতিথিরা এসে থাকেন মাহফিল শুনতে। বিভিন্ন স্থানে
খাবারের দোকান ও নানা প্রকার অস্থায়ী দোকানপাট বসে থাকে। কয়েক লাখ লোকের
সমাগম ঘটে থাকে সোনাকান্দা দরবারের এ মাহফিলে।
উল্লেখ্য, পাক ভারত
উপমহাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বীনের দাওয়াত ও খেদমতে যারা আঞ্জাম
দিয়েছেন তন্মধ্যে সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ অন্যতম। দবারের
প্রতিষ্ঠাতা বাগদাদ ও ফুরফুরা শরীফ থেকে খেলাফত প্রাপ্ত শাহ্সুফি মাওলানা
হাফেজ আব্দুর রহমান হানাফি (রহ.)। তিনি তার জীবনকে সর্বদা ইবাদত, বন্দেগী,
মোরাকাবা-মোশাহাদার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির শিখরে সমাসীন হতে সক্ষম হয়েছেন।
দ্বীনের ওপর তার আত্মত্যাগ ও সাধনা দেখে লাখ লাখ মুসলমান তাকে অনুসরণ করেন।
বিশেষ করে এ দেশের মুসলিম মিল্লাতের নৈতিক অধপতন থেকে চারিত্রিক উন্নতি ও
আমলের অগ্রগতির ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তিনি এ দাওয়াতি কাজ
চালু রাখার জন্য বহুযুগ আগ থেকে দরবারে প্রতিবছর বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব
মাহফিল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৪ সালে তার ইন্তেকালের পর উত্তরসুরী বড়
ছাহেবজাদা মাওলানা আবুবকর মোহাম্মদ শামসুল হুদা (রহ.) খেদমতকে অক্লান্ত
পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে গোটা দেশে আঞ্জাম দিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায়
উভয়ের প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মাদরাসা, মসজিদ, খানকাহ, মক্তব, মুসাফির ও
এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ২০০৫ সালে তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তাঁর বড়
ছাহেবজাদা মাওলানা মাহমুদুর রহমান স্থলাভিষিক্ত গদ্দীনিশীন হয়ে দরবার
পরিচালনা করে আসছেন । তিনিও নিরলস ভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দ্বীনের
দাওয়াতি কাজ ইন্তেজামে নিজেকে নিয়োজিত করে যাচ্ছেন।
