মার্সেইয়ের উত্তাল
গ্যালারি, বিটলস থিমের টিফো আর স্বাগতিকদের জয়ের প্রত্যাশা; সবকিছুকে
ছাপিয়ে গেল লিভারপুলের নিয়ন্ত্রিত ও পরিণত পারফরম্যান্স। বুধবার রাতে
ফ্রান্সের মাটিতে ৩-০ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে সরাসরি জায়গা
করে নেওয়ার পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল ইংলিশ জায়ান্টরা।
সব নজর ছিল
মোহাম্মদ সালাহর দিকে। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফেরা মিশরীয় তারকা অবশ্য ম্যাচে
বড় কোনো ছাপ রাখতে পারেননি। বরং আলো কাড়লেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও লিভারপুলের
সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমার ডমিনিক সোবোসলাই।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে
দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাঙ্গেরিয়ান
মিডফিল্ডার। সেট-পিসটি ছিল সালাহর বাঁ পায়ের জন্য আদর্শ জায়গায়। কিন্তু
সোবোসলাই দায়িত্ব নিয়ে নেন। নিচু শটে দেয়াল টপকে বল জড়িয়ে দেন জালে।
মার্সেই অধিনায়ক লিওনার্দো বালেরদির লাফের নিচ দিয়ে গড়িয়ে ঢুকে যায় বল।
দ্বিতীয়ার্ধে
চাপ বাড়াতে শুরু করে স্বাগতিকরা। ঠিক সেই সময় জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের ক্রস
গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলির গায়ে লেগে ঢুকে যায় জালে। কিছুটা ভাগ্য সহায় হলেও
লিভারপুল তখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয়।
শেষ দিকে বদলি
হিসেবে নামা কোডি গাকপো যোগ করা সময়ে আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন। চলতি
মৌসুমে তিন গোলের ব্যবধানে এটি লিভারপুলের মাত্র দ্বিতীয় জয়।
২৬
নভেম্বরের পর এটি ছিল সালাহর প্রথম শুরুর একাদশে ফেরা। পিএসভির কাছে ৪-১
গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দল থেকে বাদ পড়া এবং কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে
সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনের পর আফ্রিকা কাপ অব নেশনস যেন তাকে নতুন করে শুরুর
সুযোগ করে দেয়। তবে এই ম্যাচে তার একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ায় স্পষ্ট- এখন
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের ভার কেবল তার কাঁধে নেই। ফ্লোরিয়ান ভির্টজ,
সোবোসলাই ও আংশিকভাবে হুগো একিতিকে এখন লিভারপুলের আক্রমণের মূল ভরসা।
মার্সেইয়ের হয়ে টিমোথি ওয়াহ দুটি ভালো সুযোগ পেলেও অ্যালিসন বেকারের দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা।
সব
মিলিয়ে আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত এক লিভারপুলের সামনে মার্সেই দাঁড়াতেই পারল
না। এই জয়ে প্লে-অফ এড়ানোর দরজাটা লিভারপুলের জন্য আরও একটু খুলে গেল। শেষ
ষোলো এখন চোখের সামনে।
