বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৯ মাঘ ১৪৩২
উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন
মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৭ এএম আপডেট: ২২.০১.২০২৬ ১:২৩ এএম |

 উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিন
দেশের অর্থনীতির ভিত কাঁপাচ্ছে, মানুষের নিদারুণ কষ্ট বাড়াচ্ছে এক অদ্ভুত সংকট। একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, কমছে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা- এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হচ্ছে। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে। গত দুই-তিন বছর ধরেই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। পক্ষান্তরে মজুরি না বাড়ায় অনেকেই সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। গ্রাম-শহর উভয় জায়গাতেই আয়বৈষম্য আরও চোখে পড়ার মতো। শহরে ভিক্ষুকের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে, যা সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্বলতার ছবি। সাধারণ মানুষের আয়ের বৃদ্ধি এবং ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধির মধ্যে যেহেতু সঠিক সামঞ্জস্য নেই, তাই মানুষকে প্রতিদিনের বাজার থেকেই বেঁচে থাকার সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বরে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮.৪৯ শতাংশ। এটি পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশের দেশ ভারতে মূল্যস্ফীতির হার এখন দশমিক ২৫ শতাংশ। দেউলিয়া অর্থনীতি থেকে ফিরে আসা শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ১ শতাংশ। জেন-জির বিক্ষোভে নেপালে ওলি সরকারের পতন ঘটলে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয় একটি অন্তর্বর্তী সরকার। এর প্রভাবও আছে মূল্যস্ফীতিতে। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় এই হার ১ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। মূল্যস্ফীতিতে পাকিস্তানই এখন বাংলাদেশের কাছাকাছি। দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এর বাইরে ভুটান ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতির হার যথাক্রমে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বলাবাহুল্য, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা নীতি সুদহার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তা কোনো সুফল বয়ে আনেনি। এমনকি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বেশকিছু নিত্যপণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে বাজারের আমদানিপ্রবাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করে। এতসব উদ্যোগের পরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি মূল্যস্ফীতি। এ কথা মানতে হবে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। ২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার বিদায় নেওয়ার পর জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। কিন্তু না মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জিনিসপত্রের দামও।
আসলে মূল্যস্ফীতি কোনো বিমূর্ত অর্থনৈতিক শব্দ নয়; এটি সরাসরি মানুষের সামনে খাবারের থালা, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং ন্যূনতম জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন টিকে থাকার সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান, গবেষণা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- এই চাপ শুধু সাময়িক নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করে।
বলতে দ্বিধা নেই, মূল্যস্ফীতি- এই একটি শব্দ আজ দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে যেন নিত্যসঙ্গী এক আতঙ্কের নাম। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে মানুষকে হিসাব কষে চলতে হচ্ছে- কোথায় খরচ কমানো যায়, কী বাদ দেওয়া যায়, কোন চাহিদাকে বিলাসিতা হিসেবে ত্যাগ করা যায়। অথচ কয়েক বছর আগেও যেগুলো ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয়, আজ সেগুলোই অনেক পরিবারের কাছে হয়ে উঠছে স্বপ্নের মতো দূরের। অবশ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর তীব্রতা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনে যে মাত্রায় আঘাত হেনেছে, তা শঙ্কিত হওয়ার মতো। খাদ্যপণ্য, জ্বালানি, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা- এমন কোনো খাত নেই যেখানে মূল্যবৃদ্ধির ছাপ পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সীমিত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ- দিনমজুর, রিকশাচালক, গার্মেন্টসকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীরা।
২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে। যেখানে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করেছে। তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও স্থিতিশীলতা আনার প্রক্রিয়াটি চ্যালেঞ্জিং ছিল। যা জনগণের আকাক্সক্ষার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। অবশ্য কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল করতে সক্ষম হয়েছে। আবার কিছু বিশ্লেষণে সংস্কার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির কারণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার কথা বলা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে ৯ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করছে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি অনেক সময় ১০ শতাংশেরও বেশি ছিল। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি একটি উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি, যা সরাসরি দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে আঘাত করে। মূল্যস্ফীতির সবচেয়ে বড় চাপটা পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর। এই শ্রেণির মানুষ সাধারণত কোনো সরকারি সহায়তার আওতায় পড়ে না, আবার খুব দরিদ্র হওয়ায় সামাজিক সহানুভূতিও পান না। মাসের শুরুতেই বেতন হাতে পেয়ে তারা জানেন- এই টাকা মাস শেষ হওয়ার আগেই ফুরিয়ে যাবে। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির বিল, সন্তানের স্কুল ফি, কোচিং খরচ, যাতায়াত ব্যয়- সব মিলিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে সঞ্চয় তো দূরের কথা, অনেক পরিবার ঋণের ফাঁদে পড়ছে।
বিবিএস-এর সর্বশেষ পারিবারিক আয় ও ব্যয় জরিপ বলছে, দেশের একটি বড় অংশের মানুষের মাসিক গড় আয় ১৫-২০ হাজার টাকার মধ্যে। অথচ শহরাঞ্চলে একটি চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম মাসিক ব্যয়ই ২৫-৩০ হাজার টাকার নিচে নামছে না। এই ব্যবধান পূরণ করতে গিয়ে পরিবারগুলো বাধ্য হচ্ছে- সঞ্চয় ভাঙতে, ঋণ নিতে কিংবা খাদ্য ও স্বাস্থ্য ব্যয় কমাতে। বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আয়ের তুলনায় ২-৩ গুণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
অনেকে মনে করেন মূল্যস্ফীতির চাপ শহরকেন্দ্রিক, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। গ্রামেও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কৃষি উপকরণের খরচ বেড়েছে, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়েছে। কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেলেও বাজারে ভোক্তা দামে তেমন স্বস্তি নেই। ফলে উৎপাদক ও ভোক্তা- দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তথ্য বলছে বাড়ি ভাড়া, পরিবহন ও খাদ্যব্যয় একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ শহর ছেড়ে বস্তি বা শহরতলিতে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শহরের সামাজিক ভারসাম্য ও শ্রমবাজারেও প্রভাব পড়ছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ পরিবারে সবচেয়ে বেশি পড়ে নারীদের ওপর। সংসার সামলানোর দায়িত্বে থাকা নারীরা প্রতিদিনই হিসাব কষছেন- কীভাবে কম খরচে রান্না করা যায়, কীভাবে সন্তানদের চাহিদা সামাল দেওয়া যায়। অনেক নারী নিজের খাবার কমিয়ে সন্তানকে খাওয়াচ্ছেন, নিজের চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন পরিবারের অন্যদের জন্য। শিশুরাও এই সংকটের নীরব শিকার। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের কাজে নামতে হচ্ছে পরিবারের আয়ে সাহায্য করার জন্য। কোথাও কোচিং বন্ধ, কোথাও স্কুল ছেড়ে দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে অভিভাবকদের। মূল্যস্ফীতি এক গভীর মানসিক চাপের নামও। প্রতিদিনের খরচ মেটাতে না পারার উদ্বেগ মানুষের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। পারিবারিক কলহ বাড়ছে, সামাজিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ সহজে রেগে যাচ্ছে, সহনশীলতা কমে যাচ্ছে-যার প্রভাব সমাজের সামগ্রিক পরিবেশে পড়ছে।
আমি মনে করি, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। মূল্যস্ফীতির এই চাপ মোকাবিলা করা মানে শুধু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা নয়, বরং সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার রক্ষা করা। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ একা লড়াই করে টিকে থাকতে পারে না। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো।
সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে হলে সরকারের করণীয় হতে হবে বাস্তবভিত্তিক, সমন্বিত এবং দ্রুত কার্যকরযোগ্য। মূল্যস্ফীতি কেবল বাজারের সমস্যা নয়; এটি সরবরাহ, নীতি, রাজস্ব ও সামাজিক সুরক্ষার সম্মিলিত চ্যালেঞ্জ। তাই একক কোনো পদক্ষেপে নয়, বরং বহুমুখী উদ্যোগেই এই চাপ কমানো সম্ভব।
প্রথমত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। চাল, তেল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি- এসব পণ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যারা দাম বাড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অভিযান নয়, বাজারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল মনিটরিং, মজুত তথ্য প্রকাশ এবং সরবরাহ চেইন ট্র্যাকিং জোরদার করা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, সরবরাহ বাড়ানো ও আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যে সময়মতো আমদানি নিশ্চিত না হলে বাজার অস্থির হয়। শুল্ক ও কর কাঠামো সাময়িকভাবে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে এনে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কৃষক ও উৎপাদকদের প্রণোদনা দিতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমে।
তৃতীয়ত, কৃষি খাতে ব্যয় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। সার, বীজ, সেচ ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখলে উৎপাদন খরচ কমবে, যা সরাসরি বাজারদামে প্রতিফলিত হবে। কৃষক যদি ন্যায্যমূল্য পান এবং উৎপাদন ব্যয় সহনীয় থাকে, তাহলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
চতুর্থত, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি। বর্তমান ভাতা ও সহায়তার অঙ্ক অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব ব্যয়ের তুলনায় অপ্রতুল। মূল্যস্ফীতির হার অনুযায়ী ভাতা সমন্বয় এবং উপকারভোগী নির্বাচন আরও লক্ষ্যভিত্তিক করলে নিম্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ মধ্যবিত্ত শ্রেণি কিছুটা স্বস্তি পাবে।
পঞ্চমত, মজুরি ও বেতন কাঠামোতে বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন অপরিবর্তিত থাকলে প্রকৃত আয় কমে যায়। সরকারি ও বেসরকারি খাতে ন্যূনতম মজুরি ও বেতন পুনর্বিবেচনা করা না হলে ভোগ সংকোচন বাড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ ছাড়া মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় অপরিহার্য। অতিরিক্ত ঋণ সম্প্রসারণ বা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেয়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভারসাম্য আনতে হবে- যাতে একদিকে বাজার স্থিতিশীল থাকে, অন্যদিকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
পরিশেষে বলবো, মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো শুধু অর্থনৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বও। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন সরকারের সক্রিয় ও মানবিক ভূমিকা অনিবার্য। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক নীতি, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই চাপ থেকে মানুষকে স্বস্তিদেওয়া সম্ভব। কারণ মানুষ চায় ভাত-কাপড়। মানুষ চায় নিরাপত্তা, মানুষ চায় একটু স্বস্তির জীবন।
সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ গড় মাথাপিছু আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কিছু অগ্রগতি দেখালেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে যাচ্ছে। এই সত্যকে মেনে আমাদেরকে সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রেই আরও কঠোর, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। মনে রাখা দরকার, অর্থনীতি শুধু নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়, এটি মানুষের জীবনের মান নির্ধারণেরও বিষয়। তাই মানুষের জীবনকে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে উচ্চ মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এই ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংকট শুধু আজকের সুসময়ের দিকে আঘাত করবে না- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নকেও বিপন্ন করবে।
লেখক : কলাম লেখক ও শিল্প-উদ্যোক্তা।












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি থেকে বহিষ্কার মুন্সী
কুমিল্লায় শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ হাজার সদস্য
কুমিল্লায় পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলো র‌্যাব
জনগণ ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে রায় দেবে -দ্বীন মোহাম্মদ
একুশে বইমেলা শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
কুমিল্লায় শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৬ হাজার সদস্য
বিএনপি থেকে বহিষ্কার মুন্সী
কুমিল্লায় পুকুর সেঁচে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করলো র‌্যাব
আওয়ামী লীগের নিরপরাধ নেতা কর্মীদের প্রতি উদার হতে হবে
ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২