
টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে থেকে আইসিসির
সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। কদিন আগে সশরীরে
বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করতে ঢাকায় এসেছিলেন আইসিসি দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের
প্রধান এন্ড্রু এফগ্রেভ। আজ (বুধবার) সভায় আইসিসির প্রধান জয় শাহের সঙ্গে
সব পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বাংলাদেশের জন্য সুখকর অভিজ্ঞতা
হয়নি। ভোটাভুটিতে অধিকাংশই তাদের ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে
ছিলেন।
আইসিসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই বৈঠকে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল
ইসলাম, বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিত সাইকিয়া, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের
প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসীন নাকভি, ক্রিকেট
অস্ট্রেলিয়া চেয়ারম্যান মাইক বেয়ার্ড, ক্রিকেট নিউজিল্যান্ডের রজার টাওসেসহ
জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও
আফগানিস্তানের বোর্ড প্রতিনিধি ছিলেন।
বাংলাদেশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায়
তাদের সরাসরি আইসিসি বাদ দিতে পারতো না। তাই বোর্ড সদস্যদের ভোটাভুটির
সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে অধিকাংশ বোর্ডের ভোট পড়েছে আইসিসির পক্ষে- মানে
খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে। এজন্য দেশের সরকারের সঙ্গে বিসিবিকে
আলোচনা করতে বলেছে আইসিসি। তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে সময় দিয়েছে ২৪ ঘণ্টা।
এরপরও যদি বিসিবি ভারতে না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে থাকে,
তাহলে ইউরোপিয়ান কোয়ালিফায়ারে নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও জার্সির পরে থেকে
বিদায় নেওয়া স্কটল্যান্ডকে ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে সুযোগ
দেওয়া হবে বিশ্বকাপে খেলার।
এর আগে খবর ছড়ায়, বাংলাদেশের অবস্থানের
পক্ষে আইসিসির কাছে চিঠি দিয়েছিল পিসিবি। এমনকি তারা বাংলাদেশের বিশ্বকাপের
ম্যাচগুলোও আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, উপস্থিত
১৫ বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে কেবল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট
পড়েছে। কিন্তু বাকিরা ছিল অন্যদিকে। তাতে আইসিসির সভা ও ভোটাভুটির পর
বাংলাদেশের সব আশাই শেষ হয়ে গেল। এখন তারা ভারতের বিমান ধরবে নাকি দর্শক
হয়ে থাকবে, সেটা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানাতে হবে।
বাংলাদেশের পেসার
মুস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের আইপিএল
স্কোয়াড থেকে বাদ দেয়। তারপর ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা
করে আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে
তারা ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে দল পাঠাবে না। তারপর থেকে অনিশ্চয়তার বেড়াজালে
ছিল বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত। প্রায় তিন সপ্তাহ পর আইসিসি
তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল।
আইসিসি সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৬ জন
সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই বিসিবির ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধের বিপক্ষে ভোট
দিয়েছেন। আইসিসি সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই এই তথ্য জানিয়েছে, ‘সব সদস্যের
মধ্যে কেবল বিসিবি ও পাকিস্তান স্থানান্তরের অনুরোধের পক্ষে ভোট দিয়েছে,
যেখানে অন্য সবাই এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। বাংলাদেশকে তাদের অংশগ্রহণ
নিশ্চিত করার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু
আইসিসি বোর্ড তাদের অবস্থান জানানোর জন্য আরও একদিন সময় দিয়েছে।’
বাংলাদেশ
পড়েছে সি গ্রুপে। যেখানে কলকাতায় প্রথম তিন ম্যাচ তারা খেলবে ওয়েস্ট
ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে। নেপালের বিপক্ষে তারা শেষ ম্যাচ খেলবে
মুম্বাইয়ে।
