ভেনেজুয়েলার
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযানে শক্তিশালী
রহস্যময় অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল মার্কিন বাহিনী। এতে অনেকের ‘নাক দিয়ে রক্ত
ঝরে’, কারও কারও ‘রক্তবমি’ হয়। আর তাতেই কাবু হয় মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা
বিশাল বাহিনী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট হওয়া ভেনেজুয়েলার
প্রত্যক্ষদর্শী এক নিরাপত্তারক্ষীর বর্ণনা তুলে ধরে এ খবর জানিয়েছে, ‘দ্য
ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকা। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট
গত শনিবার এক্সে এই নিরাপত্তারক্ষীর বিবরণ শেয়ার করেন।
সেখানে চমকে
দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই নিরাপত্তারক্ষী বর্ণনা করেন, কীভাবে আমেরিকান
বাহিনী নিজেদের একটি সেনাও না খুইয়ে শত শত সেনাকে কাবু করে ফেলেছে এমন এক
প্রযুক্তি ব্যবহার করে যা কখনও তিনি দেখেননি বা শোনেননি।
ওই রক্ষীর
কথায়, “সামরিক অভিযান হওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু টের পাওয়া যায়নি। আমরা পাহারায়
ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার
আগেই আকাশে একের পর এক ড্রোন দেখা যায়। ঝুঁকে ঝাঁকে ড্রোন আমাদের অবস্থানের
ওপর দিয়ে উড়তে শুরু করে। আমরা কী করব বুঝতে পারছিলাম না।”
“কয়েক
মুহূর্ত পরেই কয়েকটি হেলিকপ্টার আসে। ৮ টির মতো হেলিকপ্টার। সেই কপ্টারগুলো
থেকে ২০ জন মতো মার্কিন সেনা নেমে এসেছিল। তাদের হাতে বন্দুকের চেয়েও
শক্তিশালী কোনও অস্ত্র ছিল।”
নিরাপত্তারক্ষী বলেন, “তাদের (মার্কিন
সেনা) কাছে এমন কোনও উন্নতি প্রযুক্তি ছিল যা আগে কখনও দেখিনি বা শুনিনি।
তাদের কাছে এমন কিছু ছিল, যা আমরা আগে কখনও মোকাবেলা করিনি।”
এরপরের ঘটনাকে তিনি লড়াই নয়, বরং নির্মম হত্যাযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী
এই নিরাপত্তারক্ষীর দাবি, ‘‘প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক
সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু আমাদের কিছু করার সুযোগই ছিল না। তারা নিখুঁত
নিশানা এবং ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গুলি চালাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন, প্রতিটি
মার্কিন সেনা মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ছুড়ছে।”
তারপরেই সেই রহস্যময় অস্ত্রের হামলা হয়, যার ভয়াবহতা তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিরাপত্তারক্ষী
বলেন, “এক পর্যযায়ে তারা (মার্কিন সেনা) কিছু দিয়ে হামলা চালাল। আমি
জানিনা সেটাকে কীভাবে বর্ণনা করব। জোরাল একটি আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। এতটাই
জোরাল যে, মনে হচ্ছিল আমার মাথা ভেতর থেকে ফেটে বেরুবে।”
“এরপর সঙ্গে
সঙ্গেই যা হল তা ভয়াবহ। আমাদের সবার নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করল। কেউ কেউ
রক্ত বমি করতে লাগল। আমরা মাটিতে পড়ে গেলাম। নড়াচড়া করার শক্তি ছিল না। ওই
সনিক অস্ত্র বা সেটি যাই হয়ে থাকুক, সেই অস্ত্রের হামলার পর আমরা আর উঠেও
দাঁড়াতে পারিনি।”
নিরাপত্তারক্ষীর এই বিবরণ হোয়াইট হাউজের প্রেস
সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্স শেয়ার করে লিখেছেন, “আপনি যা করছেন সেটি
থামান, আর এটি পড়ুন।”
লেভিট নিরাপত্তারক্ষীর এই বিবরণ এক্সে পোস্ট করে
ট্রাম্প প্রশাসনের এসব দাবি যাচাই-বাছাই করে দেখার ইঙ্গিত দিলেন কিনা- সে
বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি।
ভেনেজুয়েলার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের গত ৩ জানুয়ারির অভিযানে
ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর আনুমানিক ১০০ সদস্য নিহত হয়েছে। তবে এসব
মৃত্যুর ঘটনা রহস্যময় অস্ত্র প্রয়োগে ঘটেছে কিনা সেটি স্পষ্ট নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের
সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাকে বলেছেন, মার্কিন
বাহিনীর হাতে বহু বছর ধরেই নির্দেশিত শক্তি অস্ত্র (এনার্জি ওয়েপন) আছে।
তবে ভেনেজুয়েলায় তা ব্যবহার হয়ে থাকলে এটিই হবে কোনও লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের
এই অস্ত্রের প্রথম ব্যবহার।
এ ধরনের অস্ত্র লেজার, মাইক্রোওয়েভ, কণা
রশ্মি বা শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে পারে। এই অস্ত্র
প্রয়োগে রক্তপাত, নড়াচড়া করতে না পারা, ব্যথা এবং জ্বলার মতো উপসর্গও হতে
পারে।
