নিজস্ব
প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে
আপিল শুনানির প্রথম দিনেই কুমিল্লার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার
প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বাছাইয়ে
বাতিল হওয়া আরেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে
নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে কুমিল্লা-১
(দাউদকান্দি-মেঘনা) ও কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসনের তিন
প্রার্থীর দাখিল করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন কুমিল্লা-১ আসনের
জাসদ প্রার্থী বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ
আল মাহমুদ এবং কুমিল্লা-৯ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আবদুল হক আমিনীর
আপিল শুনানি হয়। শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন কুমিল্লা-১ আসনের জাসদ
প্রার্থী বড়ুয়া মনোজিত ধীমন ও কুমিল্লা-৯ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী
আবদুল হক আমিনীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে। অপরদিকে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ১
শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কুমিল্লা-১ আসনের স্বতন্ত্র
প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে
নির্বাচন কমিশন।
কুমিল্লা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ
হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার কুমিল্লা-১ ও ৯ আসনের তিন
প্রার্থীর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষে দুই প্রার্থীর
প্রার্থিতা বৈধ ও একজনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও
জানান, রোববার নির্বাচন কমিশনে কুমিল্লা-১, কুমিল্লা-৬ ও কুমিল্লা-৮ আসনের
আরও তিন প্রার্থীর আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এসব প্রার্থীরা হলেন
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী সৈয়দ মো.
ইফতেকার আহসান, কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বাসদ প্রার্থী কামরুন নাহার সাথী
এবং কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বাসদ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আশরাফ।
সূত্র
মতে, কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসন থেকে মনোনয়ন বাতিল ও বৈধতার বিরুদ্ধে মোট
২৪টি আপিল দাখিল জমা পড়েছে। শুক্রবার ৯ জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে
এনসিপির মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসানাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) এর মনোনয়ন
বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল
আহসান মুন্সী। এদিন কুমিল্লা-৬ সদর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির
প্রয়াত চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিনের মনোনয়ন বৈধতার
বিরুদ্ধে আপিল করেন একই আসনের বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী।
অন্যদিকে
হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন রাখার অভিযোগে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই)
আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে
নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ
সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কাজী নুর আলম সিদ্দিকী।
কুমিল্লার ১১ টি আসনের
বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন বাতিল এবং বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন
কমিশনে আপিল দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনের বিএনপির
মনোনীত প্রার্থী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনের
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর, কুমিল্লা-৬ সদর আসনের
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদার প্রার্থিতার বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল
জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে ঋণখেলাপির তথ্য
গোপন, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ সহ আরো নানা অভিযোগ।
এদিকে
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ৩ মুরাদনগর আসনের জামায়েত মনোনীত
প্রার্থী ইউসুফ সোহেল, কুমিল্লা- ৯ লাকসাম মনোহরগঞ্জ আসনের স্বতন্ত্র
প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা, কুমিল্লা-৬ সদর আসনের বাসদের প্রার্থী কামরুন
নাহার সাথী, একই আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হারুনুর রশিদ, কুমিল্লা-৪
আসনের ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল করিম ও কুমিল্লা১০ আসনের স্বতন্ত্র
প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
