সোমবার ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৯ পৌষ ১৪৩২
সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে নয়: হাইকোর্ট
প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ এএম |


কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি (আরবিট্রেশন) কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না- এমন বিধান বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রায় দেন। সম্প্রতি রায়টি প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান।
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর রিট করা হয়।
তখন আইনজীবী ইশরাত জানিয়েছিলেন, এখানে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যে ইসলামিক আইন দেখিয়ে বলছে যে চারজন স্ত্রী রাখতে পারবে, সেখানে ইসলামে বলা হয়েছে, সবার প্রতি সমানভাবে সুবিচার করতে হবে। এখানে শুধু ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করা যাবে না। শুধু বিয়ে করতে পারবে, ওই অংশটুকু নিলে হবে না। সবার প্রতি কীভাবে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে সেই শর্ত রাখতে হবে। টাকা দিচ্ছে কি না, আদৌ তার বিয়ে করার আর্থিক সঙ্গতি আছে কি না, এগুলো দেখার সুযোগ চেয়ারম্যানের (কাউন্সিলের) নেই। মালয়েশিয়ায় আদালতের মাধ্যমে হয়, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে নয়। আদালত সমন দেন, সাক্ষীদের ডাকেন। বিয়ের যে কারণ উল্লেখ করেন, সেটি সত্য কি না তা যাচাই করেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের যাচাই করার সুযোগ নেই। এছাড়া চেয়ারম্যান যদি বিয়ে করতে চান তাহলে তো তিনি নিজেকে নিজে অনুমতি দিতে হবে।
এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি রুল জারি করেন। রুলে পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহৎ স্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে স্ত্রীদের মধ্যে সম-অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া আইন অনুসারে বহুবিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না তাও জানতে চান হাইকোর্ট। আইন মন্ত্রণালয়ে দুই সচিব ও ধর্ম সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
ওই রুলের শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ইশরাত। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন বলে উল্লেখ করেন।
ইশরাত বলেন, ‘একজন পুরুষের চার স্ত্রী রাখার স্বীকৃতি মুসলিম পারিবারিক আইনে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার ও সম-অধিকার নিশ্চিত না করেই আইনে বহুবিবাহের বিধান রাখা হয়েছে। বিয়ে বলবৎ অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি নিয়ে আরেকটি বিয়ে করা যায়। তবে স্ত্রীর ভরণপোষণসহ অন্য প্রমাণাদি যাচাই ও খোরপোষের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সালিশি কাউন্সিলের নেই। এতে নারীর সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই আমরা রিটটি করেছিলাম। আদালত রায়ে প্রচলিত আইনের বাইরে কোনো আদেশ দেননি।’












http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
একমাসে কুমিল্লার সড়কে ঝরেছে ২২ জনের প্রাণ
কুমিল্লা নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধের পায়তারা
চুরি-দুনীর্তি করার চেয়ে ভোট ভিক্ষা করা সম্মানের- হাসনাত আবদুল্লাহ
খেলার মাধ্যমে জাতীয়তা বন্ধুত্ব আত্মীয়তা বোধ বজায় থাকে - কাজী নাহিদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন কুমিল্লার দুইজন, বাতিল ১
কাগজে-কলমে ওষুধ থাকলেও বাস্তবে নেই
সবাই সচেতন হলে এদেশে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না
লালমাইয়ে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি বিক্রি, ট্রাক্টর জব্দ
উদ্বোধন বেবিস্টেন্ডে চাঁদা বন্ধ হবে- দ্বীন মোহাম্মাদ
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২