
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের
মঞ্চে মোহাম্মদ সালাহ যেন নতুন করে নিজের রাজত্বের ঘোষণা দিলেন। শনিবার (১০
জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার-ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন
আইভরি কোস্টকে ৩-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে মিসর। সেই সঙ্গে আফকন
ট্রফির আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেলেন লিভারপুল তারকা সালাহ।
ম্যাচে
মিসরের হয়ে গোল করেন সালাহ নিজে, ওমর মারমুশ ও রামি রাবিয়া। অন্যদিকে আইভরি
কোস্টের হয়ে একটি আত্মঘাতী গোল আসে মিসর ডিফেন্ডার আহমেদ আবুল-ফেতুহর পা
থেকে। আর শেষদিকে গুইলা দুয়ে একটি গোল শোধ দেন। তবে তাতে চ্যাম্পিয়নদের
বিদায় ঠেকানো যায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মিসর। কিক-অফের মাত্র
তিন মিনিট দুই সেকেন্ডের মাথায় (১৮২ সেকেন্ড) লিড পেয়ে যায় তারা। আইভরি
কোস্ট মাঝমাঠে বল হারালে ইমাম আশুরের দারুণ পাসে সুযোগ পান ম্যানচেস্টার
সিটি ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। ডিফেন্ডার ওডিলন কসুনুর পা হড়কে যাওয়ার সুযোগ
কাজে লাগিয়ে গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানাকে পরাস্ত করেন মারমুশ।
৩২ মিনিটে
ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর। মোহাম্মদ সালাহর নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত
হেডে গোল করেন সেন্টার-ব্যাক রামি রাবিয়া। ইব্রাহিম সাঙ্গারের ওপর দিয়ে
লাফিয়ে ওঠা রাবিয়ার লুপিং হেড ফোফানার নাগালের বাইরে চলে যায়।
তবে
বিরতির আগে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আইভরি কোস্ট। ৪০ মিনিটে ১৯ বছর বয়সী
আরবি লাইপজিগ ফরোয়ার্ড ইয়ান দিয়োমান্দের ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হয় জটলা। কসুনু
হেড করলে বলটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে আহমেদ আবুল-ফেতুহর শরীরে লেগে জালে জড়িয়ে
যায়। আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমে আসে ২-১।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আবারও
ব্যবধান বাড়ান সালাহ। বিরতির সাত মিনিট পর বাঁ দিক থেকে বল কেড়ে নিয়ে নিচু
ক্রস বাড়ান ইমাম আশুর। ঘন চাপের মধ্যেও গিসলেন কোনোয়ানকে ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত
ফিনিশে বল জালে পাঠান সালাহ। এই গোলের মধ্য দিয়ে আফকনে নিজের প্রথম
শিরোপার স্বপ্নকে আরও বাস্তবের কাছে টেনে নেন ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।
৭৩
মিনিটে আইভরি কোস্ট আবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কর্নার ঠিকমতো ক্লিয়ার
করতে ব্যর্থ হয় মিসর। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ৩৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক মোহাম্মদ
এল শেনাওয়িকে পরাস্ত করেন গুইলা দুয়ে। শেষদিকে চাপ বাড়ালেও আর সমতা ফেরাতে
পারেনি ‘এলিফ্যান্টস’রা।
এই জয়ে সেমিফাইনালে উঠে বুধবার সেনেগালের
মুখোমুখি হবে মিসর। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল চার দিন পর ফাইনালে খেলবে
স্বাগতিক মরক্কো অথবা নাইজেরিয়ার বিপক্ষে।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মিসর
কোচ হোসাম হাসান বলেন, “আমি খেলোয়াড়দের অনেক ধন্যবাদ জানাই। তারা
সত্যিকারের মিসরীয়। নিজেদের মানুষের আনন্দের জন্য লড়াই করে। এই সাফল্য
পুরোপুরি খেলোয়াড়দের। বিশেষ করে সালাহ ও মারমুশের, যারা সামনে থেকে দলকে
নেতৃত্ব দিয়েছে।”
এই জয় আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আফকনে মিসরের ঐতিহাসিক
আধিপত্য আরও দৃঢ় করল। গত ৫৬ বছরে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে বহুবার। এর মধ্যে
মিসর জিতেছে ১১ বার, আর আইভরি কোস্টের জয় মাত্র একবার। একই সঙ্গে আইভরি
কোস্ট হলো টানা অষ্টম চ্যাম্পিয়ন দল, যারা শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো।
২০১০ সালে মিসরের পর আর কেউ এই কীর্তি গড়তে পারেনি।
ক্লাব ফুটবলে
প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ; সবই
জিতেছেন সালাহ। কিন্তু আফ্রিকার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি এতদিন অধরাই ছিল।
২০১৭ সালে ক্যামেরুন ও ২০২১ সালে সেনেগালের কাছে ফাইনালে হেরে রানার্সআপ
হতে হয়েছিল তাকে।
এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ। আর মাত্র দুটি
ম্যাচ; সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পেরোতে পারলেই রেকর্ড অষ্টমবারের মতো আফকন
শিরোপা উঠতে পারে মিসরের হাতে। আর পূরণ হতে পারে মোহাম্মদ সালাহর বহুদিনের
স্বপ্ন।
