রোববার ১১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম |

 আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ রাখা হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ। সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন-সবাই এর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচনে যারা মূল ভূমিকা রাখবেন সেই ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে উদ্বেগ; তারা সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত। এই উদ্বেগ নির্বাচন কমিশনকে যে সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে, তা তাদের বাজেট বরাদ্দ থেকেও বোঝা যায়। এবার দুটি নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। একটি জাতীয় নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। এই দুটি নির্বাচনের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক এই বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাজেটের বড় অংশ, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি, দুই ভোটের আয়োজন, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার বিস্তৃতিকে কেন্দ্র করে তাদের বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে। রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই খাতে ব্যয় হতে পারে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বরাদ্দ আগের যেকোনো নির্বাচনি বাজেটের তুলনায় বেশি।
ভোটার সংখ্যা ও কেন্দ্র বৃদ্ধি, নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে বাহিনী মোতায়েন, বাহিনীর সদস্যদের সম্মানী ও ভাতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের সার্বিক ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি কারণে আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় বেড়েছে। 
ব্যয়বৃদ্ধির পরও নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কেউই তার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। বরং শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে চোরাগোপ্তা হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও নাশকতার আশঙ্কা দিন দিন প্রবল হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন আশঙ্কার কথা বলছে। যানবাহন এবং নির্বাচনি কাজে ব্যবহার হওয়া স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হতে পারে, এমন আভাসও পেয়েছে পুলিশ। গত মাসের মাঝামাঝি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে। আবার মাঠপর্যায় থেকেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এমন আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিজেদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করেছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নিয়ে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে থানা থেকে লুট হওয়া ১৫ শতাংশ অস্ত্র ও ৩০ শতাংশ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। নির্বাচনের আগে এসব উদ্ধার করা জরুরি। সীমান্তের ওপর থেকেও দেশের ভেতরে অস্ত্র ঢুকিয়ে ফেললে খুঁজে পাওয়া সহজ হয় না বলে জানিয়েছেন তিনি। 
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীতে দিনের বেলায় সম্ভাব্য একজন প্রার্থীকে গুলির ঘটনায় নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠা চরমে ওঠে। এর পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কেউ যাতে নির্বাচনি পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেটা নিশ্চিতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।’ কিন্তু তার এই হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। মব-সন্ত্রাস, পিটিয়ে মেরে লাশে আগুন দেওয়া, খুন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দিন দিন বাড়ছে। অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, জনমনে এমন শঙ্কা রয়ে গেছে। দেশজুড়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলা অবস্থাতেও সরকার এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছু করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি শুধু আসন্ন নির্বাচন নয়, জনজীবনেও উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে।
পরিস্থিতি যদি এমন চলতে থাকে তাহলে নির্বাচনি প্রচারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যেতে পারবেন না। ভোটাররাও নিরাপদ বোধ না করলে ভোটের হারে তা প্রতিফলিত হবে। সার্বিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ না হলে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না। নির্বাচন কমিশনের বড় বাজেট নয়, সবার আগে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো। সাধারণ সময়ের তুলনায় নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সরকারকে তাই এ দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে। যেভাবেই হোক সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির কোনো বিকল্প নেই।













http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
সবাই সচেতন হলে এদেশে স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিতে পারবে না
আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন কুমিল্লার দুইজন, বাতিল ১
কাগজে-কলমে ওষুধ থাকলেও বাস্তবে নেই
উদ্বোধন বেবিস্টেন্ডে চাঁদা বন্ধ হবে- দ্বীন মোহাম্মাদ
কুমিল্লা দারুস্সুন্নাত দ্বীনিয়া একাডেমীর অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
‘দুর্ঘটনার আগে বাস চালকের সঙ্গে যাত্রীদের ঝগড়া হয়’
তরুণদের ভাবনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে হাজী ইয়াছিনের সেমিনার
দগ্ধ ৪ জনের মৃত্যু
বুড়িচংয়ে নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যা
বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২