
ঘটনাবহুল
এক ম্যাচ দেখল ফুটবলপ্রেমীরা। হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি, দুই লাল কার্ড, তিন
জনের হ্যাটট্রিক, ২৩ গোল-কী ছিল না ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও কাচারিপাড়া
একাদশের মধ্যকার ম্যাচে!
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রোববার উইমেন’স ফুটবল লিগের ম্যাচটি ২৩-০ গোলে জিতেছে ফরাশগঞ্জ।
ছয়টি করে গোল করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা। হ্যাটট্রিক করেছেন তহুরা খাতুন।
এছাড়া
শামসুন্নাহার সিনিয়র ও বিপাশা আক্তার তৃষা দুইবার করে এবং মনিকা চাকমা,
সমীক্ষা ঘিমিরে, প্রীতি ও অনামিতা ত্রিপুরা একবার করে জালের দেখা পান।
মাঠের
লড়াইয়ে উত্তাপের ছিটেফোঁটাও ছিল না। তবে একপেশে ম্যাচটি চরম উত্তপ্ত হয়ে
ওঠে ২১তম মিনিটে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে কাচারিপাড়ার সাবিত্রি ত্রিপুরা ও
ফরাশগঞ্জের পুজা রানার সংঘর্ষ হয়। পুজা ব্যথা পেলেও পরিস্থিতি তখন শান্ত,
খেলাও শুরু হয়।
এরপরই মনিকা চাকমাকে পেছন থেকে ফাউল করেন সাবিত্রি। পড়ে
যাওয়া মনিকা উঠে দাঁড়িয়েই ধাক্কা দেন সাবিত্রিকে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হয়
হাতাহাতি, এরপর দুই দলের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি। খেলা হয়ে যায়
বন্ধ।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর রেফারি লাল কার্ড দেখান মনিকা ও
কাচারিপাড়ার শেখ সামিয়া আক্তারকে। ফরাশগঞ্জের মারিয়া মান্দাকে দেখান হলুদ
কার্ড। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তোষ জানায় ফরাশগঞ্জ। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত
বদলায়নি। তখন অবশ্য ফরাশগঞ্জ ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে।
রেফারির ওই
সিদ্ধান্তের সময়ই দেখা যায় সামিয়াকে হতাশা প্রকাশ করতে। রেফারি তাকে কেন
লাল কার্ড দিলেন, তা বুঝতে না পারার দৃশ্য ফুটে উঠছিল তার অঙ্গভঙ্গিতে। মাঠ
ছেড়ে চলেও যান তিনি। পরে অবশ্য রেফারি সিদ্ধান্ত বদলান, সামিয়াকে মাঠে
ফিরিয়ে হাতাহাতির সঙ্গে জড়িত সাবিত্রিকে দেন লাল কার্ড।
প্রায় ২০ মিনিট পর খেলা ফের শুরু হয়। পরে আরও ১৯ বার গোল উৎসব করে বিশাল জয় তুলে নেয় ফরাশগঞ্জ।
