
খারাপ
আবহাওয়া, আরেকটি ড্রয়ের আশঙ্কা এবং আর্থিক ক্ষতির ভয় থেকেই ১৯৭১ সালে
আজকের এই দিনে জন্ম নেয় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের। পরিকল্পিত
কোনো উদ্যোগ নয়, বরং পরিস্থিতির চাপে তৈরি হয়েছিল ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয়
ফরম্যাটটি।
১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটিই ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক
ওয়ানডে ম্যাচ। অথচ সেসময় কেউ ভাবেনি, একদিন এই ম্যাচই ক্রিকেটের ধারা বদলে
দেবে।
টেস্ট বাতিল, বিকল্পের খোঁজ
খারাপ আবহাওয়ার কারণে
ভেস্তে যায় ১৯৭১ সালের অ্যাশেজের প্রথম দুই ম্যাচ। সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি
হওয়ার কথা ছিল মেলবোর্নে। কিন্তু টানা বৃষ্টি আর শীতল আবহাওয়ার জন্য প্রথম
দুই দিন পরিত্যক্ত হয়। বৃষ্টি বাগড়ায় তৃতীয় দিনেও খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে
বাতিল হয়ে যায় এই ম্যাচটিও।
এই একটি ম্যাচ বাতিল হওয়ার কারণে
মেলবোর্নের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮০ হাজার পাউন্ড। ক্ষতির পরিমাণ
কমানো ও দর্শকদের জন্য কিছু একটা আয়োজন করার লক্ষ্যে দুই বোর্ডের সমর্থনের
একটি একদিনের ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইতিহাসের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের স্কোরবোর্ড।
অনিচ্ছার ওয়ানডে
দুই
দেশের ক্রিকেট বোর্ড রাজি থাকলেও তখনও ওয়ানডে ক্রিকেটকে পুরোপুরি স্বীকৃতি
দিতে রাজি ছিল না তৎকালীন ক্রিকেটীয় শাসকগোষ্ঠী। তাই দুদলের নাম রাখা হয়
যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া একাদশ ও ইংল্যান্ড একাদশ। শেষ মুহূর্তেই স্পন্সরও
পেয়ে যায় ম্যাচটি। তামাল কোম্পানি রথম্যানসের অর্থায়নে ম্যাচসেরার পুরস্কার
হিসেবে বরাদ্ধা রাখা হয় মাত্র ৯০ পাউন্ড।
তখন এই ম্যাচটিতে অনেকে
গুরুত্বই দেয়নি। পরে অস্ট্রেলিয়ান স্পিনার অ্যাশলে ম্যালেট বলেছিলেন, ‘‘তখন
মনে হয়েছিল এটা একটা মজার খেলা। বহু বছর পর বুঝেছি, সেটাই ছিল ইতহাস।’’
দর্শকদের অবিশ্বাস্য সাড়া
১৯৭১
সালের ৫ জানুয়ারি ছিল মঙ্গলবার। ধারণা করা হয়েছিল, এই ম্যাচে ২০ হাজারের
মতো দর্শক হবে। কিন্তু বাস্তবের চিত্র ছিল পুরোই আলাদা। সেই ম্যাচে উপস্থিত
ছিল মোট ৪৬ হাজার ৬ জন। উপস্থিতির সংখ্যা দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেক
ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও।
ম্যাচ শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট
কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য
দেন। পরে দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনারা ইতিহাসের সাক্ষী হলেন।’’
ম্যাচের ফলাফল
ম্যাচটি
৪০ ওভার করে অনুষ্ঠিত হয়। টস জিতে ইংল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান
অজি অধিনায়ক। ব্যাটিংয়ে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯০ রান তোলে ইংলিশরা।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রানের ইনিংসটি খেলেন জন এডরিচ। বাকি ব্যাটারদের কেউই
নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
রান তাড়া করতে নেমে ৫ ওভার ও ৫
উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। অজিদের হয়ে
সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন ইয়ান চ্যাপেল। আর ৪১ রান করেন ডফ ওয়াল্টার।
১৯৭১
সালের সেই অনিচ্ছাকৃত ম্যাচ থেকেই ওয়ানডে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়। আজ
হাজার হাজার ওয়ানডে, বিশ্বকাপ, সুপারস্টার আর রেকর্ডের পেছনে রয়েছে সেই
দিনের বৃষ্টিভেজা সিদ্ধান্ত। ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্ম হয়েছিল অনেক বাধ্য হয়ে।
কিন্তু সেটা টিকে গেছে ভালোবাসায়।
