
কুমিল্লায়
জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। পৌষ মাসের মাঝামাঝিতে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দিন
দিন বাড়ছে শীতের দাপট। কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায়ও সূর্যের দেখা মিলছে না।
উত্তরের হিমেল হাওয়ায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জুবুথুবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকাল
থেকে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ
করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে
পড়েছেন। শীত নিবারণের জন্য অনেককে দিনের বেলাতেও খড়কুটো ও জ্বালানি
জ্বালিয়ে গা গরম করতে দেখা গেছে।
জেলায় প্রতিদিন তাপমাত্রা গড়ে
সর্বোচ্চ ১৭-১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ১০-১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস
দেখাচ্ছে। ঘনকুয়াশা ভেদ করে সূর্য তার অবস্থান জানান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
সূর্যের তাপমাত্রা না থাকায় শীত যেন শরীরে বিঁধছে। দেশের পূর্বাঞ্চলে এমন
কম তাপমাত্রা খুবই কম দেখেছে এলাকাবাসী।
শীতের কারণে শিশু ও বয়স্কদের
মধ্যে সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে বলে স্থানীয়
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ
বাড়ছে।
শীতের তীব্রতায় সকালবেলা রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। সন্ধ্যারপর প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।
ঘন
কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। রাতের বেলা ঘনকুয়াশায়
সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনাও বেড়েছে। সকাল পর্যন্ত হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে
যানবাহন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।
কুমিল্লা
জেলা আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানান- জেলায়
তাপমাত্রা কম থাকলেও এই আবহাওয়াকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাবেনা। তাপমাত্রার ১০
ডিগ্রির নিচে না নামলে অফিসিয়ালি ভাবে আমরা শৈত্য প্রবাহ বলতে পারি না। এমন
আবহাওয়া আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। তার পরবর্তীতে তাপমাত্রা কিছুটা
বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই
কর্মকর্তা।
চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.
আরিফুর রহমান জানান- ঠান্ডা জনিত সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে রোগী
বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। শীত থেকে রক্ষায়
প্রয়োজনীয় গরম পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতা
অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।
