বেসরকারি
খাতের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
নতুন বছরের প্রথম দিন স্বাভাবিক লেনদেন শুরু করেছে।
আমানতকারীরা এসব ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি জমানো টাকা তুলতেও পারছেন।
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক সোহেলী জামান ব্যাংকের ফোন পেয়ে বৃহস্পতিবার চেকবই নিয়ে ব্যাংকে চলে যান টাকা তুলতে।
প্রথম
দিনে দুই লাখ টাকা তুলতে পেরেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “গত এক মাসে তো কোনো
টাকা তুলিনি। যারা গত নভেম্বর থেকে কোনো টাকা তোলেননি তাদেরকে দুই লাখ টাকা
করে তুলতে দিয়েছে।”
আসলেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতেই এদিন ব্যাংকে গিয়েছিলেন বলে জানান এ গ্রাহক।
দীর্ঘ
দিন নিজেদের ব্যাংক হিসাব থেকে চাহিদা মত টাকা তুলতে না পারেননি এসব
ব্যাংকের গ্রাহকরা। আবার কয়েকটি ব্যাংক আমানতকারীদের কোনো টাকাই তুলতে
দেয়নি।
আর্থিক সংকট ও অব্যবস্থাপনায় জেরবার হওয়া শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি
এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক,
ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক একীভূত (মার্জ) করে গঠিত হয়েছে
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। অনেক শাখার সাইনবোর্ড ইতোমধ্যে পাল্টে ফেলা
হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর ব্যাংকটিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় নিয়ন্ত্রক
সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাংকের মোট ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত
মূলধনের মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার
এক সার্কুলার দিয়ে বলেছে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন স্কিম, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে।
পাঁচ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তারা
ছাড়া অবশিষ্টরা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জনবল হিসেবে কর্মরত থাকবেন।
এর
মাধ্যমে একীভূত করার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এসব
ব্যাংকের আমানতকারীরা দ্রুত আমানত তুলতে পারবেন। পুরনো আমানতের বিপরীতে
সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ও নতুন আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ঋণ নিতে
পারবেন তারা।
এরপর বৃহস্পতিবার থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া
হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রথম দিকে সর্বোচ্চ ২ লাখ
টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। পরের তিন মাসে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১
লাখ টাকা করে তুলতে পারবেন আমানতকারীরা।
তবে নতুন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায়
টাকা তুলতে একটু সময় লাগছে প্রতিবারই। যারা গত এক মাসে অল্প অল্প করে কিছু
হলেও তুলতে পেরেছেন, তাদেরকে পুরো দুই লাখ টাকা দিচ্ছে না কোনো ব্যাংক।
ব্যাংকাররা
জানিয়েছেন, যারা গত কয়েক মাস কোনো টাকাই পাননি বা তোলেননি, তাদেরকে দুই
লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের চাহিদার বিপরীতে কিছুটা কম দেওয়া
হচ্ছে প্রথম দিকে।
ইউনিয়ন ব্যাংকের মতিঝিল শাখার গ্রাহক নূর আলম বলেন, “আমি দেড় লাখ টাকা তুলেছি। অনেকদিন পর টাকা তুললাম।”
তবে এক্সিম ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখায় গিয়ে কোনো টাকা না তুলতে পারার অভিযোগ করেছেন আব্দুল হামিদ।
তিনি
বলেন, “কারওয়ান বাজার শাখায় আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। টাকা তুলতে গিয়েছিলাম
আজকে। ম্যানেজার বললেন, আরো কয়েকদিন সময় লাগবে টাকা দিতে। তারা নাকি এখনো
টাকা পাননি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন
খান বলেন, “প্রথম পর্যায়ে নিজ নিজ ব্যাংকের দেওয়া চেক দিয়েই টাকা তোলা
যাবে। এক পর্যায়ে এসব চেক বাতিল হয়ে যাবে। তখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের
চেক দিয়ে টাকা তুলতে হবে।
