
সাফ
নারী ও পুরুষ ফুটসালের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বিকেল চারটায়। ঘড়ির কাটায়
সাড়ে চারটা বাজার পরও ক্যামেরা একজনের জন্য তাক করা। সাবিনা খাতুন কক্ষে
প্রবেশের পরপরই অসংখ্য ক্লিক। সংবাদ মাধ্যমের সকলের আগ্রহ জাতীয় ফুটবল দলের
সাবেক ও বর্তমান ফুটসাল অধিনায়ক সাবিনা খাতুন।
বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ
করিম সম্ভাষণ পর্বে সরাসরি বলেন, ‘‘সাবিনা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের
কিংবদন্তি। সবাই তার কাছে শোনার অপেক্ষায়।’’
এক বছর পর আবার বাংলাদেশের
জার্সিতে সাবিনা। সেটা ভিন্ন ফরম্যাট হলেও দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে
সন্তুষ্ট তিনি, ‘‘দেশের হয়ে খেলব, সেটা সবসময় গর্বের।’’ এরপর খানিকটা থেমে
গেলেন। মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত এক সময় কথা বললেও অনেক দিন পর প্রশ্নের সম্মুখীন
হয়ে খানিকটা জড়তা। সাংবাদিকেরা এটা মনে করিয়ে দিতেই হাসলেন।
সাবিনার বয়স
ত্রিশের বেশি। পিটার বাটলার তাকে দলে নিচ্ছেন না। সব মিলিয়ে অনেকে তার
ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি দেখছেন। আবার ফুটবল দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন হলে সাবিনা
বলেন, ‘‘আসলে ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিজের নেওয়াই ভালো। এই
জায়গাটাতে আমি একটু পেশাদার যে, আমি কবে ফুটসাল ছাড়ব বা ফুটবল ছাড়ব, সেটা
আমি নিজেই ঠিক করবো।’
‘‘আমি যে এখন ফুটসালে কমিটেড, এরকমও কিছু না।
যেহেতু আমি আগে খেলেছি, আমার অভিজ্ঞতা আছে, আমার জন্য যদি দেশের একটু ভালো
হয় বা আমি যদি বাকি মেয়েদেরকে সমর্থন দিতে পারি, তাহলে কেন যাব না? তাই সেই
জায়গা থেকে এমন ভাবার কিছু নাই যে, সাবিনা আর ফুটবল খেলবে না। ফুটসালেই
থাকবে বা ফুটসাল খেলবে না, আবার ফুটবলে ব্যাক করবে। আমার যেখানে আসলে
প্রয়োজন মনে হবে, যেহেতু দুইটা খেলাই আমি পারি, তাই আমি চেষ্টা করব ওই
জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার।’’
সাংবাদিকরা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে
সাবিনাকে একের পর এক প্রশ্ন করছিলেন৷ তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে উত্তরও দিচ্ছিলেন৷
একপর্যায়ে ফুটসাল কমিটির প্রধান ইমরানুর রহমান অন্যদের প্রশ্ন করতে বললে
খানিকটা সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েন। সাবিনারা ফুটসাল দলে ফিরছে, অনুশীলন
করছে। বাফুফে একদিন অনুশীলন কাভার করার সুযোগ দিয়েছিল এবং সেদিনও
সাংবাদিকদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা ছিল বারণ। মিডিয়ার প্রতি এমন আচরণ
নিয়ে প্রশ্ন হলে ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান বলেন, ‘‘কোচ
নিবিড়ভাবে অনুশীলন করাতে চেয়েছেন। মনোযোগ যেন অন্যত্র না যায়, সেজন্য এ রকম
নির্দেশনা ছিল কোচের।’’
সাবিনা, কৃষ্ণা, সুমাইয়া, মাসুরারা বাটলারের
দলে নেই। ফেডারেশন ও কোচ সুস্পষ্টভাবে কিছু না বললেও শৃঙ্খলা ও কোচের সঙ্গে
দূরত্ব তাদের দলে ডাক না পাওয়ার প্রধান কারণ। ফুটসাল দলের ইরানি কোচ সাঈদ
খোদারাহমিকে নারী ফুটসাল দলে সিনিয়র খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন হলে
তিনি বলেন, ‘‘কোচ সব সময় শ্রদ্ধার। শুধু ট্যাকনিক্যাল বিষয় নয়, খাবার, ঘুম
সব বিষয়ে কোচের পরামর্শ দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে। আমি এই সম্মানটা তাদের কাছ
থেকে পেয়েছি। '
