
বিগ
ব্যাশে রিশাদ হোসেন আজ উইকেট পাননি। পার্থ স্কোরচার্চের বিপক্ষে ৪ ওভারে
৩৫ রান দিয়েছেন হোবার্ট হারিকেনসের এই লেগ স্পিনার। মানে দিনটা আজ রিশাদের
ছিল না, এই তো?
না, বিষয়টা এতটা সরল নয়। বরং পার্থের কাছে হোবার্টের ৪০
রানে হারের ম্যাচে রিশাদ আজ ভালো বোলিং করেছেন বলাই বেশি যুক্তিযুক্ত।
প্রশ্ন হতে পারে, কেন?
হোবার্টে আজ টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে পার্থ
তুলেছে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২২৯ রান। যার অর্থ, ওভারপ্রতি দলটি প্রায় সাড়ে ১১
রান করে তুলেছে। কিন্তু রিশাদের বলে ওভারপ্রতি ৯ রানও নিতে পারেননি
পার্থের ব্যাটসম্যানরা। তাঁর ৪ ওভারে ইকোনমি ৮.৭৫ রান।
পার্থের
ব্যাটসম্যানরা আজ শুরু থেকেই হোবার্টের বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছেন।
পাওয়ারপ্লের প্রথম ৪ ওভারে দলটি তোলে ৪৬ রান। এই ঝড়ের মধ্যে পঞ্চম ওভারে বল
হাতে নিয়ে রিশাদ দেন ৭ রান। পরের ওভারে রিশাদ আরও কৃপণ দেন ৪ রান।
রিশাদ
নিজের প্রথম দুই ওভারে খরচ ১১ রানে আটকে রাখায় পার্থের রান তোলার গতি
কিছুটা আসে। ৭ ওভার শেষে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৬১। তখন উইকেটে ছিলেন
২০ বলে ৩৪ রান করা মিচেল মার্শ, সঙ্গে ৫ রান করা অ্যারন হার্ডি। এর পরের ৩
ওভারে খুব বেশি রান তুলতে পারেননি দুজন। ১০ ওভারে পার্থ তোলে ২ উইকেটে ৮০
রান।
তবে এরপর থেকেই বেধড়ক পিটুনি শুরু করেন মার্শ-হার্ডি। ইনিংসের ১২তম
ওভারে ক্রিস জর্ডানের ওভারে নেন ২৬ রান। রিশাদ এই মার্শ–হার্ডিদের বিপক্ষে
ইনিংসের ১৩ ও ১৬তম ওভারে আবার বোলিংয়ে আসেন। এই ২ ওভারে তিনি ১২ করে
দিয়েছেন মোট ২৪ রান। অথচ এর মাঝে হওয়া ১৪তম ওভারে মিচেল ওয়েন দেন ২২ রান,
১৫তম ওভারে রাইলি মেরেডিথ ১৭। এমনকি রিশাদের চতুর্থ ওভারের পর হোবার্ট
অধিনায়ক নাথান এলিসও দেন ১৪ রান।
মার্শ ও হার্ডি মিলে তৃতীয় উইকেটে ৮৪
বলে গড়েন ১৬৪ রানের জুটি। মার্শ ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করে আউট হন ১০২ রানে।
হার্ডি ৪৩ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১০ ওভারে আজ ১৪৯ রান তুলেছে
পার্থ, যা বিগ ব্যাশে শেষ ১০ ওভারে রান তোলার নতুন রেকর্ড।
পার্থ
ব্যাটসম্যানদের এমন মারকাটারি ব্যাটিংয়ের মধ্যে রিশাদের ৪ ওভারে ৩৫ রানকে
ভালো বলবেন না তো কী বলবেন? হোবার্টের ৪ ওভার বোলিং করা অন্য সবার ইকোনমি
বেশি হওয়াও (জর্ডার ৪১ রান, মেরেডিথ ৬১, এলিস ৪৪) যে কথায় সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তাড়া করতে নেমে রিশাদের দল তুলতে পেরেছিল ১৮৯ রান। রিশাদ ৮ বলে ১০ রান করেছেন।
