
আর কোনদিন শুনবো না শাজু কেমন আছিস ? পোশাকী নাম
মো: ইকরাম হোসেন ডাকনাম রতন। আমাদের প্রিয় রতন ভাই। বাসা দরোগাবাড়ী মসজিদের
পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে। তারা ৪ ভাই সবার বড় শাহজাদা ভাই, তারপর রতন ভাই,
নওশাদ ও দিলশাদ।
স্কুল জীবন থেকে দেখে আসছি এই পরিবারটিকে। এক সময় আমি
৭২-৭৪ পড়ালেখার ফাঁকে হোসেন এন্ড ব্রাদার্স নামে সিমেন্ট, টিন, রড ডিলারের
ম্যানেজার ছিলাম সেই সুবাদে রতন ভাইদের রানীর বাজারস্থ ইকরাম এন্ড ইসমাইল
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার যোগাযোগ ছিল এবং রতন ভাই ও শাহজাদা ভাইদের
কল্যাণে আমি কুমিল্লা চেম্বার অব কমার্স এর প্রতিনিধি হয়ে ছিলাম। তখন
চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি ছিলেন স্কাইল্যাব এর নুরুল হক চাচা। এরা সবাই
আমার চাচা এডভোকেট মীর হোসেন চৌধুরী এমপির বন্ধু ছিলেন। সেই সুবাদে তাদের
আদর, শাসন পেতাম।
রতন ভাই আমাকে ব্যবসা শেখানোর চেষ্ট করে ছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই আমি ব্যবসার থেকে চলে আসি, কারণ এর মারপ্যাচ আমি বুঝতাম
না। আবার পড়ালেখায় মনোযোগী হলাম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে
গেলাম। সে আরেক ইতিহাস। রতন ভাই শাহজাদা ভাইয়ের সাথে প্রতিদিনই দেখাহত কারণ
আমরা এক পাড়ার বাসিন্দা। রতন ভাইয়ের কাছ থেকে আমি পালিয়ে বেড়াতাম। বনেদি
এই পরিবারের সবাই ছিলেন ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা ক্লাবের সদস্য।
বিকেলে দেখতাম এক একদিন একএক ভাই তাদের বাবা আশরাফ হোসেনকে হোন্ডার পেছনে
করে ক্লাবে নিয়ে যাচ্ছেন বন্ধুর মতো।
রতন ভাই কুমিল্লা ক্লাবের মেম্বার
হন ১৯৭১ সালে। ১৯৯২ সালে আমি ক্লাবের মেম্বার হলে তাদের সবাই খুশিহন।
আমাদের যোগাযোগটাও বেড়ে যায়। রতন ভাইকে সবসময় পেতাম বিলিয়ার্ড টেবিলে। তখন
তিনি আমাকে অনুযোগ করে বলতেন শাজু ব্যবসাটা ঠিক মতো ধরে রাখলে এখন ব্যাংকের
চাকরি করতে হতো না। ব্যাংকওয়ালারাই তোর পেছনে ঘুরতো। রতন ভাই শাহজাদা ভাই
যদিও আমার চাচার বন্ধু তবে পাড়া সম্পর্কে আমি তাদের ভাই ডাকতাম। আবার
দিলশাদ আমার বন্ধু হওয়াতে ওর ভাই আমার ভাই। তাদের সন্তান শাকিলরা আমাকে
সবাই চাচা ডাকে।শাকিল এখন কুমিল্লা ক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি।রতন ভাইদের
আদিবাড়ি কসবা থানায়। যতদূর জানি রতন ভাইদের পরিবার শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি
(রা.) পীর সাহেবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।
রতন ভাই আজ ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল
সাড়ে ৩টায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল
৮২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, মেয়েজামাই, নাতি, নাতনি
বন্ধু-বান্ধব আত্মীয় স্বজন রেখেযান। তাঁর বড় মেয়ের জামাই কেনিয়ায়
স্ট্রান্ডাট চাটার্ড ব্যাংকের কান্ট্রি ডাইরেক্টর, বড় মেয়ে স্বামীর সাথে
থাকেন। আরেক মেয়ে দুবাই থাকেন ও ছোট মেয়ে থাকে কুমিল্লায়। মেয়েরা বাবার
মৃত্যু সংবাদ পয়ে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। রতন ভাইয়ের নামজে জানাজা আজ
৫ সেপ্টেম্বরবাদ জুম্মাদারোগাবাড়ী মসজিদ প্রাঙ্গণে, মাজার সংলগ্ন স্থানে
অনুষ্ঠিতহবে। আমি রতন ভাইয়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ও শোকসন্তপ্ত
পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
