রোববার ১৪ জুন ২০২৬
৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
জনআকাক্সক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ
ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:৫২ এএম আপডেট: ১৪.০৬.২০২৬ ১:২৫ এএম |

 জনআকাক্সক্ষার বাজেট এবং নানামুখী চ্যালেঞ্জ
চব্বিশের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই যাত্রায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠিত হয়। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদের শাসনের বিরুদ্ধেও এ দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের রাষ্ট্র মেরামতের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের ৩১ দফার ভিত্তিতে বিএনপির নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে সেটিই ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের পরিবেশ তৈরি করেছে। তার ওপর দাঁড়িয়েই সংগঠিত হয়েছে ২০২৪-এর ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান। বিগত সরকার দেশে অর্থনীতির যে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, সমাজ-সংস্কৃতির বুনন যেভাবে ধ্বংস করেছে তাতে এর পুনরুদ্ধার ও একে পুনরায় গতিশীল করা রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া সম্ভব নয়। মনে রাখা দরকার, সব মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবিক বিবেচনাসম্পন্ন সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা ছাড়া এই রাজনৈতিক সংস্কার টেকসই হবে না।
দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের কারণে অর্থনীতির মূল সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় ছিল। বিগত সরকার রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে অর্থনীতিতে সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে সব প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ও ধ্বংস করেছে। তথাকথিত উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে মূলত লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতির মৌল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। এ অবস্থার পুনরুদ্ধারই শুধু নয়, একে উত্তরণ ও সমৃদ্ধ পুনর্গঠনের পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুঃসাহসিক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যই রাজনীতি ও অর্থনীতির পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ২০২৬-২৭ জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আয়-ব্যয়ের হিসাবনিকাশ নয়, বরং দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়নের পথ-নকশার অংশ হিসেবে বাজেট সামনে আসা। বিগত সরকারের শাসনামলে অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ক্ষুদ্র দলীয় ও গোষ্ঠীগত দুরভিসন্ধিই ছিল প্রধান প্রবণতা। একদিকে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লুটেরাদের হস্তগত হয়েছে এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির পাশাপাশি গোটা বিশ্বে যে নতুন রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মেরুকরণের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে তা গোটা বিশ্বকে এবং বিশেষ করে আমাদের বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে। দেশের অর্থনীতির ভগ্নদশার পাশাপাশি বৈশ্বিক অস্থিরতায় তৈরি হওয়া নতুন ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলার প্রত্যয়কে কেন্দ্রে রেখেই এবারের বাজেটে স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান নির্ধারণ হয়েছে। বাজেটে উল্লেখ আছে, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনার কথাও রয়েছে। বাজেটে সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে বাস্তবমুখী দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য মানবসম্পদে পরিণত করার কথা উল্লেখ আছে। এমনকি মৌলিক অধিকার হিসেবে সবার জন্য মানসম্পন্ন সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছর বাজেটে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান ও আয়বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা হবে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করে আমানতকারীদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা ফিরিয়ে আনা কথাও রয়েছে। উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলার প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জনগণের অংশগ্রহণে বনায়নকে একটি সবুজ বিপ্লবে রূপান্তর, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশগত বিবেচনার পাশাপাশি, নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার মাধ্যমে একটি টেকসই, সবুজ ও পরিবেশ-সহনশীল বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা হবে। টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা দেখতে হলে মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
দেশে সামষ্টিক অর্থনীতির তুলনামূলক চিত্রে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৬.৭৮ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পতিত সরকারের সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ৪.২২ শতাংশে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩.৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশে ২০০৫-০৬ সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.১৭ শতাংশ, যা বেড়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়। সম্পদের অসম বণ্টনব্যবস্থা, সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য বেড়েছে। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত নিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে; এখনো তা ৮ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করছে। কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন।
দেশের বর্তমান বাস্তবতা পর্যালোচনায় দেখা যায় বিগত সরকারের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক নীতি, কার্যকর সংস্কার ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করবে। একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সৃজনশীলতা, শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর। সে কারণে, বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করবে। ফলে, উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। বাজেটে উল্লেখ আছে, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮.৫ শতাংশে উন্নীত হবে, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ জিডিপির ২.৭ শতাংশে উন্নীত হবে এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কার্যক্রমের প্রথম ধাপ এক বছর মেয়াদি। দ্বিতীয় ধাপ, অর্থনীতির উত্তরণ এক থেকে তিন বছর মেয়াদের মধ্যে সম্পন্ন হবে। তৃতীয় ধাপ, সমৃদ্ধ অর্থনীতি পাঁচ বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে অপরিহার্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি খাত ও তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে অগ্রাধিকার রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ২৯.৭৪ শতাংশ। ভৌত অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৮.৬৬ শতাংশ। সাধারণ সেবা খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৬.১৩ শতাংশ।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হিসেবে জনআকাক্সক্ষা অনেক। বাজেটে বিপর্যস্ত অর্থনীতি থেকে উত্তরণ, বৈশ্বিক চাপ মোকাবিলা, দীর্ঘদিনের উচ্চমূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা, জ্বালানিসংকট ও বিনিয়োগে স্থবিরতা দূর করার চাপ আছে। প্রতিটি মানুষের কথা মাথায় রেখে বাজেট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে উচ্চমূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা এবং রাজস্ব আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা বাজেটে নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটা কীভাবে সফল করা হবে এখন তা দেখার বিষয়। প্রথম বাজেটে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে-নতুন সরকারের কাছে এটাই চাওয়া।
লেখক: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ















http://www.comillarkagoj.com/ad/1752266977.jpg
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন বাজেট বাস্তবায়ন করে দেশের ভাগ্য বদলাতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
‘নিখোঁজ নয়; ছিলেন আত্মগোপনে’ ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সেই শিবির নেতা
শিবির নেতা জিসানকে বহিষ্কার
কুমিল্লার শিবের বাজার সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজা জব্দ, আটক ১
কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবো
কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
বরুড়ায় রাকিব হত্যা প্রধান আসামি ছোটন ঢাকায় গ্রেপ্তার
কুমিল্লা সীমান্তে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা
২৬ ঘণ্টা পর নিখোঁজ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা লাকসাম থেকে উদ্ধার
Follow Us
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয় (আবুল কাশেম হৃদয়)
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ১২২ অধ্যক্ষ আবদুর রউফ ভবন, কুমিল্লা টাউন হল গেইটের বিপরিতে, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০। বাংলাদেশ।
ফোন +৮৮ ০৮১ ৬৭১১৯, +৮৮০ ১৭১১ ১৫২ ৪৪৩, +৮৮ ০১৭১১ ৯৯৭৯৬৯, +৮৮ ০১৯৭৯ ১৫২৪৪৩, ই মেইল: newscomillarkagoj@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, কুমিল্লার কাগজ ২০০৪ - ২০২২