
এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (ইঞঊই) পরিচালিত ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ভর্তি হয়। চার বছরের এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা মোট ১৫০–১৬০ ক্রেডিট সম্পন্ন করে থাকে। প্রশ্ন হলো- এই মেয়াদকাল ও ক্রেডিট কাঠামো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কতটা যুক্তিযুক্ত?
বিভিন্ন দেশের কারিগরি শিক্ষার তুলনামূলক চিত্র
যুক্তরাজ্য (ইঞঊঈ ঐঘউ):
সাধারণত ২ বছর ফুল-টাইম; প্রায় ২৪০ টক ক্রেডিট (≈১২০ ঊঈঞঝ)। যুক্তরাজ্যোর ইঞঊঈ ঐঘউ (ঐরমযবৎ ঘধঃরড়হধষ উরঢ়ষড়সধ) হলো একটি শক্তিশালী, বহুমুখী এবং স্ট্র্যাটেজিকভাবে ডিজাইন করা প্রোগ্রাম- যা শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রিটিকাল মডেল অফ একটি “ঝশরষষ-ঃড়-উবমৎবব-ঃড়-ঈধৎববৎ” ট্রাঞ্জিশন প্রেরণা দেয়। এতে মোট প্রায় ২৪০ ক্রেডিট থাকে, যেখানে প্রতিটি ইউনিট সাধারণত ১৫ ক্রেডিটের হয়ে থাকে। তবে ৫, ১০, ২০ ক্রেডিট ইউনিটও থাকতে পারে। এতে গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতি নেই বললেই চলে। বাস্তবজীবন কার্যক্রম ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে দক্ষতা নির্ধারিত হয়। ঈগও, অঈঈঅ, ওঈঊ, ঈড়সঢ়ঞওঅ, ঈরংপড় সহ বিশে^র ৭০টির-ও বেশি পেশাগত প্রতিষ্ঠান ঐঘউ কে স্বীকৃতি দেয়। ঐঘউ সনদধারীদের বিশে^র ৩০০’র বেশি বিশ^বিদ্যালয়ে সরাসরি ৩য় বর্ষে ভর্তির সুযোগ প্রদান করে থাকে, অর্থাৎ বিশ^বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষে “ঃড়ঢ়-ঁঢ়” করার সুযোগ থাকে। ঝযবষষ, ইঅঊ ঝুংঃবসং, চঈি, গধহফধৎরহ ঙৎরবহঃধষ এৎড়ঁঢ় সহ অনেক বড়ো বড়ো কোম্পানী ঐঘউ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগ করে থাকে।
অস্ট্রেলিয়া (ঞঅঋঊ উরঢ়ষড়সধ/অফাধহপবফ উরঢ়ষড়সধ):
১.৫–২ বছর; ১৮০০–২৪০০ ঘণ্টা ঞছঞ (ঞড়ঃধষ ছঁধষরভরপধঃরড়হ ঞরসব)। ঞঅঋঊ (ঞবপযহরপধষ অহফ ঋঁৎঃযবৎ ঊফঁপধঃরড়হ) হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার একটি বৃহৎ ঠঊঞ (ঠড়পধঃরড়হধষ ঊফঁপধঃরড়হ ্ ঞৎধরহরহম) সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যা রাজ্য সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় এবং বিভিন্ন ক্যারিয়ার ভিত্তিক কোর্স প্রদান করে। যেমন- ঈড়হংঃৎঁপঃরড়হ, ওঞ, ঐড়ংঢ়রঃধষরঃু, ঊহমরহববৎরহম ইত্যাদি। এই কোর্সগুলো অঁংঃৎধষরধহ ছঁধষরভরপধঃরড়হং ঋৎধসবড়িৎশ (অছঋ) অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন স্তরে (খবাবষ ১-১০) ভাগ করা হয়। এই কোর্সগুলোর লক্ষ্য থাকে ওহঃবমৎধঃবফ ঞবপযহরপধষ ও ঞযবড়ৎবঃরপধষ ধারণা বিকাশ করে চধৎধঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষ কাজকে প্রস্তুত করা। ডিপ্লোমা বা অ্যাডভান্স ডিপ্নোমা সম্পন্ন করার পর অনেক বিশ^বিদ্যালয়ই ব্যাচেলর ডিগ্রিতে ক্রেডিট ট্রান্সফার দেয়া হয়। অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা স্তরের কোর্স সম্পন্নকারীকে প্রফেশনাল বা ঐরমযষু-ঝশরষষবফ কাজের জন্য দ্রুত প্রস্তুত করা হয়- এটি বিশেষত ইন্ডাস্ট্রিতে খুব প্রয়োজনীয় এবং গৃহীত হয়ে থাকে। অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার প্রেক্ষাপটে একটি শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা শেষ করলে দ্রুত ক্যারিয়ারে প্রবেশ করতে পারে। অনেকে ডিপ্লোমা দিয়ে কাজ শুরু করে পরবর্তীতে অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা বা বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষার স্তর শেষ করতে পারে। অর্থাৎ এটি ওহফঁংঃৎরধষ ঝশরষষ-ঈবহঃৎরপ কোর্স হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলকভাবে টিকে থাকতে পারে।
সিঙ্গাপুর (চড়ষুঃবপযহরপ উরঢ়ষড়সধ):
৩ বছর; ক্রেডিট= ১২০-১৪০ (মডিউল সিস্টেম)। সিঙ্গাপুরের পলিটেকনিকসমূহ সে দেশের সরকার পরিচালিত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের এঈঊ, ঙ-খবাবষং, ঘ-খবাবষং, অ-খবাবষং ভিত্তিতে ভর্তি নেয়। তারা ব্যাপক রেঞ্জের ডিসিপ্লিনে (যেমন- ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস স্টাডিজ, ডিজাইন, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, আইটি, বায়োটেকনোলজি) ডিপ্লোমা কোর্স অফার করে। উচ্চ শিক্ষার জন্যে এর বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে আবেদন করলে উবমৎবব চৎড়মৎধসং এ অফাধহপব চষধপবসবহঃ পায়- যেমন- টহরাবৎংরঃু ড়ভ অঁপশষধহফ-এ প্রাসঙ্গিক প্রয়োগে ৪-৬ সেমিস্টারের জন্য ক্রেডিট ওয়েভার দেয়া হয়। ঘটঝ ও গড়হধংয টহরাবৎংরঃু তে-ও পলিটেকনিক ডিপ্লোমা হোল্ডারগণ মডিউল ভিত্তিক বা ব্লক ক্রেডিট (যেমন- ৪০-৪৮) ইউনিট পর্যন্ত ওয়েভার পায়। সিঙ্গাপুরের পলিটেকনিক সিস্টেমে প্রফেশনাল ও হ্যান্ডস-অন লার্নিং-এ জোর দেয়া হয়। যেমন- রিপাবলিক পলিটেকনিক-এ পাঠদানের ক্ষেত্রে চৎড়নষবস ইধংবফ খবধৎহরহম (চইখ) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সিঙ্গাপুরীয় পলিটেকনিক ডিপ্লোমা একটি থিওরি এবং বাস্তব-চালিত শিক্ষণ পদ্ধতি প্রদান করে, যা শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি এবং ক্যারিয়ারের মধ্যে একটি মসৃন সংযোগ (ইৎরফমব) তৈরি করে। ৩ বছরের সময়সীমা, অ্যাপ্লাইড লানির্ং, বাধ্যতামূলক ইন্টার্ণশীপ, উচ্চ শিক্ষায় সরাসরি ক্রেডিট ট্রান্সফার ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এটিকে আন্তর্জাতিক কারিগরি শিক্ষা কাঠামোয় একটি বিশেষ ও শক্ত ভিত্তি স্থাপন করেছে।
জার্মানি (ইবৎঁভংংপযঁষব + অঢ়ঢ়ৎবহঃরপবংযরঢ়):
সাধারণত ৩–৩.৫ বছর; অধিকাংশ সময় ইন্ডাস্ট্রিতে অন-জব ট্রেনিং/অ্যাটাচমেন্ট। জার্মান ভাষায় ইবৎঁভ এ্র অর্থ পেশা বা কর্ম এবং ঝপযঁষব এর অর্থ হচ্ছে স্কুল। অর্থাৎ ইবৎঁভংংপযঁষব হচ্ছে জার্মানীর ঠড়পধঃরড়হধষ ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ ঞৎধরহরহম (ঠঊঞ) ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি হচ্ছে পেশাভিত্তিক বা বৃত্তিমূলক স্কুল, যেখানে শিক্ষার্থীরা (অঢ়ঢ়ৎবহঃরপবং) সপ্তাহে নির্দিষ্ট কিছু দিন বা ব্লক সেশনে ক্লাশ করে। বাকি সময় তারা কোম্পানী/ কারখানায় ঙহ-ঃযব-লড়ন-ঃৎধরহরহম বা অঢ়ঢ়ৎবহঃরপবংযরঢ় করে। এই দ্বৈত শিক্ষা (উঁবষ ঊফঁপধঃরড়হ ঝুংঃবস) জার্মানীর অর্থনৈতিক সফলতার একটি প্রধান ভিত্তি। এটি মূলত: ২ থেকে সাড়ে তিন বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে ১-২ দিন বা প্রতি মাসে কয়েক সপ্তাহ ব্লক আকারে ইবৎঁভংংপযঁষব এ যায়। এখানে ৩০-৪০% তাত্বিক এবং সাধারণ শিক্ষা। ৬০-৭০% প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ।
এখানকার কারিকুলাম মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত। প্রথমত: কর্মসংস্থান বিষয়ে (ঠড়পধঃরড়হধষ ঝঁনলবপঃং) নির্দিষ্ট পেশা অনুযায়ী যেমন- সিভিল কন্সট্রাকশন, মেকাট্রনিক্স, হেলথকেয়ার ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভূক্ত থাকে। এই অংশে ঔড়ন-ঝঢ়বপরভরপ জ্ঞান, টেকনিক্যাল থিওরি ও নিরাপত্তা বিধান শেখানো হয়। দ্বিতীয়ত: সাধারণ শিক্ষা বিষয়ে (এবহবৎধষ ঊফঁপধঃরড়হ) জার্মান ভাষা, বিদেশী ভাষা, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাজনীতি, নৈতিক শিক্ষা ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের শুধু কর্মী নয়, বরং একজন দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তৃতীয়ত: সামাজিক ও পেশাগত দক্ষতার (ঝড়ভঃ ঝশরষষং ধহফ চৎড়ভবংংরড়হধষ ঝশরষষং) ক্ষেত্রে কমিউনিকেশন, টিম ওয়ার্ক, কনফ্লিক্ট ম্যানেজমেন্ট, আইনগত ও নৈতিক সচেতনতা অন্তর্ভূক্ত থাকে। মধ্যবর্তী পরীক্ষার পাশাপাশি মেয়াদ শেষে একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা নেয়া হয়, যা সাধারণত ঈযধসনবৎ ড়ভ ওহফঁংঃৎু ধহফ ঈড়সসবৎপব (ওঐক) বা ঈযধসনবৎ ড়ভ ঈৎধভঃং (ঐডক) দ্বারা আয়োজিত হয়।
শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার সময় থেকেই নিয়মিতভাবে কোম্পানীর সাথে সংযুক্ত থাকে, ফলে বেকারত্ব কম। সার্টিফিকেটধারীরা চাইলে পরবর্তীতে মাস্টার টেকনিশিয়ান, এমনকি বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা চালাতে পারে। এর ফলে জার্মানীর মডেলকে ঙৎমধহরুধঃরড়হ ভড়ৎ ঊপড়হড়সরপ ঈড়-ড়ঢ়বৎধঃরড়হ ধহফ উবাবষড়ঢ়সবহঃ (ঙঊঈউ), ঊঁৎড়ঢ়বধহ টহরড়হ (ঊট) এবং এশিয়ার অনেক দেশ নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুসরণ করছে।
ফিলিপাইন (ঞঊঝউঅ):
দক্ষ জনশক্তির বদৌলতে মধ্যপ্রাচ্যসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মবাজার ফিলিপিনোদের দখলে রয়েছে। ফিলিপাইনের ঞবপযহরপধষ ধহফ ঠড়পধঃরড়হধষ ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ ঞৎধরহরহম (ঞঠঊঞ) শিক্ষা ঞঊঝউঅ (ঞবপযহরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ ধহফ ঝশরষষং উবাবষড়ঢ়সবহঃ অঁঃযড়ৎরঃু) এর মাধ্যমে সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ১৯২৭ সালে ফিলিপাইনে প্রথম ঞঠঊঞ সিস্টেম চালু হয়। ১৯৯৪ সালে ঞঊঝউঅ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ঞঠঊঞ কাঠামো আধুনিকায়ন করা হয়। শিক্ষা কাঠামোতে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সমস্যা থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা ও বাস্তব কাজের মধ্যে ফাঁক দেখা যায়। ১-২ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা পর্যায়ের কোর্সটির সমন্বয় ও মান নিরীক্ষায় ঘাটতির ফলে ঞঠঊঞ ব্যবস্থায় আন্তঃসংযোগের অভাব এবং মান নিয়ন্ত্রণ ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়।
ভারত (অওঈঞঊ):
ভারতীয় কারিগরি শিক্ষার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হচ্ছে অওঈঞঊ (অষষ ওহফরধ ঈড়ঁহপরষ ভড়ৎ ঞবপযহরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ)। এটি ১৯৪৫ সালে গঠিত এবং ১৯৮৭ সালে সংসদীয় আইনে সনদিত হয়েছে। ১০ম শ্রেণি পাশের পর শিক্ষার্থীরা ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা স্তরে ভর্তির সুযোগ পায়। ডিপ্লোমা অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা সাধারণত ঔঁহরড়ৎ ঊহমরহববৎ, ঞবপযহরপরধহ ঈঅউ চৎড়মৎধসসবৎ, ঝঁৎাবুড়ৎ, ডড়ৎশংযড়ঢ় ঝঁঢ়বৎারংড়ৎ ইত্যাদি হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে। অনেক রাজ্যে ডিপ্লোমা হোল্ডারগণ লেটারাল এন্ট্রি পেয়ে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ দ্বিতীয় বর্ষে সরাসরি ভর্তির সুযোগ পায়। ভারতের ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষা একটি গভীর ভিত্তিতে তৈরি, দক্ষতা ভিত্তিক পাঠক্রম, যা যুবসমাজকে দ্রুত কর্মজীবনে প্রবেশ করাতে সহায়তা করে। সেক্টরীয় চাহিদার সাথে এটি স্বনির্বাচিতভাবে ক্ষুদ্র থেকে বড়ো ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে। এছাড়া, লেটারাল এন্ট্রি ও ঘঝছঋ (ঘধঃরড়হধষ ঝশরষষং ছঁধষরভরপধঃরড়হ ঋৎধসবড়িৎশ) এর অন্তর্ভূক্ততা এটিকে উচ্চ শিক্ষার পথেও সুসংহত করে তোলে।
বাংলাদেশের ডিপ্লোমা পর্যায়ের কারিগরি শিক্ষা
বাংলাদেশ (ইঞঊই):
ইঞঊই (ইধহমষধফবংয ঞবপযহরপধষ ঊফঁপধঃরড়হ ইড়ধৎফ) নিয়ন্ত্রিত ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম দেশের সবচেয়ে বড়ো টেকনিক্যাল শিক্ষা কাঠামো। এটি মূলত এসএসসি/সমমান পাশের পর শিক্ষার্থীদের জন্য সাজানো, যেখানে ১৫০ থেকে ১৬০ ক্রেডিট সম্পন্ন করতে হয়। বাংলাদেশের ডিপ্লোমা পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা অসুবিধাসমূহ নিম্নরূপ-
সুবিধাসমূহ
ক্স এসএসসি/সমমানের পর সোজা প্রবেশপথ: শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক শেষ করেই সরাসরি টেকনিক্যাল/ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনায় প্রবেশ করতে পারে-যা অনেক দেশের তুলনায় একটি সহজ ও খোলা সুযোগ।
ক্স মোটামুটি শক্তিশালী ক্রেডিট কাঠামো (১৫০-১৬০):ঝড়পরধষ ংশরষষ, গধঃয-ঝপরবহপব, ঈড়ৎব ঊহমরহববৎরহম, জবষধঃবফ ঊহমরহববৎরহম- সবগুলো একত্রে অন্তর্ভুক্ত। আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যালান্সড ফ্রেমওয়ার্ক।
ক্স বিস্তৃত প্রযুক্তি বিভাগ: সিভিল, কম্পিউটার, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, মেকানিক্যালসহ নানা টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা করার সুযোগ।
ক্স দেশব্যাপী সহজলভ্যতা: সরকারি-পলিটেকনিক + বেসরকারি ইনস্টিটিউট মিলিয়ে সারা দেশে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, ফলে অনেক শিক্ষার্থী সুযোগ পাচ্ছে।
ক্স কর্মসংস্থানে সরাসরি যোগদান: সরকারি চাকরিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে এবং বেসরকারি সেক্টরে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার/ টেকনিশিয়ান হিসেবে সরাসরি চাকরি করার সুযোগ তৈরি হয়।
ক্স খরচ তুলনামূলক কম: বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার তুলনায় ব্যয় অনেক কম; মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও সহজলভ্য।
ক্স বিদেশে চাকরির চাহিদা: মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ইত্যাদি অঞ্চলে ইঞঊই ডিপ্লোমাধারীদের জন্য কিছু সেক্টরে (কনস্ট্রাকশন, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল) ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে।
অসুবিধাসমূহ
ক্স প্র্যাকটিক্যাল এক্সপোজার সীমিত: কারিকুলামে ল্যাব/ওয়ার্কশপ থাকলেও জার্মানির ইবৎঁভংংপযঁষব বা সিঙ্গাপুরের চড়ষুঃবপযহরপ-এর মতো শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের অনুপাত অনেক কম।
ক্স ইন্টার্নশিপ/ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্ক দুর্বল: বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে নিয়মিত গড়ট বা প্লেসমেন্ট চ্যানেল নেই। ফলে গ্র্যাজুয়েটরা হাতে-কলমে দক্ষতায় পিছিয়ে যায়।
ক্স মেয়াদকাল দীর্ঘ:ঝঝঈ-পর ৪ বছর- যেখানে অনেক দেশে (ওহফরধ, ঝরহমধঢ়ড়ৎব) একই লেভেলের ডিপ্লোমা ৩ বছরে শেষ হয়। এতে শিক্ষার্থীর চাকরির বাজারে প্রবেশে বিলম্ব ঘটে।
ক্স ক্যারিয়ার প্রগ্রেশন দুর্বল: ডিপ্লোমা থেকে ই.ঝপ. ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সুস্পষ্টলেটারাল এন্ট্রি বা ক্রেডিট ট্রান্সফার নেই। ফলে উচ্চশিক্ষার পথ কঠিন।
ক্স শিক্ষার মানে বৈচিত্র: সরকারি বনাম বেসরকারি ইনস্টিটিউটের মানে ফারাক আছে; অনেক জায়গায় দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক ল্যাব-সুবিধার অভাব রয়েছে।
ক্স সোশ্যাল স্কিল ও ভাষা ঘাটতি:ঈড়সসঁহরপধঃরড়হ, খবধফবৎংযরঢ়, চৎড়ভবংংরড়হধষ ঊহমষরংয-এসবের ক্রেডিট মাত্র ১০–১৫%। আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য যথেষ্ট নয়।
ক্স কোর ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আধুনিক বিষয় অনুপস্থিত:ওহফঁংঃৎু ৪.০ বিষয় যেমন- অও, ওড়ঞ, জড়নড়ঃরপং, ইওগ, জবহবধিনষব ঊহবৎমু ইত্যাদি বিষয়সমূহ অধিকাংশ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত নয়।
ক্স আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সীমিত:টক ইঞঊঈ ঐঘউ বা অঁংঃৎধষরধহ ঞঅঋঊ-এর মতো গ্লোবাল রিকগনিশন নেই; বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে অনেক সময় সমতুল্য হিসেবে ধরা হয় না।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়
বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের মেয়াদকাল (৪ বছর) আন্তর্জাতিক গড়ের তুলনায় কিছুটা দীর্ঘ। তবে এ দীর্ঘ মেয়াদকালের যুক্তি হলো শিক্ষার্থীরা এসএসসি-পর্যায়ের পর ভর্তি হয়, যেখানে বিদেশে অনেকে হাই স্কুল (অ-ষবাবষং, ১২ঃয মৎধফব) শেষে ভর্তি হয়। অর্থাৎ আমাদের ক্ষেত্রে ঋড়ঁহফধঃরড়হ+উরঢ়ষড়সধ একত্রে ৪ বছর, যা আন্তর্জাতিকভাবে আলাদা দুই ধাপে (ঐরময ংপযড়ড়ষ + উরঢ়ষড়সধ/ইঞঊঈ) সম্পন্ন হয়।
সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশের ডিপ্লোমা কাঠামো পরিমাণ ও কাঠামোগত দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী, তবে নিম্নবর্ণিত ঘাটতিসমূহ পূরণ করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শক্তিশালী কারিকুলাম হিসেবে বিবেচিত হবে। যথা-
(১) প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা
(২) ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্ক
(৩) লেটারাল এন্ট্রি
(৪) আন্তর্জাতিক রিকগনিশন।
১. প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা:
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতায় পিছিয়ে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। এর মূল কারণ হলো- সরকারি পলিটেকনিকে শিক্ষকদের ব্যবহারিক শিক্ষাদানে অনীহা (তাত্¦িক ক্লাশ বেশি, হাতে কলমে প্রশিক্ষণ কম)। বেসরকারি পলিটেকনিকসমূহে যন্ত্রপাতি ও ল্যাব সুবিধার অভাব। ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সংযোগ দুর্বল। এসব ঘাটতি পূরণ করে আন্তর্জাতিক মানে প্র্যাকটিক্যাল দক্ষতা অর্জনের জন্যে একটি সমন্বিত ধারণা তুলে ধরা হলো-
ক্স ইন্ডাস্ট্রি ভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্ণশীপ: প্রত্যেক সেমিস্টারে কমপক্ষে ১-২ সপ্তাহের বাধ্যতামূলক শিল্প-প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে। শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে গড়ট সই করে ঋধপঃড়ৎু-নধংবফ ঞৎধরহরহম গড়ফঁষব চালু করা যেতে পারে। এই বিষয়ে জার্মানী ও সিঙ্গাপুরের মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।
ক্স ল্যাব. ও ওয়ার্কশপ আপগ্রেডেশন: সরকারি পলিটেকনিকসমূহে অব্যবহৃত ল্যাব আধুনিকীকরণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সরকারিভাবে ভর্তুকি/ঋণ সুবিধা দেয়া যেতে পারে। সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেকটি পলিটেকনিকে ঝরসঁষধঃরড়হ ঝড়ভঃধিৎব (অঁঃড়ঈঅউ, গঅঞখঅই, চৎড়ঃবঁং, অঘঝণঝ, ইওগ ইত্যাদি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
ক্স শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের শুধু তাত্ত্বিক নয়, ওহফঁংঃৎু অঃঃধপযসবহঃ ঞৎধরহরহম এ প্রেরণ করা উচিত। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের বছরে অন্তত ১-২ বার ঝশরষষ টঢ়মৎধফধঃরড়হ চৎড়মৎধস (ওড়ঞ, অও, জড়নড়ঃরপং, জবহবধিনষব ঊহবৎমু) করতে হবে। শিক্ষকদেরকে প্র্যাকটিক্যাল ডেমো প্রদর্শনে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্যে সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি পলিটেকনিকে “ইবংঃ চৎধপঃরপধষ ওহংঃৎঁপঃড়ৎ অধিৎফ” চালু করা যেতে পারে।
ক্স কম্পিটেন্সি বেজড লার্নিং: প্রতিটি সাবজেক্টে খবধৎহরহম ঙঁঃপড়সব- ঝশরষষং ঞবংঃ- ওহফঁংঃৎু জবষবাধহপব পরিমাপ করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত ঈড়সঢ়বঃবহপু-নধংবফ ঊফঁপধঃরড়হ (ঈইঊ) মডেল প্রয়োগ করা যেতে পারে। শুধু পরীক্ষা নয়, চৎড়লবপঃ ডড়ৎশ + খধন-নধংবফ অংংবংংসবহঃ বাধ্যতামূলক করা উচিত।
ক্স আন্তর্জাতিক ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সমন্বয়: ভারতের ঘঝছঋ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঊঝঈঙ, ইউকে-অস্ট্রেলিয়ার ঝঋওঅ এর মতো স্কিল ফ্রেমওয়ার্কের সাথে কোর্স আউটকাম সমন্বয় করতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্বউদ্যোগে অনলাইনে ঈড়ঁৎংবৎধ, বফঢ, টফবসু’র মতো প্ল্যাটফরম থেকে ওহফঁংঃৎু জবপড়মহরুবফ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ (অডঝ, ঈরংপড়, গরপৎড়ংড়ভঃ, অঁঃড়উবংশ) কোর্সগুলো সম্পন্ন করতে পারে।
ক্স উদ্যোক্তা ও প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা: প্রতিটি সেমিস্টারে ছোটোখাটো প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট বাধ্যতামূলক করে শিক্ষার্থীদেরকে ঝঃধৎঃ-ঁঢ়/ওহহড়াধঃরড়হ ঐঁন এ যুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্ব স্ব টেকনোলজির বিভিন্ন প্রজেক্ট তৈরিতে অংশগ্রহণ করবে।
ক্স প্র্যাকটিক্যাল সাপোর্ট নেটওয়ার্ক: সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক-এ “ঝশরষষং উবাবষড়ঢ়সবহঃ ঈবষষ” গঠন করা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদেরকে ঔড়ন জবধফু ঝশরষষং (ডবষফরহম, ঈঘঈ গধপযরহব, ঝঁৎাবুরহম, চখঈ অঁঃড়সধঃরড়হ, ঈুনবৎ ঝবপঁৎরঃু) এর উপর শর্ট কোর্স করানো যেতে পারে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সাথে মিল রেখে খধহমঁধমব ্ ঈড়সসঁহরপধঃরড়হ ঞৎধরহরহম (ঊহমষরংয, অৎধনরপ, ঔধঢ়ধহবংব, কড়ৎবধহ) চালু করা যেতে পারে।
২. ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্ক:
ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৪ বছর মেয়াদী কারিকুলামে শেষ সেমিস্টারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও বিষয়টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট; কিন্তু বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু কিছু কর্মকর্তা প্রবিধানসহ বিভিন্ন জায়গায় এটিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং হিসেবে উল্লেখ করায় শিক্ষার্থীরাও ইন্ডাস্ট্রিতে অ্যাটাচমেন্ট করার পরিবর্তে বিভিন্নট্রেনিং সেন্টারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং করছে। “ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট” বনাম “ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং” এর বিভ্রান্তির কারণে বাংলাদেশের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা প্রকৃত ইন্ডাস্ট্রি অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছে না। অনেকেই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে ডড়ৎশংযড়ঢ়-নধংবফ ংযড়ৎঃ ঃৎধরহরহম নিচ্ছে, অথচ এর উদ্দেশ্য ছিলো ‘ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব পরিবেশে কাজের অভিজ্ঞতা’ অর্জন করা।
টেকসই ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিঙ্ক (ঝঁংঃধরহধনষব ওহফঁংঃৎু খরহশধমব) তৈরির প্রস্তাবনা নিম্নরূপ-
ক্স নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড যাবতীয় কাগজপত্রে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট’ এবং ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং’ এর পার্থক্য তুলে ধরতে হবে।
ক্স শিল্প প্রতিষ্ঠানের সাথে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা: প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিককে আশেপাশের শিল্পকারখানা, বিসিক, ইপিজেড ইত্যাদিতে অবস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা চুক্তি (গড়ট) স্বাক্ষর করতে হবে। সমঝোতা চুক্তিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রশিক্ষণের মেয়াদ, সুপারভিশন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, স্টাইপেন্ড ইত্যাদি বিষয় নির্দিষ্ট করতে হবে।
ক্স প্রণোদনা ব্যবস্থা: শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ যাতে শিক্ষার্থী গ্রহণে উৎসাহী হয়, সেজন্যে ঞধী জবনধঃব, ঈঝজ জবপড়মহরঃরড়হ বা এড়াঃবৎহসবহঃ ওহপবহঃরাব চালু করা যেতে পারে। পলিটেকনিক এর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহকে “ওহফঁংঃৎু চধৎঃহবৎ ড়ভ ঃযব ণবধৎ অধিৎফ” দেয়া যেতে পারে।
৩. লেটারাল এন্ট্রি:
লেটারাল এন্ট্রি হচ্ছে একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশ^বিদ্যালয়ের ব্যাচেলর প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষ বা তৃতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হতে পারে। স্বীকৃত বোর্ড বা পলিটেকনিক থেকে ৩ বা ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমে নির্দিষ্ট সিজিপিএ নিয়ে (যেমন- ৫০-৬০% নম্বর) পাশ করলে কিছু দেশ বা বিশ^বিদ্যালয়ে কোর্স সমন্বয়ের ভিত্তিতে ইৎরফমব/তবৎড় ঝবসবংঃবৎ নিয়ে ২য় বর্ষে ভর্তির সুযোগ থাকে। যেমন- ভারতে অওঈঞঊ অনুমোদিত লেটারাল এন্ট্রি স্কিম আছে। ডিপ্লোমা পাশ শিক্ষার্থীরা ই.ঞবপয/ইঊ এর ২য় বর্ষে ভর্তি হতে পারে। সিঙ্গাপুরে পলিটেকনিক ডিপ্লোমা শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশ^বিদ্যালয়ের ২য় বা ৩য় বর্ষে ভর্তির সুযোগ পায়। যুক্তরাজ্যে ঞড়ঢ়-ঁঢ় উবমৎবব ঝুংঃবস বিদ্যমান। এখানে ২ বছর মেয়াদী ইঞঊঈ ঐঘউ শেষ করলে বিশ^বিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষে বা ২য় বর্ষে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকে। অস্ট্রেলিয়ার ঞঅঋঊ উরঢ়ষড়সধ/ অফাধহপবফ উরঢ়ষড়সধ শেষ করলে বিশ^বিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফার পেয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে ১-১.৫ বছর সময় কম লাগে।
বাংলাদেশে এখনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় লেটারাল এন্ট্রি ব্যবস্থা নেই। ডিপ্লোমা করার পর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ২য় বর্ষে ভর্তি হতে পারে। কেবলমাত্র বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন অনুমোদিত কিছু কিছু প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয় ক্রেডিট এক্সেম্পশন দিয়ে থাকে। ফলে আমাদের ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েদের অনেক সময় পুরো ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে শুরু থেকে পড়ালেখা করতে হয়। যা সময় ও সম্পদ নষ্ট করে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের জন্য করণীয়:
ক্স জাতীয় পর্যায়ে একটি উরঢ়ষড়সধ-ঃড়-উবমৎবব খধঃবৎধষ ঊহঃৎু ঋৎধসবড়িৎশ প্রণয়ন করা।
ক্স ঈৎবফরঃ গধঢ়ঢ়রহম ঝুংঃবস তৈরি করা, যাতে ডিপ্লোমার ১ম-২য় বর্ষের বিষয়গুলো বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের সাথে সমন্বয় হয়।
ক্স ডিপ্লোমা সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি ও বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে ২য় বর্ষে ভর্তির সুযোগ দেয়া।
ক্স আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্যে ঙঁঃপড়সব ইধংবফ ঊফঁপধঃরড়হ (ঙইঊ) এর সাথে সমন্বয় করা।
লেটারাল শিক্ষা ব্যবস্থা হচ্ছে একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সেতুবন্ধন, যেখানে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা পুনরায় সময় নষ্ট না করে সরাসরি ব্যাচেলর প্রোগ্রামের ২য় বর্ষে প্রবেশ করতে পারে। বাংলাদেশে এটি এখনো সীমিত, তবে ভবিষ্যতে চালু হলে শিক্ষার্থীরা সময় ও সম্পদ বাঁচিয়ে আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতায় যেতে পারবে।
৪. আন্তর্জাতিক রিকগনিশন:
বাংলাদেশের ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমে বর্তমানে আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি, কিন্তু ফরমাল রিকগনিশন নেই। আন্তর্জাতিক রিকগনিশন অর্জন করা গেলে- শিক্ষার্থীদের বিদেশে চাকরি ও উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ বাড়বে; কারিকুলাম আধুনিক হবে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনারশীপ তৈরি হবে এবং বাংলাদেশের ঞঠঊঞ খাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক রিকগনিশন অর্জনের জন্যে-
ক্স আন্তর্জাতিক স্কিল ফ্রেমওয়ার্কের সাথে সমন্বয়:ঘঝছঋ (ওহফরধ), ঊঝঈঙ (ঊট), অছঋ (অঁংঃৎধষরধ), ঝঋওঅ (টক) এর মতো ফ্রেমওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশী ডিপ্লোমা লেভেল ম্যাপ করতে হবে। যেমন- অছঋ খবাবষ ৬= অফাধহপবফ উরঢ়ষড়সধ, ঊট ঊছঋ খবাবষ ৫-৬= উরঢ়ষড়সধ/ ঐরমযবৎ উরঢ়ষড়সধ ইত্যাদি।
ক্স অ্যাক্রেডিটেশন ও সার্টিফিকেশন: আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে অ্যাক্রেডিটেশন নিতে হবে। যেমন- ডধংযরহমঃড়হ অপপড়ৎফ, ঝুফহবু অপপড়ৎফ (ঊহমরহববৎরহম উরঢ়ষড়সধং), টঘঊঠঙঈ, টঘঊঝঈঙ (ঞঠঊঞ অপপৎবফরপধঃরড়হ)। ঈরঃু ্ এঁরষফং (টক) অথবা চবধৎংড়হ ইঞঊঈ এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশীপ গড়তে হবে।
ক্স ক্রেডিট ট্রান্সফার সিস্টেম: বাংলাদেশের ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমাকে আন্তর্জাতিক ঊঈঞঝ (ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঈৎবফরঃ ঞৎধহংভবৎ ঝুংঃবস) বা ঈৎবফরঃ চড়রহঃ ঝুংঃবস এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিদেশি বিশ^বিদ্যালয়ে খধঃবৎধষ ঊহঃৎু বা ঞড়ঢ়-ঁঢ় চৎড়মৎধস এ ভর্তি হতে পারবে।
ক্স ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা: আন্তর্জাতিক কোম্পানীগুলোর সাথে সমঝোতা (গড়ট) করে ঔড়রহঃ ঞৎধরহরহম ্ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ চালু করতে হবে। যেমন- ঝরবসবহং, ঐঁধবির, গড়পৎড়ংড়ভঃ, ঞড়ুড়ঃধ এ ধরনের কোম্পানী ঝশরষষ ঈবৎঃরভরপধঃরড়হ দিয়ে থাকে।
ক্স শিক্ষক ও ইন্সটিটিউশনাল এক্সচেঞ্জ: বিদেশি পলিটেকনিক/ কলেজসমূহের সাথে শিক্ষক বিনিময় প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। সিঙ্গাপুর পলিটেকনিক বা অঁংঃৎধষরধহ ঞঅঋঊ এর সাথে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম কার্যকর হতে পারে।
ক্স সরকারের উদ্যোগ: বিদেশি শিক্ষা বোর্ড/ সংস্থার সাথে সরকারিভাবে গঁঃঁধষ জবপড়মহরঃরহম অমৎববসবহঃ (গজঅ) স্বাক্ষর করতে হবে। যেমন- ভারতীয় ঘঝউঈ, মালয়েশিয়ান ঝশরষষং উবাবষড়ঢ়সবহঃ, সিঙ্গাপুরের ডড়ৎশভড়ৎপব ঝশরষষং ছঁধষরভরপধঃরড়হং (ডঝছ), ফিলিপাইনের ঞঊঝউঅ ইত্যাদির সাথে গজঅ স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (ইঞঊই) পরিচালিত ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রম বর্তমানে ১৫০–১৬০ ক্রেডিট আওয়ারে পরিচালিত হচ্ছে। এই কাঠামোতে সোশ্যাল স্কিল, সায়েন্স ও ম্যাথ, রিলেটেড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে একটি ভারসাম্য রাখা হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্য এখনো গড়ে ওঠেনি।
আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাজ্যের ইঞঊঈ ঐঘউ (২ বছর, ২৪০ টক ক্রেডিট), অস্ট্রেলিয়ার ঞঅঋঊ উরঢ়ষড়সধ/অফাধহপবফ উরঢ়ষড়সধ (১.৫–২ বছর, ঙঁঃপড়সব-নধংবফ), সিঙ্গাপুরের চড়ষুঃবপযহরপ উরঢ়ষড়সধ (৩ বছর, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ), এবং জার্মানির ইবৎঁভংংপযঁষব + অঢ়ঢ়ৎবহঃরপবংযরঢ় (৩–৩.৫ বছর, ডুয়াল সিস্টেম) কার্যকরভাবে শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা প্রদান করছে। এদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো-শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ, ঙঁঃপড়সব-নধংবফ কারিকুলাম, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
বাংলাদেশে মেয়াদকাল তুলনামূলক দীর্ঘ হলেও ঙঁঃপড়সব-নধংবফ পদ্ধতির অভাব, সীমিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুর্বল ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি (অও, ওড়ঞ, জড়নড়ঃরপং, ইওগ, জবহবধিনষব ঊহবৎমু) অন্তর্ভুক্তির ঘাটতি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিচ্ছে। শেষ সেমিস্টারে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট থাকলেও তা প্রায়ই ঞৎধরহরহম ঈবহঃবৎ-এ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যা প্রকৃত শিল্প-অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ।
অতএব, বাংলাদেশের ডিপ্লোমা কারিকুলামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে ঙঁঃপড়সব-নধংবফ ও ঈড়সঢ়বঃবহপু-ফৎরাবহ কাঠামো গ্রহণ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, লেটারাল এন্ট্রি, শিল্প-সংযোগ জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের নিয়মিত জব-ংশরষষরহম অপরিহার্য। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা কেবল দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
লেখক: সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান
www.tariqulislam.me
