কুমিল্লার
দেবিদ্বার পৌরসভার সাতটি সিএনজি-অটোরিকশাস্ট্যান্ড গত তিন বছর ধরে ইজারা
ছাড়াই চলছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে
স্ট্যান্ডগুলোর ইজারা কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার প্রায় চার
কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে, বিআরডিবি থেকে সিএনজি
স্ট্যান্ডের জায়গা লিজ নিয়ে ভাড়া দিতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছে দেবিদ্বার
পৌরসভা। অন্যদিকে, ইজারা না দেওয়ায় চালক ও মালিকদের সুবিধা হলেও সাধারণ
যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়, এতে
ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।
দেবিদ্বার পৌরসভার একটি সূত্র জানায়, প্রতিবছর
পৌর এলাকার সাতটি সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করলেও
পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতাদের কারণে তা স্থগিত করা হয়। এতে দরপত্রের
বিজ্ঞপ্তির ইজারা খরচ দিতে হয় পৌরসভাকে। এছাড়াও দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কে
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর জায়গা প্রতি বছরে ৪ লাখ ৪০
হাজার টাকা লিজ নেয় দেবিদ্বার পৌরসভা। পরবর্তীতে সেখানে তারা সিএনজি
স্ট্যান্ডের জন্য ইজারা দেয়। কিন্তু গত তিন বছর ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকায়
ওই ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে পৌরসভাকে। এদিকে বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য
বিআরডিবি কর্তৃপক্ষ বারবার পৌরসভাকে চিঠিও দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা
গেছে, দেবিদ্বার পৌরসভা এলাকায় মোট সাতটি সিএনজি অটোস্ট্যান্ড রয়েছে। ২০২৪
সালে সাবেক সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনের আগে ইজারাদারদের
অতিরিক্ত জিবি (চাঁদা) আদায়ের অভিযোগ এনে সিএনজি মালিক ও চালকদের খুশি করতে
স্ট্যান্ডগুলোর ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তিনি বিজয়ী
হওয়ার পর ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। পরে ২০২৪ সালের শেষে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পৌরসভা থেকে নতুন করে সিএনজি স্ট্যান্ড
ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও সেই ইজারা কার্যক্রমও আলোর মুখ দেখেনি।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পৌরসভার সাতটি সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা
দরপত্র আহবান করে পৌরসভা। পরে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত করে
পৌরসভা। ২০২৬ সালেও কোনো ধরণের ইজারা ছাড়াই স্ট্যান্ডগুলো চলছে।
সূত্র
আরও জানায়, দেবিদ্বার পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা
ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক সিএনজি
অটোরিকশা অবাধে পৌর এলাকায় প্রবেশ করে। এতে দিন দিন বাড়ছে যানজট। দেবিদ্বার
পৌরসভার বাসিন্দা ময়নাল হোসেন ভিপি বলেন, সড়কে চলাচলকারী অনেক চালকের
ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, এমনকি অনেক গাড়ির বৈধ কাগজপত্রও নেই। ফলে দুর্ঘটনার
ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পৌরসভা
যদি ইজারা চালু করে এবং স্ট্যান্ডগুলোকে নিয়মের আওতায় আনে, তাহলে
পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তিনি আরও বলেন, চালকদের বাধ্যতামূলক ড্রাইভিং
লাইসেন্স, গাড়ির বৈধ কাগজপত্র ও নির্দিষ্ট ড্রেসকোড নিশ্চিত করা হলে
শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পাশাপাশি প্রতিটি স্ট্যান্ডে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা
টানিয়ে দিলে চালকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগও কমে যাবে। এতে যাত্রীসেবা
যেমন স্বাভাবিক হবে, তেমনি পৌরসভাও রাজস্ব আয় করতে পারবে। দেবিদ্বার
পৌরসভার চান্দিনা রোডের বাসিন্দা মো.ওমর ফারুক জানায়, সিএনজি
স্ট্যান্ডগুলোর ইজারা বন্ধ থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া বন্ধ হচ্ছে না।
চালকরা ইচ্ছেমত যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে। একদিকে সরকার যেমন
রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে। রাজনৈতিক নেতারা তাদের
ফায়দার জন্য সিএনজি স্ট্যান্ডের ইজারা বন্ধ রাখছে এতে চালকদের লাভ হলেও
জনগণের কোন লাভ হচ্ছে না।
দেবিদ্বার উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা
আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেবিদ্বার পৌরসভা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড
(বিআরডিবি) দেবিদ্বার কার্যালয় থেকে দেবিদ্বার-চান্দিনা রোডের জায়গাটি
বছরের ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় লিজ নেন। পরবর্তীতে তারা ওই জায়গায় সিএনজি
স্ট্যান্ডের জন্য ইজারা দিতেন। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তারা ওই স্ট্যান্ড
ইজারা দিতে পারছেন না আমাদের ভাড়াও দিতে পারছেন না। আমরা পৌরসভাকে ভাড়া
পরিশোধের জন্য চিঠি দিয়েছি, কয়েক মাস আগে এক বছরের ভাড়া পরিশোধ করেছে আরও
এক বছরের ভাড়া বাকি আছে।
দেবিদ্বার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারি
কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, দেবিদ্বার পৌরসভা এলাকায় মোট সাতটি
সিএনজি/ইজিবাইক ও কার, মাইক্রো, অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড রয়েছে। এগুলো
ইজারা দিয়ে সরকার বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু গত তিন বছরে
রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাদের কারণে স্ট্যান্ডগুলো ইজারা দেওয়া যাচ্ছে না।
এতে প্রায় ৪ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। এই রাজস্বের ৬০
শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হতো, বাকি ৪০ শতাংশ দিয়ে দেবিদ্বার পৌরসভার
বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যয় করা হতো, এখন তা করা যাচ্ছে না। আমরা
কয়েকবার ইজারার দরপত্র আহবান করলেও শেষপর্যন্ত স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের সিএনজি স্ট্যান্ডটি জায়গাটি
বিআরডিবি থেকে লিজ নিয়েছে পৌরসভা, এখন ইজারা না দিয়েও প্রতি বছরে ৪ লাখ ৪০
হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে বিআর। এতে কয়েক দিক থেকে লোকসান গুনতে হচ্ছে
পৌরসভাকে। বিধি অনুসারে সাতটি স্ট্যান্ড ইজারা দিলে সরকার ও পৌরসভা লাভবান
হতো।
বিষয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ
বলেন, দেবিদ্বার পৌরসভা কেন সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা দিতে পারছে না এ
বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে হবে।
