ইসমাইল নয়ন।।
এক
সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রকৃতিতে দেশীয় খেজুরগাছ ছিল পরিচিত
এক দৃশ্য। বিভিন্ন সড়কের ধারে, বাড়ির আশপাশে কিংবা জলাশয়ের পাড় ও পতিত
জমিতে বেড়ে ওঠা এসব গাছ শুধু শীতকালে রসের উৎসই ছিল না, বরং গ্রীষ্ম ও
বর্ষা মৌসুমে ফলন দিত পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশীয় খেজুর।
কিন্তু সময়ের
পরিবর্তনে এ গাছ ও এর ফলের প্রতি অবহেলা, নির্বিচারে গাছ নিধন এবং
সংরক্ষণের অভাবে এ দেশীয় ফল গাছটি এখন ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। যার ফলে
দেশীয় এ ফলটির পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নতুন প্রজন্মসহ সববয়সী মানুষ।
স্থানীয়
সচেতন মহল মনে করছেন, দেশীয় খেজুরগাছ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
বাস্তবায়ন, এ গাছের সুফল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের কাছে
খেজুর ফলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরা জরুরি। তা না হলে এক সময় এ উপজেলার প্রকৃতি
থেকে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ দেশীয় ফল ও এর ঐতিহ্য বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আগের তুলনায় খেজুর গাছের
সংখ্যা অনেক কমে গেছে। যে গাছগুলো টিকে আছে, সেগুলোর ফলও অধিকাংশ ক্ষেত্রে
অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় বাজারগুলোতেও দেশীয় খেজুরের উপস্থিতি এখন
নেই বললেই চলে। ফলে নতুন প্রজন্মের অনেকেই দেশীয় ঐতিহ্যের এই গাছটির
সুস্বাদু ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাচ্ছে।
উপজেলার
শিদলাই ইউনিয়নের পোমকারা এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, আমদের
ছেলেবেলায় বর্ষাকালে খেজুর পাকলে আমরা গ্রামের সমবয়সী ছেলেরা মিলে গাছে উঠে
খেজুর পাড়তাম। পাকা খেজুর খেতে খুবই সুস্বাদু ছিল। এখন গাছই কমে গেছে, যে
কারণে সেই দেশীয় ফলও এখন আর আগের মতো পাওয়া যায় না।
সদর ইউনিয়নের
দীর্ঘভূমি এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ মাস্টার বলেন,
খেজুরগাছ মানেই শুধু রস আর গুড় নয়। এক সময় এর ফলও ছিল গ্রামের মানুষের
পরিচিত ও পুষ্টিকর খাবার। আগে বাড়ির আশপাশের খেজুর গাছের ফল খেয়ে বড় হয়েছে
অনেক প্রজন্ম। এখন মানুষ বিদেশি ফলের দিকে ঝুঁকছে, আর দেশীয় খেজুর অবহেলায়
হারিয়ে যাচ্ছে।
মাইমুনা ইসলাম মৌ নামে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন,
বাজারে মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর সহজে পাওয়া যায়, কিন্তু আমাদের দেশীয় খেজুর খুব
একটা দেখা যায় না। যে কারণে এ প্রজন্মের অনেকেই দেশীয় খেজুরের স্বাদ ও
পুষ্টিগুণ থেক বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রকৃতিও হারাচ্ছে তার ভারসাম্য। এ ফল গাছ
সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
দেশীয় খেজুর একটি পুষ্টিকর ফল উল্লেখ
করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ( ইউনানি )
ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, দেশীয় খেজুরে প্রাকৃতিক শর্করা, খাদ্যআঁশ,
আয়রন, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এটি শরীরে দ্রুত
শক্তি যোগাতে সহায়তা করে এবং শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে।
তিনি
বলেন, খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস ও গুড়ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। তাই খেজুর
গাছকে শুধু রসের উৎস হিসেবে নয়, মূল্যবান ফলজ গাছ হিসেবেও বিবেচনা করা
উচিত।
