কুমিল্লার
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় রেটিনোব্লাস্টোমা (চোখের এক ধরনের ক্যান্সার) রোগে
আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী শিশু সাজিদকে বাঁচাতে প্রশাসনের পক্ষথেকে সহযোগিতার
হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাজিদের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া অসহায়
পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা জাহান।
আক্রান্ত
সাজিদ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কল্পবাস গ্রামের অটোরিকশাচালক মোঃ হালিম মিয়ার
ছেলে। সীমিত আয়ের এই পরিবারটি এখন তাদের কোলের সন্তানকে বাঁচাতে আপ্রাণ
লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ মাস বয়সেই
শিশু সাজিদের চোখে এই মরণব্যাধি ধরা পড়ে। এর আগেও হালিম মিয়ার এক পুত্র
সন্তান একই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অল্প বয়সে মারা যায়।
এছাড়া তাঁদের আরেকটি কন্যা সন্তান রয়েছে, যার ব্যাপারেও চিকিৎসকরা
পরিবারটিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
শিশু সাজিদের এই অসহায়ত্বের
কথা জানতে পেরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান
তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটির সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি শিশুটির প্রয়োজনীয় তথ্য
সংগ্রহ করে একটি প্রতিবন্ধী কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন। একই সাথে সরকারের
ক্যান্সার রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত আর্থিক অনুদানের আওতায় ৫০ হাজার টাকা
পাওয়ার লক্ষ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। পাশাপাশি উপজেলা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও উপহার দেওয়া
হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান জানান, অসহায় এই পরিবারটির
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের পাশে
থাকার চেষ্টা করা হয়েছে এবং আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা
হবে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাজিদের বাবা মোঃ হালিম মিয়া বলেন, "এর আগেও
চোখের ক্যান্সারে আমার একটা ছেলে মারা গেছে। এখন এই ছোট ছেলে সাজিদও একই
রোগে আক্রান্ত। আমাদের আরেকটা মেয়ের ব্যাপারেও ডাক্তাররা সাবধানে থাকতে
বলেছেন। আমি অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই, ছেলের চিকিৎসার এত টাকা
জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব। আমি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে
আমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য সাহায্য ও দোয়া চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দারা
জানান, অটোরিকশাচালক হালিম মিয়ার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া
সম্ভব নয়। প্রথম সন্তানকে হারানোর পর আরেকটি সন্তানকে যাতে তারা না হারায়,
সেজন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তারা সবাইকে
এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাজিদের সুস্থতার জন্য দোয়া করার আহ্বান
জানান।
