কুমিল্লায়
শিক্ষাবোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছেন দশম শ্রেণির এক
শিক্ষার্থী। জেলার দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর
উচ্চবিদ্যালয়ের এমনই এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ
ঘটনায় মঙ্গলবার স্থানীয় শরিফুল ইসলাম ও আলী আহাম্মদ (পাখি খান) স্বাক্ষরিত
একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক
শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগে ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি
করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে
নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড থেকে
এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বিদ্যালয়ের সহকারী
প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে। তার তত্ত্বাবধানে থাকা বিজ্ঞান বিষয়ের ওই
উত্তরপত্র তিনি নিজে মূল্যায়ন না করে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক
শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন (মার্কিং) করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার এ
ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে
এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।
এক সপ্তাহ আগে ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে শিক্ষক
বাচ্চু মিয়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতে দেখা
যায়। সে সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ওই ছাত্রের এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়,
বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ। জবাবে ওই
শিক্ষার্থী বলে, এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও
দিত না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার একাধিকবার ফোনকরা হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, একটি অভিযোগ
পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ড
কর্তৃপক্ষও বিষয়টি তদন্ত করবে। আমিও তদন্ত করব। তদন্তের আগে এ বিষয়ে কোনো
মন্তব্য করতে পারবো না।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক
বিক্রম চাকমা বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই শিক্ষকের
খাতাগুলোও বোর্ড দেখবে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন
করেছেন স্থানীয়রা। আমাকে অনুলিপি দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন
দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
