যেসব
কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থী নেই সেসব কলেজগুলোর তথ্য নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার
নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান
কর্তৃপক্ষকে ডেকে তাদের সম্পর্কে জানা হবে এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে
জানিয়েছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ।
২২ জুন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের
কর্মকর্তাদের প্রতি এ নির্দেশনা দেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।
জানা
গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮ টি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়
অংশ নিচ্ছে না কেউ। এসব কলেজের চারটি কলেজ থেকে রেজিষ্ট্রেশনই করে নি কেউ।
এর মধ্যে বাকি ৪ কলেজ থেকে রেজিষ্ট্রেশন করেও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি
ফাইনালের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই ৮ কলেজের মধ্যে চারটি কলেজ রয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলায় ও একটি ফেনী জেলায়।
এ বছর
কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৫ হাজার
৭০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর
সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এ
বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
গত ১৪ ই জুন সরকারি সময়ে রেজিষ্ট্রেশনের সময় শেষ হয়।
সে সময় কুমিল্লা
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ
মাধ্যমিক) এর দায়িত্বে থাকা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা
বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় মোট ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন
শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। আমরা আটটি প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছি
যাদের কলেজের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু তাদের কোন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায়
অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এছাড়া গতবছর শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ পাশের হারে ১৩
টি প্রতিষ্ঠানকেও কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয় তারা ২০১৭ সালে পরীক্ষায় অংশ
নিতে পারবে না।
উপ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মোঃ
সালাহউদ্দিন জানান, এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি।
মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া যেমনি নারী শিক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি
ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়া - তার কারণ ও খুঁজে বের করার চেষ্টা
চলছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার নোবেল কলেজ,
কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড
কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
এন্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং
উলুকান্দি কলেজ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড.
মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, কোন কোন কলেজগুলো থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন
সেসব কলেজ থেকে কোন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই
বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সেসেব প্রতিষ্ঠানগুলের
মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়ার পদ্ধতি আছে কি না আমরা
পর্যালোচনা করবো।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান
প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ বলেন, কোন কলেজগুলোতে একেবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা
নেই , আবার কোন কোন কলেজে তিন দিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে - এই
বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়
কিনা আমরা ভেবে দেখছি। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানেরই বাৎসরিক ফলাফল খারাপ হবে
কিংবা তাদের শিক্ষার্থী থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে কোন নীতিমালা তৈরি করে
সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা সাথে সাথেই পদক্ষেপ নিব। এতে করে
মানহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীরাও কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে
প্রতারণার শিকার হবে না।
