কুমিল্লা
জেলা পরিষদের বরাদ্দকৃত ১৯ লক্ষ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী এনসিপির সহযোগী
সংগঠন ছাত্রশক্তির ব্যানারে বিতরণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি অনিয়ম হয়েছে বলে দাবি
করছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।
সোমবার (৮ জুন)
সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলার ৩৮৫টি
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের মাঝে এসব ক্রীড়া সামগ্রী
বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয়
এমপি ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে তিনি ওই
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ব্যানারে আয়োজিত ওই
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রধান
সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম এবং কেন্দ্রীয় যুবশক্তির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
নাজমুল হাসান নাহিদসহ স্থানীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও এনসিপির বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতাকর্মী।
কুমিল্লা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দেবিদ্বার
উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভার ৩৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর
শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া
হয়। তবে সরকারি অর্থায়নের কর্মসূচি রাজনৈতিক বা সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে
আয়োজন করায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে অনেকেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এদিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি
করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই ছিল মূল
উদ্দেশ্য এবং এ কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।
এ বিষয়ে
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেবিদ্বার উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক মো.
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলা পরিষদের অর্থায়নে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করা
ঠিক হয়নি, তারা এটা ভুল করছে। আমি তাদেরকে এ বিষয়ে বলেছি, এ কাজটা ভালো
হয়নি, তোমরা এ কাজটা কেন করলা ? এখন দেখ! এগুলো ফেসবুকে লেখালেখি হচ্ছে।
তারা রাজনৈতিভাবে এতোটা অভিজ্ঞ না।
জেলা পরিষদ প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া
বলেন, ক্রীড়া সামগ্রীগুলো জেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলা জেলা
পরিষদের প্রতিনিধি বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিতরণ করার কথা। কোন
রাজনৈতিক দলের ব্যানারে কেউ দিতে পারে না। বিষয়টি অনিয়ম হয়েছে। আমি এখনই
খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
