কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:৩৬ এএম আপডেট: ০৯.০৬.২০২৬ ২:০১ এএম |

কুমিল্লা
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা
মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক
সেনাসদস্য শাহিন আলমের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া
হয়েছে। সোমবার কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ১ নম্বর আমলি আদালতের
বিচারক মুমিনুল হক এ নির্দেশ প্রদান করেন।
কুমিল্লা কুমিল্লা জেলা জজ
আদালতের পিপি এডভোকেট কাইমুল হক রিংকু গতকাল রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত
করেছেন।সাবেক সেনাসদস্য শাহিন আলম কুয়েতে পালিয়েছেন এবং অবসরপ্রাপ্ত
সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান কোথায় পালিয়েছেন তা জানা যায়নি। আর এ মামলায়
গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি হাফিজুর রহমান বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয়
কারাগারে রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত কুমিল্লা
সেনানিবাসের স্ট্যাটিক সিগন্যালের সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার টাঙ্গাইল সদরের
হোগড়া গ্রামের মো. হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে তনু হত্যা মামলা সম্পর্কে
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত প্রধান
সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ও সাবেক সেনাসদস্য শাহিন
আলমের উপস্থিতি এবং হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। এ কারণে
বিজ্ঞ বিচারক মুমিনুল হক তাঁর আদেশে দেশের বাইরে পলাতক জাহিদুজ্জামান ও
শাহিন আলমকে আইনের আওতায় আনতে এবং বিচারের মুখোমুখি করতে গ্রেপ্তারী
পরোয়ানা জারিক্রমে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করতে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর
আগে ২২ এপ্রিল মো. মুমিনুল হকের আদালতে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ
পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম হাফিজুরকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন
করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে ওই সেনাসদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
করেন। এরপর তাঁকে পিবিআইয়ের রাজধানীর কল্যাণপুরে বিশেষ ইউনিটে নিয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ ২৫ এপ্রিল তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা
হলে আদালত তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর পর
থেকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারেই আছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা
পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, সোমবার মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল।
এ জন্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে হাজির করা হয়েছে। পরে আদালত
তাঁকে ফের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এটা
মামলার নিয়মিত কার্যক্রমের প্রক্রিয়া। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অপর আসামিদের
আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায়
কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি
তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের
মধ্যে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।