
সকল
ফেডারেশনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবর্গের সঙ্গে আজ দুপুরে মত বিনিময় করেছেন যুব
ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তবে সভায় উপস্থিত ছিলেন না দেশের দুই
শীর্ষ ফেডারেশন ফুটবল ও ক্রিকেটের সভাপতি। এছাড়া বাকিদের উপস্থিতিতে তাদের
নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে করা হয়েছে আলোচনা।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের
বিল্ডিংয়ের কোল ঘেষেই রয়েছে পল্টনস্থ সুইমিংপুল। ১৯৮৫ সালের সাফ গেমসে এই
তৈরি পুলে হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পরিত্যক্তে পরিণত হয়। জাতীয় কিংবা বয়স
ভিত্তিক কোনো আসরই এখানে হয় না। ফেডারেশনের দাপ্তরিক কাজও হয় কম।
শুধুমাত্র বাচ্চাদের সাতার শেখানোর কার্যক্রম হয়। এই পুলে একটি
মাল্টিস্পোর্টস টাওয়ার নির্মাণের বিষয় আলোচনা হয়েছে আজ। যুব ও ক্রীড়া
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রস্তাবে উপস্থিত সকল ফেডারেশনেই এতে সম্মতি
দিয়েছেন।
সাতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাহীন বলেন,
‘অনেক ফেডারেশনের অফিস নেই। আবার অনেক ফেডারেশনের ইনডোর ভেন্যুর সমস্যা।
একটি মাল্টিস্পোর্টস কমপ্লেক্স হলে সেটা সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ভালো।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় সুইমিংপুলের জায়গায় এটা করার পরিকল্পনা করছেন।’
সুইমিংপুলের
পাশাপাশি ব্যাডমিন্টন-টেবিল টেনিসের ইনডোর স্টেডিয়ামের এলাকাকেও
মাল্টিস্পোর্টস কমপ্লেক্স করার আলোচনা ছিল এক সময়। তবে সেটি আর এগোয়নি।
জাতীয়
ক্রীড়া পরিষদ পাকিস্তান আমলের পুরোনো বিল্ডিংয়েই কার্যক্রম চালানো হতো।
দুই দশক আগে বড় টাওয়ার নির্মাণ হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা ও
ভারত্তোলন ফেডারশেনের সভাপতি উইং কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ (অব) সেই
টাওয়ার নির্মাণে লটারি বিক্রি কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এনএসসি
টাওয়ার করা হয়েছিল ফেডারেশনগুলোর অফিস করার জন্য পরবর্তীতে সেটা
বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে অনেক ফ্লোর।
ক্রিকেট ও ফুটবল ছাড়া অন্য সকল
ফেডারেশন আর্থিকভাবে খুব দুর্বল। তাই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফেডারেশনগুলোকে
একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সিড মানি দিতে চান। ঐ টাকার বিপরীতে প্রাপ্ত সুদ
থেকে ফেডারেশন তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সভা সূত্রে জানা গেছে,
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়ে ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
সিড মানির পাশাপাশি প্রতিটি ফেডারেশনে একটি করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পৃক্ত
করার ভাবনা রয়েছে মন্ত্রীর।
ক্রিকেট বাদে বাকি সকল ফেডারেশনই সাবেক
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সময়কার। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে
সরকার বদল হলে ফেডারেশনের কমিটিও বদল হয়। ফেডারেশনের বিদ্যমান কমিটির
ভবিষ্যত নিয়েও খানিকটা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আজকের সভায়। যদিও এই বিষয়ে
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তেমন কিছু না বললেও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে
যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
