এক
সময় পবিত্র মসজিদুল হারামে আলোর প্রধান উৎস ছিল তেলের প্রদীপ আর মোমবাতি।
সেই প্রাচীন প্রথা থেকে আধুনিক বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের ইতিহাস
অত্যন্ত চমকপ্রদ। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন আবদুর
রহমান আল সৌদের শাসনামলে মসজিদুল হারামের আলোকসজ্জায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন
আসে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুর দিকে
মসজিদুল হারামের আলোর ব্যবস্থা মূলত কাবা শরিফ সংলগ্ন মাতাফ বা তাওয়াফের
চত্বরকে কেন্দ্র করেই ছিল। তখন পাম গাছের আকৃতিতে তৈরি করা তামার পিলারের
ডালপালায় ঝোলানো হতো অসংখ্য প্রদীপ।
মসজিদুল হারামের বারান্দার
স্তম্ভগুলোর মাঝে লোহার শিকল বা রড লাগানো হতো বাতি ঝোলানোর জন্য। সেই সময়
প্রায় ১ হাজার ৪২২টি প্রদীপ ব্যবহার করা হতো। মিনারের আলোর জন্য আলাদা
ব্যবস্থা ছিল।
কাবার দেয়ালের চার পাশে পিত্তলের শৌখিন বাতিদান এবং
প্রদীপ দিয়ে আলোকসজ্জা করা হতো। কাবার দরজায়ও সাদা ধাতুর তৈরি একটি বিশেষ
বাতিদান রাখা হতো।
সৌদি আরব রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে সীমিত
পরিসরে বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়। মাতাফের চারপাশে সামান্য আলোর জন্য
মাত্র ৩ কিলোওয়াটের একটি ছোট জেনারেটর ব্যবহার করা হতো। তবে বাদশাহ আবদুল
আজিজ দায়িত্ব নেওয়ার পর এর আমূল পরিবর্তন শুরু হয়। ১৩৪৭ হিজরি সনের শাবান
মাসে তার নির্দেশে পুরোনো সব প্রদীপ সরিয়ে ৩০০টির বদলে ১ হাজার বৈদ্যুতিক
বাতি লাগানো হয়। ফলে পুরো মাতাফ ও বারান্দাগুলো প্রথমবারের মতো ঝলমলে রূপ
পায়।
এরপর ১৩৪৯ হিজরি সনে আলোক ব্যবস্থার আরও উন্নতির জন্য ১৩
হর্সপাওয়ারের একটি নতুন জেনারেটর আনা হয়। ১৩৫৫ হিজরিতে বাদশাহ আবদুল আজিজ
নিজ উদ্যোগে তৎকালীন আধুনিক ‘ক্রসলি’ কোম্পানির একটি শক্তিশালী জেনারেটর
উপহার হিসেবে প্রদান করেন। একই সময়ে আলোর বিচ্ছুরণ আরও সুন্দর করতে মসজিদের
স্তম্ভগুলোতে মার্বেল পাথর বসানোর কাজ শুরু হয়।
উন্নয়নের এই
ধারাবাহিকতায় ১৩৬৯ হিজরি সনে মক্কা নগরীতে বিদ্যুৎ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার
ফরমান জারি করা হয়। এর ফলে ছোট ছোট জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা কমে আসে।
পরবর্তী সময়ে ১৩৭৩ হিজরির শুরুতে তানঈম এলাকায় মক্কার প্রথম কেন্দ্রীয়
বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস উদ্বোধন করা হয়।
ইতিহাসের এই
দীর্ঘ পথচলা এবং তেলের প্রদীপ থেকে আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তরের
প্রতিটি ধাপই এখন ঐতিহাসিক দলিল ও আলোকচিত্র হিসেবে শাহ আবদুল আজিজ
ফাউন্ডেশনে সংরক্ষিত রয়েছে।
