
পরিমাপের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না ভোক্তারা। পণ্যের গুণগত মান, সঠিক ওজন, ন্যায্যমূল্য এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে ভোক্তার সচেতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত তারা ঠকছেন। লাভবান হচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। ডিজিটাল যুগে এখনো হাটবাজারে চাল-ডাল থেকে শুরু করে মাছ-মাংস দাঁড়িপাল্লায় বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। কারচুপি করে পরিমাপে কম দিয়ে ঠকানো হচ্ছে ভোক্তাদের। ভোক্তা অধিদপ্তরের বাজার অভিযানে তা ধরাও পড়ছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লোকবলসংকটে এ বিষয়ে সারা দেশে নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডিজিটাল প্লাটফর্মে মিথ্যা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা এবং ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের খবর প্রায়ই বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে। এ জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতারিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পরিমাপে কারচুপি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা আরও বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্রের তথ্যভিত্তিক নীতি প্রণয়নের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিমাপ তথ্য অপরিহার্য। সরকারি নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন স্তরে মেট্রোলজির ভূমিকা রয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা নীতিতে প্যাকেটজাত পণ্যের নিট ওজন ও পরিমাণ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি পরিমাপের সঠিক লিগ্যাল মেট্রোলজি কার্যক্রম ভোক্তাদের সুরক্ষা দেয় এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করে।
বিএসটিআই প্রণীত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প ও বাণিজ্যনীতিতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিমাপ পদ্ধতি প্রয়োজন। জাতীয় মান প্রণয়ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পণ্যের মান প্রণয়নের পাশাপাশি পরিমাপে নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং দেশে ম্যাট্রিক সিস্টেম ও এসআই ইউনিট বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। এটি ওজনে কারচুপি রোধে লিগ্যাল মেট্রোলজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এর অধীনে ২০১০ সালের সাতটি অত্যাধুনিক অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবরেটরির সমন্বয়ে ন্যাশনাল মেট্রোলজি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; যা পরিমাপের জাতীয় মানদণ্ড স্থাপন ও সংরক্ষণ এবং পরিমাপের আন্তর্জাতিক ট্রেসেবিলিটি সংরক্ষণ করে। বিএসটিআই বাংলাদেশের একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় মেট্রোলজিব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের শিল্প বিকাশ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, ভোক্তা সুরক্ষা এবং সুষ্ঠু নীতি নির্ধারণে অবদান রেখে চলেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, ওজন ও পরিমাপের সঠিক মান বজায় রাখার জন্য সরকার বাংলাদেশের ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন ২০১৮’ প্রণয়ন করেছে। কাজেই কাঁচা বাটখারা ব্যবহার করা যাবে না। বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিদপ্তর রয়েছে। তাদের এগুলো দেখতে হবে। আইন প্রয়োগ করতে হবে। ভোক্তাদের সচেতন হতে হবে। যারা কাঁচা বাটখারায় জিনিস বিক্রি করে, তাদের এড়িয়ে চলতে হবে। আবার বিক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে। সরকারের আইন মেনে চলতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছে অনেক আগে। এ আইনের প্রকৃত ওজনের চেয়ে কম ওজন দিলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। সঠিকভাবে সব খাতে পরিমাপ নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।
ওজন বা পরিমাপে ঠকছেন ভোক্তা। এ জন্য ভোক্তাদের সুরক্ষা এবং ব্যবসায়ীদের কারচুপি ঠেকাতে সরকারি নজরদারি বাড়াতে হবে। বিএসটিআই ও ভোক্তা অধিদপ্তরকে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে। ভোক্তা সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আশা করছি, সরকারের দক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা ও সার্বক্ষণিক তদারকি ভোক্তার অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
