কুমিল্লার
লালমাইয়ে আগুন লেগে ১০টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া আরও ১৫টি বসতঘর
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (২৬ মে) বিকেল অনুমান ৫টার দিকে উপজেলার
বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বলিপদুয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়
বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকেলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট
থেকে টিনশেডধ ঘরগুলোতে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের
ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাটি ঘনবসতি হওয়ায় একে একে ১০টি বসতঘর সম্পূর্ণ
পুড়ে যায় এবং ১৫টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ
অর্থ, কাপড়চোপড়সহ সব মালামাল পুড়ে যায়। পরে লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিস ও
সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন
নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকান্ডে পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোর মালিক হলেন বিবলা বেগম,
মো. লিটন, সুমন মিয়া, পারভেজ, মো. রবিউল, চারু মিয়া, কবির হোসেন, খোরশেদ,
আবদুর রশিদ, দুলাল হোসেন, এমরান হোসেন, মো. রফিক, ইউসুফ, মো. রাশেদ,
শাহপরান, মহসিন, গিয়াস উদ্দীন, বাহার হোসেন, মোশারফ হোসেন, আমির হোসেন,
আবদুল জলিল, জাকির হোসেন, মো. ইকবাল, মনির হোসেন, জামাল হোসেন।
ক্ষতিগ্রস্ত
চটপটি বিক্রেতা মো. লিটন জানান, আমার সব শেষ হয়ে গেছে। পরনের কাপড়চোপড়
ছাড়া রান্না করে খাওয়ার মতো চাল-ডাল, হাড়ি-পাতিল কোনো কিছুই রইলো না। এখন
খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান
(ভারপ্রাপ্ত) লোকমান হোসেন বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আকস্মিক
অগ্নিকান্ডে বলিপদুয়া এলাকার ২৫টি ঘর পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ
অটোরিকশা চালায়, কেউ ক্ষেতখামারে কাজ করে, কেউবা চটপটি বিক্রি করে জীবিকা
নির্বাহ করছে। দরিদ্র হওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ওই
পরিবারগুলো। লালমাই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ
এতো বাড়তো না। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে
বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালমাই উপজেলা
নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, খবর পেয়ে ফায়ার
সার্ভিসের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন
নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে অনেকগুলো ঘর পুড়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও
সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
