আমাদের বিবেকের বিস্ময়, একটি অগ্রগতি
চেতনাকে ধার দিতে দিতে, ছুটে চলা সময়-সমাজ
নাকি বিবেকের উড়ে চলা, মহাকাশের বলাকা ?
আমাদের জীবনের বালক-বেলার ঘুম কেড়ে নেয়া
জয়ধ্বনি, ধূমকেতু, কামাল পাশার সঙ্গে
হাতে হাত কিংবা বীরদর্পে- চল্ চল্ চল্...
সে ছিল অলীক শক্তি অথবা অথৈই সাগরে
আমি যেন স্বপ্ন দেখি, তবে কি ‘তাঁহার’ মতো ?
সে আসে গর্জনে, নীরবে নিভৃতে, প্রমিলা-প্রেমের রঙে
আমাদের মননের যৌবনে, নতুবা প্রেম হয়ে
আমি যেন উড়ু উড়ু, ঝাকড়া চুলের সে-ই কবি
সকাল অথবা নীল দুপুরের, খোলা জানালায় !
গায়ের অসীম শক্তি প্রতিটি বিপ্লবে, আন্দোলনে
চেতনার চিত্রপটে রক্তাক্ত তুলির সেই ফিনিক্স পাখিরা
শক্তি হতে হতে স্থির হয়ে আমাকে জ্যৈষ্ঠের কাছে
মধুমাস, আম-জাম, কাঁঠালের, দোয়েলের, শাপলার
নাকি চিরচেনা সেই বিদ্রোহী-বিবেক
নাকি আনন্দময়ীর রক্ত-স্মৃতি আগমনী গান
নাকি হে মোর ‘হৃদয়-রানী’ যার কাছে হার মানি
নগর কুমিল্লা সেই প্রেম ভালবাসা মিলনের অর্ঘ্য
সব্যসাচী, অনিরুদ্ধ, বুলবুল, বাগিচা বাগান জুড়ে
যাপিত জীবন নিয়ে, স্মৃতি হয়ে, প্রীতি হয়ে
তুমি আসো- হে চির বিদ্রোহী বীর !
তোমাকে ভুলেছি বলে, তুমি চলে গেছো অনন্তের কাছে
তুমি চলে গেছো, মসজিদের পাশেই পুষ্পে-ঢাকা বরযাকে
তবু আমি স্বপ্ন দেখি-
তুমিতো আসবে আদি চেতনায়, রূপেলা-বাংলায়
মিছিলে মিছিলে কিংবা নারী হয়ে মুক্তির পতাকা হাতে
তুমিতো আসবে সেই প্রতিদিন, এই অনাগত কালে
শুধু শুধু ত্রিশালের নয়, দৌলতের-কান্দিপাড়
কিংবা ঢাকা হয়ে সারা দেশে
আমাদের গৌরবের উদ্যানে উদ্ধার হয়ে
অন্ধকারে চাঁদ, মরুঝড়ে বৃষ্টির-বিকাশ।
তুমি হলে চেতনার মহাকাশ
আমাকে ছেড়েই হবে আমাদের
নেই কোন ভুল, তুমি হলে বাঙালির নজরুল
মানুষের পৃথিবীতে মানুষের জন্য, প্রীতিধন্য...
