কুমিল্লা প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার
লালমাই পাহাড়ের প্রান্তিক জনপদে বন্ধুদের একদিনের হাসপাতালে বিনামূল্যে ৫
হাজার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি
আশেপাশের পাঁচটি গ্রামের মানুষ উপহার হিসেবে পেয়েছেন গাছ, ঔষধ ও নতুন
পোষাক। ৭০ টি বুথে আলাদা আলাদা রোগের জন্য দিনভর সেবা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ
চিকিৎসকগণ।
শুক্রবার দিনব্যাপী লালমাই উপজেলার বারপাড়ার বড় ধর্মপুরের
পাহাড়ের মকবুল টিলায় এই আয়োজন করা হয়। এসএসসি ২০০২ ও এইচএসসি ২০০৪ ব্যাচের
উদ্যোগে এই হেল্থক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
এই ক্যাম্পের প্রধান অতিথি
হিসেবে অংশ নেন পাবলিক সার্ভিস এডমিনিস্ট্রেশন- পিএসসির সদস্য অধ্যাপক
সায়মা ফেরদৌস। তিনি বলেন, এমন আয়োজন প্রান্তিক মানুষের জন্য অমূল্য উপহার।
একই সাথে এ অঞ্চলের মানুষ যে অব্যবস্থাপবার কারণে হামের মত রোগে মৃত্যুবরন
করছে - তার তদন্তপূর্বক বিচার চাই।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ডা. কমরুল ইসলাম
মামুন বলেন, ব্যাচের প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে এই একদিনের হাসপাতালে ৭০ টি
বুথে বড় ধর্মপুর, মঙ্গলমুড়া, রতনপুর, শিবপুর, চন্ডীপুর দুতিয়াপুর, দত্ত পুর
গ্রামের অন্তত ৫ হাজার মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। এখানে সব কিছুই বিনামূল্যে।
একটি সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগে যতগুলো বিষয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় তার
সবগুলোই এই ক্যাম্পে রাখা হয়েছে।
হেল্থক্যাম্পে গিয়ে দেখা গেছে, লালমাই
পাহাড়ের এক পাশে মকবুল মুরা নামক পাহাড়ে সারিবদ্ধ ভাবে উঠছে মানুষ। নামছে
হাতে গাছ আর ঔষধ নিয়ে। শিশু থেকে বৃদ্ধ- নারী পুরুষ ভিড় জমিয়েছেন ক্যাম্পের
বুথের সামনে। চোঁখের সমস্যা, কেউ ডায়বেটিস, অর্থোপেডিক্স, নাক কান গলা,
গাইনী বিভাগের বুথে ভিড় বেশি। ডাক্তার দেখিয়ে প্রেসক্রিপশন নিয়ে আবার পাশের
বুথ থেকে নেয়া হচ্ছে ঔষধ। তারপরই চিকিৎসা নিতে আসা মানুষজন পেলে উপহারের
গাছ ও পোশাক।
বড় ধর্মপুর থেকে আসা মিথিলা কর্মকার জানান, শ্বশুর
শ্বাশুড়ি ছেলে মেয়ে সবাইলে ডাক্তার দেখিয়েছেন। শ্বশুর চোখের সমস্যা
ভুগছিলেন- তার বড় উপকার হলো। ছেলে ময়েদেরও কান গলা পরীক্ষা হলো।
চিকিৎসা
দিতে আসা ডা. মনিকা ইসলাম জানান, অনেক নারীই গাইনী সমস্যা নিয়ে এসেছে।
তারা অনেকেই অনেক দিন ধরে মেয়েলী সমস্যায় ভুগছে- কিন্তু লজ্জায় চিকিৎসকের
কাছে যায় নি। এখানে আমাকে পেয়ে অনেকেই মন খুলে কথা বলেছে।
অনুষ্ঠানের
আহ্বায়ক ডা. কমরুল ইসলাম মামুন বলেন, প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা
পৌঁছে দিতেই আমরা পাহাড়ের কোলে এই আয়োজন করেছি। প্রতিবছরই আমাদের ব্যাচের
এমন আয়োজন হয়ে থাকে। আশা করছি সামনেও এ ধরনের আয়োজন করতে পারব।
