
বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার জোরালো আশ্বাস
দেওয়া হলেও বাস্তবে রাজধানীর বাজারগুলোতে সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা
দিয়েছে। ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা পৌঁছেছে চরমে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও
ব্যবসায়ীদের দফায় দফায় বৈঠকের পরও সয়াবিন তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে
না। উল্টো কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বাজারগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র
সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে খোলা সয়াবিন তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
শুক্রবার
(১৭ এপ্রিল) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার, নারিন্দা বাজার ঘুরে
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতাদের
অভিযোগ, বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি। খুচরা পর্যায়ে অধিকাংশ দোকান
থেকে উধাও ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত
সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েকটি দোকান ঘুরে পাওয়া গেলেও
সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে। খোলা তেল কিনতে
হলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।
বাজারে খোলা সয়াবিন সাধারণত কেজি ও লিটার
দুভাবেই বিক্রি হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি
লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একইভাবে খোলা পাম
তেলের দাম প্রতি লিটার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দিন ধরেই
এরকম অবস্থা বিরাজ করছে বাজারে।
এদিকে, বাজারে এখন সরকার নির্ধারিত ৫
লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯৫৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও এক লিটার
১৯৫ টাকা। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত এই দামে বাজারে তেল মিলছে না।
নারিন্দা
বাজারের আক্কাস জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী আক্কাস আলী বাংলা
ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে তার দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তিনি জানান,
অর্ডার দেওয়া থাকলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও
ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এ
পরিস্থিতিতে দেশের বড় তেল কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে আগ্রহী হলেও সরকার তাতে
সম্মতি না দেওয়ায় তারা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এ জন্য খোলা তেল বিক্রি করছি।
তিনি আরও বলেন, দাম বাড়ার খবর শুনলে অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনে রাখেন, ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট আরও বেড়ে যায়।
রায়সাহেব
বাজারের বিক্রয়কর্মী নাহিদ বলেন, বাজারে এখন বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই বললেই
চলে। আমরা খুব কম তেল পাচ্ছি; যা পাচ্ছি তা একবেলাতেই শেষ হয়ে যায়। সরবরাহ
না থাকায় খোলা তেল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
একই বাজারের খুচরা
বিক্রেতা রহমান হোসেন জানান, কোম্পানির লোক দুদিন ধরে আসছে না। বাজারে
গুঞ্জন রয়েছে, দাম না বাড়লে তারা তেল ছাড়বে না। এই কৃত্রিম সংকটের কারণে
পাইকারি বাজারে খোলা তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি দরেই তা
কিনতে হচ্ছে।
এদিকে বাজারে তেলের এমন হাহাকারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন
সাধারণ ক্রেতারা। নারিন্দা বাজারে তেল কিনতে আসা রহিম বলেন, টিভিতে শুনলাম
তেলের দাম বাড়বে না, সরবরাহ ঠিক থাকবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি বোতলজাত তেল
নেই। বাধ্য হয়ে ২১০ টাকা কেজি দরে খোলা তেল কিনতে হচ্ছে।
রায়সাহেব
বাজারে ক্রেতা মারুফ হাসান অভিযোগ করেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা যোগসাজশ করে
কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। সরকারের উচিত কেবল বৈঠক না করে বাজার তদারকিতে
কঠোর হওয়া।
