
কুমিল্লায়
আন্তর্জাতিক মানের একটি নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন কৃষি,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন। একই সঙ্গে তিনি
কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কুমিল্লা টাউনহল মাঠে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি
শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা
বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে নার্সিং পেশার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ইউরোপ, আমেরিকা, জাপানসহ উন্নত বিশ্বে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দক্ষ নার্সের
প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যমান নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর
অধিকাংশই আন্তর্জাতিক মান পূরণ করতে পারছে না। এ বাস্তবতায় কুমিল্লায় একটি
আন্তর্জাতিক মানের ইংলিশ মিডিয়াম নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া
হয়েছে, যা গোমতী নদীর তীরে গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি
আন্তর্জাতিক মানের নার্স তৈরি করতে পারি, তাহলে দেশের কর্মসংস্থানের নতুন
দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একজন দক্ষ নার্স বিদেশে গিয়ে বছরে কোটি টাকার বেশি আয়
করতে পারে।”
একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখার
আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “যুবসমাজকে ধ্বংস করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে
মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।” এ সময় উপস্থিত কৃতি
শিক্ষার্থীরা হাত তুলে মাদককে ‘না’ বলার অঙ্গীকার করেন।
মন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের সাফল্যেই
দেশের অগ্রগতি নির্ভর করছে। জীবনে বড় হও, পৃথিবীকে জানো, তবে সৎ ও সুস্থ
থাকো।”
অনুষ্ঠানে কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও
গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “কুমিল্লায় মেডিক্যাল কলেজসহ নানা
ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাব রয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত।” এ
সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সম্মতি জানালে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, কুমিল্লায়
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
সিলভার ডেভেলপারস লিমিটেড,
দৈনিক কুমিল্লার কাগজ ও মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলভার ডেভেলপারসের পরিচালক অধ্যাপক
ফারুক আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা
বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূইয়া, অধ্যাপক আবুল হাসনাত মো.
মাহবুবুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা জিলা
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাফিজসহ অন্যান্যরা।
এ সময় কুমিল্লা সিটি
কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ‘বিবেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ মোল্লা টিপু,
কুমিল্লার কাগজের সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কাশেম হৃদয়, স্বেচ্ছাসেবক দলের
সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং কুমিল্লা টাউনহল সদস্য সচিব
সাজ্জাদুল কবির সাজ্জাদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত
শিক্ষার্থীদের সনদ ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ
সাফল্য কামনা করা হয়।
