নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা
মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুকে বাঁচাতে তার পিতার ভুমিকার কথা
উল্লেখ করে সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন- ‘এক এগারোর সময়ে
একদিন আমি খবর পেলাম যদি আজকের মধ্যে কিছ না করা হয় তাহলে আবুকে ক্রস
ফায়ার করা হবে। আবু তখন জেলে। এরপর আমি কুমিল্লা আসলাম ক্যান্টনমেন্টে
গেলাম তালিকা খুঁজে বের করলাম। অনেক কিছু রাজি হলো কিন্তু আবুর ব্যাপারে
রাজি হলো না। তারপর আমি আবার বাসায় আসলাম।’
উদবাতুল বারী আবুর সদ্য
প্রয়াত পিতার স্মৃতিচারণ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন- ‘এরমধ্যে আবুর বাবা
আমার বাসায় হাজির, একহন সাধাসিধা মানুষ। উনাকে সাথে বসতে বললাম কিন্তু উনি
বসলেন না- বললেন আপনি পারবেন, কথা না দিলে আমি আপনার সাথে বসবো না।আমার
ছেলেটাকে বাঁচান। আমি বললাম, মনে হয় না পারবো। উনি বললেন, আমি বিশ্বাস করি
আপনি পারবেন। পরে আল্লাহ পাক আবুকে রক্ষা করেছে। ছেলের জন্য তাঁর অঝরে
চোঁখের পানি ঝরেছে। আমি কিছু করি নাই আল্লাহ যা করার করেছে। আজকে তাঁকে
শেষ বিদায় জানাতে এসেছি। আবুর জন্য তার বাবা অনেক করেছে- এটাই বললাম।’
কুমিল্লা
মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুর পিতা শমশের আলী বৃহস্পতিবার
বিকেলে ইন্তেকাল করেন। গতকাল বাদ জুম্মা কুমিল্লা টাউন হল মাঠে তার প্রথম
জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল চৌধুরী ছাড়াও
বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা
মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ¦ আবদুল
গফুর ভূইয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা বিএনপির
সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান
আমির, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু, দৈনিক কুমিল্লার
কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক
আক্তারুজ্জামান সরকার, সদস্য সচিব তারেক মুন্সীসহ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
দুপুরে
টাউন হল মাঠের জানাজা শেষে বিকালে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার দেবপুর সংলগ্ন
কাছারিতলা গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে উদবাতুল বারী আবুর পিতা শমশের আলীকে
গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় কুমিল্লা-৫
আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিনসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
