আজ
রাহমাতের অংশের শেষ জুমা'। জুমার দিনের ফজিলত অপরিসীম। মহান আল্লাহ
কুরআনুল কারিমে ঘোষনা করেন " হে ঈমানদারগণ যখন জুমার দিন নামাজের জন্য
তোমাদেরকে আহবান করা হবে অর্থাৎ জুমার নামাজের আযান দেওয়া হবে তখন তোমরা
জিকির তথা নামাজের দিকেই ধাবিত হবে এবং সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য পরিত্যাগ
করবে। এতেই তোমাদের জন্য মঙ্গল নিহীত যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে পার।
সুরা-জুমা', পারা-২৮, আয়াত-৯। জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে নূর নবিজী দঃ
এরশাদ করেন- "নিশ্চয় জুমার দিন হলো সকল দিনের শ্রেষ্ঠ দিন ও আল্লাহ রাব্বুল
আলােিমেনর নিকট অধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন। (শুধু তাই নয়) এই দিনটি আল্লাহ
তায়ালার নিকট ঈদুল আদ্বহা ও ঈদুল ফিতরের চেয়েও অধিক সন্মানীত দিন। এই দিনের
বিশেস ৫টি বৈশিষ্ট বিদ্যমান। ০১. এই দিনেই মহান আল্লাহ হযরত আদম আঃ কে
সৃষ্টি করেছেন। ০২. এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আঃ কে পৃথিবীতে অবতরণ
করান। ০৩. এই দিনেই আদম আঃ এর ইন্তিকাল হয়। ০৪. এই দিনের এমন একটি সময় আছে
যখন বান্দাহ মহান আল্লাহর নিকট যা চাইবে মহান আল্লাহ বান্দাহকে তাই দিবেন
যতক্ষন সে হারাম বস্তু না চায়। (অর্থাৎ হারাম বস্তু ছাড়া সবকিছুই দেওয়া
হবে।) ০৫. এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। আল্লাহ তায়ালার সকল নৈকট্য
অর্জনকারী ফেরেশতাগণসহ আকাশ, বাতাস, পাহাড় সমুদ্র প্রত্যেকেই জুমার দিনে এই
ভয়ে আতঙ্কে থাকে যে, কিয়ামত হয়ে যায় কিনা। ইবনে মাজাহ শরিফ, হাদিস
নং-১০৮৪।
যে ব্যাক্তি জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করবে মহান আল্লাহ তার
দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে নূরে আলোকিত করে দিবেন। মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস
নং-৩৪২৯।
জুমার নামাজ ও দিনের ফজিলত ও বরকত আমরা অহরহ শুনি কিন্তু এর
উপর আমল করি কয়জনে? রামাদ্বান আসলো। আমাদের কাছ থেকে বিদায়ও নিয়ে যাচ্ছে।
রাহমাতের অংশের শেষ জুমা। আর মাত্র দুই দিন। রাহমাতের অংশ একটি বৎসরের জন্য
বিদায় নিয়ে যাবে আমাদের কাছ থেকে হয়ত বা কারও কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাবে
চিরদিনের জন্য। দুনিয়ার ব্যাপারেতো হিসাবের কোন কমতি করিনা আমরা। কড়ায়
গন্ডায় হিসাব বুঝে নেই। সেটা জায়েজ। কিন্তু নিজের আমল নামার ব্যাপারে রয়ে
যাই সম্পূর্ণ উদাসীণ। এটাতো মুমিনের চরিত্রের বৈশিষ্ট হতে পারেনা। রাহমাতের
অংশ দিয়েছিলেন মহান আল্লাহ আমাদেরকে রাহমাত দেওয়ার জন্য, তা কতটুকু নিতে
পেরেছি বা অর্জন করতে পেরেছি? একটু ভেবে দেখবেন কি?
মহান আল্লাহ রাহমাতের অংশের প্রতিটি মুহুর্তের রাহমাত ও বরকত আমাদের সবাইকে নসিব করুন। আমীন বিহুরমাতি রাহমাতাল্লিল আলামিন।
লেখক: প্রধান ইমাম ও খতীব, কান্দিরপাড় কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ ও কেন্দ্রিয় ঈদগাহ, কুমিল্লা।
