নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সড়কে
দাঁড়িয়ে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক কুমিল্লার কাগজে
প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন জেলা প্রশাসন। নিউজ প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে
তদন্ত শেষে সড়কে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায়কারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে
কুমিল্লা জেলা পরিষদ ও জেলা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা
হাসান।
২৫ ফেব্রুয়ারি বুধবার তিনি এ নির্দেশ দেন।
এর আগে গত ২৩
ফেব্রুয়ারি সোমবার দৈনিক কুমিল্লা কাগজে “এখতিয়ারবহির্ভূত সড়ক ইজারা দিয়েছে
কুমিল্লা জেলা পরিষদ, জোরপূর্বক আদায় হচ্ছে টোল” শিরোনামে প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা বাস
টার্মিনাল ইজারার নামে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়ক ইজারা
দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ওই সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে
জোরপূর্বক ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে, ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভাড়া
বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়
বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
প্রতিবেদন প্রকাশের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত ভিডিও
প্রতিবেদন দৈনিক কুমিল্লা কাগজের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারের পর
বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। এরপর দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের
নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশ পেয়ে জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী
কর্মকর্তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেন।
বুধবার
বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন,
শাসনগাছা এলাকায় সড়কে দাঁড়িয়ে চাঁদা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। জেলা পরিষদ
কেবল শাসনগাছা বাস টার্মিনাল ইজারা দিয়েছে, কোনো সড়ক ইজারা দেয়নি। তাই
নির্ধারিত টার্মিনাল এলাকার বাহিরে বা সড়কে দাঁড়িয়ে গণপরিবহন থেকে চাঁদা
আদায়কারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা পরিষদ ও পুলিশ
সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর কুমিল্লা জেলা
পরিষদের অধীনে শাসনগাছা বাস টার্মিনাল দরপত্রের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়। গত
বছরের ৩০ জুন থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৩৫ লাখ ৬৪
হাজার ৮৬৪ টাকায় মৃত রেশত আলীর ছেলে মো. কামাল উদ্দিনকে টার্মিনালটি ইজারা
দেওয়া হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, টার্মিনালের ভেতরে বাস ও মিনিবাস থেকে প্রতি
ট্রিপে ২০ থেকে ৩০ টাকা এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ১৫ টাকা আদায়ের
শর্ত রয়েছে।
তবে জানা গেছে, চুক্তিপত্রে উল্লেখিত চৌহদ্দীর সড়কগুলো জেলা
পরিষদের নয়, বরং সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীন। শুধুমাত্র বাস টার্মিনালের জমি
জেলা পরিষদের মালিকানাধীন। এই চৌহদ্দীর অজুহাতে ইজারাদার সড়ক ও জনপথ
বিভাগের সড়কে ছাপা রশিদের মাধ্যমে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছে। এমনকি
চৌহদ্দীর বাইরেও শাসনগাছা রেলগেট এলাকায় ৪–৫ জন ব্যক্তি অটোরিকশা থামিয়ে ১০
টাকা করে আদায় করছে। এতে যানজটের পাশাপাশি যাত্রীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত
খরচ।
